কেউ যদি জাতি হিসেবে আমাদের জিজ্ঞেস করে , তোমাদের কমন কালচার কি?
উত্তর হবে, ঘৃণা করা। আমরা খুব উন্নত ভাবে মানুষ কে ঘৃণা করতে পারি, তা আর অন্য জাতি পারে না।
ঘৃণাজীবিতে ভরে উঠেছে দেশ। এই রোগে আক্রান্ত পূরা জাতি। আমরা পড়শী কে ঘৃণা করি। ভিন্নমতের মানুষ কে ঘৃণা করি। অন্যধর্মের মানুষ কে ঘৃণা করি। কর্মস্থলে সহকর্মীকে ঘৃণা করি। আস্তিক ঘৃণা করে নাস্তিক কে। আওয়ামীলীগ ঘৃণা করে বিএনপি জামাত কে। মুসলমানরা ঘৃণা করে হিন্দু, বা অন্য সংখ্যালঘুদের। অন্য ধর্মাবলম্বীরা ঘৃণা করে মুসলমানদের।
নতুন করে ঘৃণাজীবিরা ধোয়া তোলে, চেতনার নাম দিয়ে, ঘৃণাকে মূখ্য করে গড়ে উঠে সংস্কৃতি, আন্দোলন, উত্তাল হয় শাহবাগ -শাপলা চত্বর।
আমরা খুব সহজেই মানুষের মনে আঘাত দিতে পারি, খুব সহজের ভাংতে পারি মানুষের ঘর, ইবাদতখানা, ঈশ্বরের আরাধনার স্থান। এবং সেটা করতে পারি নির্বিকার ভাবেই। মানুষের মনের গহীনের কোমল অংশে খুব সহজেই করতে পারি পদাঘাত। এজন্য আমরা বাঙ্গালী।মানুষের বিশ্বাস ভাংতে আমাদের জুড়ী নেই।
দেশের ঘৃণাজীবিদের মহান পুরুষ বা নারীরা ভিন্নমতের প্রতিফলন চায় না। ভিন্নমতের মানূষ কে মেরে ফেলতে বুদ্ধি(ঘৃণা)জীবিরা তো এক কাঠী সরেষ। থামিয়ে দিয়েছে, এক বিশাল জনপদের নির্বাচনে অংশগ্রহন, নির্লজ্জের মতন তা আবার বলছে। নিজের মত জয়ী হয়েছে, স্বার্থপর শুয়োরের মতন কান নাড়িয়ে করছে তার বড়াই। চেতনার নাম করে করছে ধাপ্পাবাজি।
আরেকদল ঘৃণাজীবি, পারছে না কাদতে পারছে না সইতে, তাহলে কি করতে হবে, রাজনৈতিক ঘৃণীত তো কে ছুতে পারছি না। মনের জিঘাংসা চরিতার্থ করতে এবার লক্ষ্য কর ধর্মিয় ঘৃণিতদের। সংখ্যালঘু বলে কথা, হাযার চড়ে রাও করতে পারবে না। পুড়িয়ে ফেল গ্রামের পর গ্রাম আর জনপদের পর জনপদ।
কোন জাতি ঘৃণাজীবি হয়ে বেশিদিন টিকতে পারে না, টিকলেও টিকে থাকে খুবই বাজে ভাবে। যেমন আছে আফ্রিকার ঘৃণাজীবিরা, যারা অন্য গোত্রের মানুষদের ঘৃণা করে। যা শিখিয়েছে তাদের পূর্বপুরুষেরা। আমাদেরও সেদিকেই যাওয়া হচ্ছে। পৃথিবীর ইতিহাসে আমাদের কথা লিখা থাকবে ঘৃণাজীবি হয়ে। এটাই আমাদের কমন কালচার।
আমি জানি যারা ঘরহারা হয়েছেন, তারা হয়তো ঘর ফিরে পাবে। কিন্তু পাবে না তার আলয়। আমরা দুঃখিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

