
হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে
ময়ূরে মত নাচেরে..............
এত আনন্দ কিসের দোস্ত? দেখছি বেশ কয়েকদিন যাবত মৌজে আছিস হুম ব্যাপারখানা কি শুনি?
-আরে এমনি তেমন কিছু নয় । তবে শুধু হাওয়ায় উড়তে ইচ্ছে করছে
হাওয়ায় তো উড়বিই-তবে ডানা কোথায় পেলি হাহাহাহ
-ডানা দুটো লাগিয়েছি-বাম পিঞ্জরে বুকে
আহা কাটে আমার এখন-উড়তে পেরে সুখে।
আরে বাহ্ কবি হয়ে যাচ্ছিস শালা। তয় আসল কথা ক-না। এত আনন্দ কিসের। বেটা আনন্দের খবর ভাগাভাগি করতে হয়। আর দু:খের খবর বুকে চাপিয়ে রাখতে হয় জানিস না।
-দুস্ত আমার চাকরী হয়েছে, মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার-নামকরা প্রতিষ্ঠান
আরে সেতো জানি রে বাবা। আর কি খবর ? বিয়ে করছিস নাকি?
-বিয়ে নয়-রে বিয়ে নয়-প্রেমে ভাসছি রে প্রেমে ভাসছি। আমার পাখি -যে আমাকে উচ্ছ্বাসের ডানা দিয়েছে উড়তে শিখিয়েছে।
আমার প্রেম পাখি- বড্ড ভালবাসি
ইচ্ছে করে সারাক্ষণ-দেখতে তাহার হাসি!
বাব্বা প্রেমে পড়ে মানুষ কবি হয়ে যায় শুনতাম এখনি চোখের সামনেই দেখছি আস্ত একটা কবি।
-কবির কি দেখেছিস বেটা-ছড়া লিখবো দেখিস
কেমন করে প্রেম করতে হয়-সেটা না হয় শিখিস।
হইছে হইছে । এবার বল সে-কে? কি করে। আর বিয়ে করবি কবে। তোর চাকুরী হয়েছে বেটা-প্রেম বিয়েতে গড়িয়ে নেয়ার সময় এখনি,
-আমার পাখিও তো ইঞ্জিনিয়ার। সেও ভাল প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে। আর বিয়ে তো করতে চাই কিন্তু আম্মা আব্বা তো কিছুই জানে না। কি করে যে বাসায় বলবো বুঝতেছি না।
আরে মন খারাপ করিস না। এই যে আবার হাসি বন্ধ হয়ে গেলো । ধ্যত্তেরি বাবা। প্রেম করেছিস তুই-তোরই তো সমাধান করতে হবে তাই -না?
-কিন্তু আম্মা অসুস্থ। এখনি জানালে যদি খারাপ কিছু হয় তবে কি জবাব দিবো আমার বিবেককে। কিন্তু আমি ওকেও ছাড়াতে পারব না।
আচ্ছা, মেয়ের পরিবার কি জানে?
-হ্যাঁ
এক কাজ কর তোরা না হয় বিয়ে করে নে, মেয়ের পরিবারের সম্মতিতে । ধীরে ধীরে খবরটা তোমার মায়ের কাছে পৌছাবি। কোন সমস্যা হবে বলে তো মনে করছি না।
-আচ্ছা দেখি দোস্ত কি করা যায়। আজ আসি রে-ও অপেক্ষা করছে আমার জন্য।
ওকে - আল্লাহ হাফেজ-ফি আমানিল্লাহ।
----
তুমি আমার মেয়েকে কতদিন ধরে চিনো।
-এক বছর।
তোমার ফ্যামিলি জানে তোমাদের সম্পর্কের কথা বা শুনেছে ? তুমি বলেছো তাদেরকে?
-না, এখনো বলিনি। আম্মা অসুস্থ এখন। বললে তো আম্মা স্ট্রোক করতে পারে আন্টি।
শুনো বাবা, আমার একমাত্র মেয়ে সে তোমার কথা অনেকদিন যাবত বলছে। মেয়ে এখন বড় হয়েছে তাই তার সিদ্ধান্তে অমত করিনি কখনো। তোমাদের পরিবার যদি রাজী না থাকে তবে আমি আমার মেয়েকে তোমার হাতে তুলে দেবো না। আগে তোমার ফ্যামিলি থেকে মুরুব্বি কেউ আসুক। তারপর দুই পরিবারের কথাবার্তায় সম্পর্ক আগানো যাবে। আমার এই সিন্ধান্ত থেকে আমি এক চুলও নড়ব না। এখন তোমার ইচ্ছে তুমি কি করবে ভেবে নাও। আজ আসি। আল্লাহ হাফেজ।
---------
এই শুনো, কি করবো বল, বাসায় তো বলতে পারছি না এখন । তুমি তো জানো আম্মা অসুস্থ। বলতে যদি আম্মা স্ট্রোক করেন তবে সারাজীবন নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না।
-শুনো রাতুল, আমার মা তোমাকে তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। অতএব এখানে আমার করার কিছুই নেই। মা আমাদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছেন । কিন্তু বিয়েতে তার মত ছাড়া আমি আগাতে পারব না। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করো। তুমি তোমার পরিবারের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে আগাতে পারো।
আরে তুমি এমন করে বলছো কেনো। শুনো, তোমার আর আমার জীবন। এতে অন্যদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজনই বা কি। তোমাকে আমি ভালবাসি। তুমিও বাসো। আমরা সারাজীবন একসাথে থাকবো। পরিবারের অন্য কেউ থাকবে না। সুতরাং চলো আমরা কাজী অফিসে বিয়ে করে ফেলি।
-না, আমি পারব না। সরি-আমাকে মাফ করো।
ধুরু বাবা মন দিয়ে শুনো এখন যদি আমরা না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলি কিছুদিন পর একটু একটু করে জানিয়ে তারপর ব্যাপাটার সুরাহা করে ফেলব। তখন দেখবে কেউ অমত করবে না । তাছাড়া এখন যদি বিয়ে না করো তবে আমার চাকুরী হয়েছে বিধায় আমার পরিবার অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দিবে। তারা পাত্রী খুঁজছেন হন্য হয়ে। তখন তুমি কি করবে বলো। বিয়ে হয়ে গেলে একটা কিচু বলে টলে অথবা বড় ভাই ভাবীকে বলে উদ্ধার পেতে পারি । তাছাড়া আমার আম্মা অসুস্থ । এখন তুমিই বলো আমি কি করবো।
-আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। ভেবে তোমাকে জানাবো। আমাকে একদিন সময় দাও।
আচ্ছা তোমাকে একদিন সময় দিলাম। ভেবে চিন্তে আমাকে জানাবে । এবং শুক্রবারে আমরা কাজী অফিস যাবো অকে।
--------
উফ হাফ ছেড়ে বাঁচা গেলো। অবশেষে তুমি আমার হলে। এই যে তোমায় ছুঁয়ে বললাম আমি তোমাকে কখনো অমর্যাদা করবো না তোমাকে কষ্ট দিবো না। দুজন মিলেমিলে আমাদের জীবন সুন্দর করে সাজাবো
-কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে খুব। এখন আমরা কি করব বল ? কোথায় যাবো?
আরে তোমার মা বাবা তো অনেক ভাল মানুষ। তুমি একমাত্র মেয়ে। তাদের সামনে দাঁড়ালে নিশ্চয়ই মেনে নেবেন। চলো সরাসরি তোমার বাসায়ই উঠি
-চলো তবে। তবে তুমি গিয়ে মা-কে কনভিন্স করবে। আমি কিছু করতে পারবো না এই বলে দিলুম।
আচ্ছা বাপু-এখন চলো-হাত ধর আমার । তুমি শুধু আমার আমি তোমার।
-ইশ ভালবাসা না যেনো আবার দখিন দুয়ার দিয়ে পালায়
ধুর এমন ভেবো না কখনো। চলো উঠা যাক
-হুম
-------------
আরে করছো কি করছো কি ছাড়ো বললাম। কি হয়েছে বলো দেখি। বিথী কোথায়? আর তুমি আমাকে এভাবে জড়িয়ে ধরছো আবার পায়ে ধরে সালাম করছ। হয়েছেটা কি? বুঝিয়ে বলতো
-এই বিথী এসো ভিতরে। আম্মা আমরা বিয়ে করে ফেলেছি কাজী অফিসে গিয়ে
বলো কি ! না এ হবার নয়। আমি কখনো এ বিয়ে মেনে নিতে পারব না। তুমি তোমার মা বাবাকে না জানিয়ে আমাদের না জানিয়ে বড় ভুল করে ফেলেছো। আমি কখনো এ মেনে নিতে পারি না।
-মা, আমরা তোমাদের অসম্মান কখনো করব না বা তোমাদের অমতে বিয়ে করেছি এ আমাদের বড় অপরাধ। প্লিজ মা ক্ষমা করে দাও। আমরা দুইজন ভাল থাকলে তোমরাই তো খুশি থাকবে । তাই না? মাফ করে দাও না প্লিজ।
------
এই তুমি এক জায়গায় আমি একজায়গায় জব করি। প্রায় এক বছর হয়ে গেলো এখনো তুমি তোমাদের ফ্যামিলিতে আমার কথা জানাও নি?
-না এখনো জানাই নি। শীঘ্রই জানাবো।
কবে সেটা। আর কত ধামাচাপা চলবে শুনি।
-আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা কর প্লিজ। ধৈর্য্য ধর। এই তো আর কয়েকটি দিন। তারপরেই অনুষ্ঠান করে তোমাকে নিয়ে যাব আমার বাড়ি। কি খুশি এখন
হুম। খুশি তো।
----------
হ্যালো, এই শুনো আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্লট দিবে সেখানে তোমাকে ৬০% আর আর ৪০% মালিকানায় প্লট কিনতে যাচ্ছি তুমি প্লিজ তাড়াতাড়ি সই করে দিয়ো। আমি পিয়ন দিয়ে পাঠালাম কাগজপত্র।
-আচ্ছা।
--------
হ্যালো-তুমি না বললে একটা কাগজে সই করবো কিন্তু পাঠিয়েছো ব্লাঙ্ক স্ট্যাম্প নয়টা। এত সাইন দিবো কেনো বলোতো।
-তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো না। আজই লাস্ট ডেইট তাড়াতাড়ি সই করে দাও
আচ্ছা তোমার উপর আমার ভালবাসার বিশ্বাসে সই করে দিলাম।
----------
একি! উকিল নোটিশ কিসের! মা মা দেখো দেখি বাসায় পিয়ন দিয়ে গেলো উকিল নোটিশ। আমি বুঝতে পারছি না এ কিসের নোটিশ?
-কই দেখি। আরে এ দেখি ডিভোর্স লেটার। রাতুল তোকে ডিভোর্স দিয়েছে।
কিন্তু কেনো মা, সে -না কাল এসেছিল বাসায় । কত আনন্দ করেছি আমরা। কত ছবিও তুললাম। হঠাৎ উকিল নোটিশ। মা,ঠিকানা দেখো ভুল নাকি?
-নারে মা ভুল না। রাতুল তোকে ডিভোর্স দিয়েছে। (কান্নায় মা মেয়ে ভেঙ্গে পড়ার গল্প এখানেই)
-------
হ্যালো, তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে রাতুল। ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছো কেনো। আমার জন্মদিনে এ কিসের উপহার দিচ্ছ? কি হইছে তোমার। তুমি বাসায় আসো তো দেখি। মন খারাপ তোমার? তোমার আম্মা কেমন আছেন। খুব ডিফ্রেশনে আছো বুঝি। কি হইছে একবার বল প্লিজ।
-না বিথী আমাকে ক্ষমা করো । আমি সত্যই তোমাকে ডিভোর্স দিয়েছি। আমার শারীরিক সমস্যা আছে বিধায় আমি তোমাকে ঠকাতে চাইনি তাই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলো। আমার কাছে এ ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।
আরে আমাদের বিয়ের বয়স প্রায় দু বছর হতে চলল। কই কখনো মনে হয়নি তোমার শারীরিক সমস্যা। আর সমস্যা হলে চলো ডাক্তার দেখাই। তাছাড়া তোমার শারীরিক সমস্যা তাতে কি আমি তোমাকে ছাড়তে রাজী নই। আমি তোমাকে ভালবাসি রাতুল খুব ভালবাসি। তুমি ছাড়া আমার কস্ট কে বুঝে শুনি। এমন করে বলো না । বাসায় এসো প্লিজ।
-না আমি আর আসতে পারব না । ফোন রাখছি- বাই।
----------
আপা এখন কি করব। কখনো তো কোনো সমস্যা ছিল না। কেনো উনি আমার সাথে এমন করলেন। শারীরিক সমস্যা থাকলে আমি মেনে না নিতাম বা আমি তো পারতাম তাকে ডিভোর্স করতে। কিন্তু আমি তো তাকে ভালবেসে বিয়ে করেছি। ছাড়ার জন্য করিনি। আপনিই বলুন এখন কি করার আছে আমার। এই যে আমার আম্মা আব্বা সাথে নিয়ে আসছি। আপনাদের প্রতিষ্ঠানের এমপ্লয়ি উনি। আমি কি এর বিচার পাবো?
-দেখুন, আপনাদের ঘটনা শুনে খুব কষ্ট লাগছে। আমারও হৃদয়টা কেঁপে কেঁপে উঠেছে। ভালবাসাতেই দেখি বিশ্বাস নেই। এমন ভালবাসা তবে কেনো। মানুষ স্বার্থপর হয় কিন্তু এতটা স্বার্থপর কি করে হয় বুঝতে পারছি না। তবে শুনুন, উনি আমাদের প্রতিষ্ঠানে জব করেন ঠিক আছে কিন্তু সমস্যাটা একটা পারিবারিক ইস্যু নট অত্র প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের সাথে জড়িত। আপনি এখন যদি আমার কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করেন, তবে সেটা ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক ইস্যু হিসাবে কেইসটি অবগতির পর নথিভুক্ত হয়ে যাবে। এতে আপনার বা তার কিছুই হবে না। তার চেয়ে বরং আমি আপনাদেরকে একটা বুদ্ধি দেই । আপনার লিগ্যালী ব্যাপারটা দেখুন মানে, আইনের সাহায্য নিন। উকিলের সাহায্যে ব্যাপারটিতে আগান। আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে কোর্টের উকিল নোটিশ কিংবা গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হলে তবেই আমাদের প্রতিষ্ঠান অভিযোগটি গ্রহণ করবে এবং এ বিষয়ে শৃংখলামূলক কেইসে যুক্ত হবে বিষয়টি । আর আমরা সেভাবেই আগাবো। আপাতত পরামর্শ ছাড়া আমাদের করার কিছু নেই। সমবেদনা ছাড়া আমারও করার কিছু নেই। তবে আল্লাহ ভরসা। আপনি ন্যায় বিচার পাবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহকে ডাকেন, নামায পড়েন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ সহায় হবেন।
আচ্ছা ম্যাম আজ তাহলে আমরা আসি। পরবর্তীতে আপনার সাথে যোগাযোগ করব।
-ওকে বাই-ভাল থাকুন (প্রস্থান)
------------ ঘটনা চলমান । এর শেষে যে কি হবে কে জানে। হয়তো কেইস হবে মামলা হবে। কিংবা সমঝোতা হবে। কিন্তু আগের মতো ভালবাসা তো আর থাকবে না-জীবন বড্ড কঠিন। হয়তো অভিযুক্ত অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে মামলা খারিজ করাবে এবং কেইস জিতে যাবে। কিংবা গ্রেফতার হবে। অফিস থেকে সাময়িক বরখাস্ত হবে। মামলা খারিজ না হওয়া পর্যন্ত সে আর অফিসেই পা মাড়াতে পারবে না। দুই পক্ষের এক পক্ষও শান্তি পাবে না । জীবন এমনই।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৫:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



