somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিরুনী অভিযান ছাত্রলীগের জন্য কি প্রযোজ্য নয়?

১১ ই মে, ২০১০ রাত ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস, খুন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, লুটতরাজ, মেয়েদের উত্যক্ত করাসহ নানা অপকর্মের জন্য সরকারের বদনাম হচ্ছে এটা সরকারী মহল থেকেও বলা হচ্ছে। তারপরও কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কথিত চিরুনী অভিযান শুধু ছাত্র শিবিরের জন্য প্রযোজ্য আর ছাত্রলীগের জন্য নয়- তা কারো বোধগম্য নয়। অভিজ্ঞ মহলের মতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও বিব্রত। তার পরও এই সোনার ছেলেদের (!) বিরুদ্ধে কঠোর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করা বেশ রহস্যেঘেরা। যেখানে গোটা দেশ তাদের হাতে জিম্মী এমনকি আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীও রেহাই পাচ্ছে না। সেখানে চুড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত না নেয়ার কারণ এটাই হতে পারে যে রিজার্ভ লাঠিয়াল বাহিনীকে হাতছাড়া করতে রাজী নয় ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সামনে হয়তো লাঠিয়াল বাহিনীর প্রয়োজন পড়তে পারে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দু'মাস আগে শত শত ছাত্র শিবিরের নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দলবেঁধে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পুলিশের আইজি, র্যা বের ডিজি সবাইকে রাজশাহীতে নিয়ে গিয়ে অনেকটা মিনি কেবিনেট বসিয়ে ছাত্র শিবির কর্মীদের গ্রেফতার করতে চিরুনী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়। চাঁপাই নবাবগঞ্জে একজন শিবির নেতাকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলী করে হত্যার মাধ্যমে তারা তাদের জিঘাংসা চরিতার্থ করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেক শিবির কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সারা দেশে শিবির কর্মীদের মেস এবং বাসা বাড়ীতে হামলা চালানো হয়, অভিযান চালানো হয়। শত শত ছাত্রকে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে তাদের শিক্ষা জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া হয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই চিরুনী অভিযানের নির্দেশ ছাত্রলীগের ক্ষেত্রে নয় কেন সে প্রশ্নের জবাব নেই। ছাত্রলীগের সন্ত্রাস থেকে খোদ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী, যুবলীগের নেতা-কর্মী এমনকি আইন-শৃংখলায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীও রেহাই পাচ্ছে না। সন্ত্রাস, খুন-খারাবী, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ধর্ষণ, ছাত্রী নির্যাতন ও উত্যক্ত করাসহ হেন অপকর্ম নেই যা বর্তমানে ছাত্রলীগ করছে না। তাদের এহেন কার্যক্রমে সরকারের হাইকমান্ড পর্যন্ত নাকি বিব্রত- এমন খবর পত্র পত্রিকাতেও এসেছে।
ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ সকল অপকর্মের জন্য সরকারের হাইকমান্ড থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুন্যালে মামলা ও গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে পত্রিকায় খবর এসেছে। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ছাত্রলীগের কোন নেতাকে নাকি সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না। তার কোন অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের কোন নেতা যেন না থাকে সে ব্যাপারেও নাকি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অন্য মন্ত্রীরাও নাকি এভাবেই ছাত্রলীগকে বয়কট করে চলবেন। এমন পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে ছাত্রলীগের বেপরোয়া অবস্থার জন্য সরকার আসলেই বিব্রত। কিন্তু প্রশ্ন হলো তাদেরকে বেপরোয়া বানালো কে? এরজন্য কি আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড দায়ী নয়? তাদেরকে কি লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করেনি আওয়ামী লীগ? এসব কারণেই হয়তো শুধু দূর থেকে ঢিল ছুঁড়ে ছাত্র লীগকে থামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বাস্তবে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহারের প্রতিদান স্বরূপ। অভিজ্ঞ মহলের মতে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও ইভটিজিং-এর সাথে জড়িত ছাত্রলীগ কর্মীদের গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তি দিতে হবে। কোন নেতা থানায় তদ্বীর করে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনবে না। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা হতে হবে সত্যিকার অর্থেই। তবে কারো কারো জন্য আইন ভিন্নতর হতে পারবে না। তার পরেও প্রধানমন্ত্রী এতটাই যখন বিব্রত বলে প্রচার করা হচ্ছে তবে কেন ছাত্রলীগের কমিটি তিনি ভেঙ্গে দিচ্ছেন না?
তিনি ইচ্ছা করলে ছাত্রলীগকে দমানোর জন্য ৬ মাস বা এক বছরের জন্য তাদের সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করতে পারেন। এরূপ কঠোর পদক্ষেপ নিলে বোঝা যেত যে ছাত্রলীগের অপকর্ম আসলেই দমন করতে চান আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। কিন্তু একদিকে বিব্রতবোধ অন্যদিকে সকল অপকর্ম অবাধে চালিয়ে যাওয়ার লাইসেন্স প্রদান এই দ্বৈত নীতি চোরকে চুরি করতে বলা আর গৃহস্থকে সজাগ থাকতে বলার পরিণতি ভাল হয় না। এভাবে দেশের শিক্ষাঙ্গনকে অস্থির করে তোলা এবং সেশন জটের কবলে ফেলে শিক্ষা ব্যবস্থাকেই অচল করে দেয়ার সুগভীর চক্রান্ত কার স্বার্থে? এ প্রশ্নেরও জবাব প্রয়োজন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০১০ রাত ১১:০০
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×