াণের টিন আত্মসাতের দায়ে আটক ‘ তিনি নিজেই পুস্তিকা ছাপিয়ে তা প্রচার করেছেন।
সরকারি ত্রাণের সামগ্রী আত্মসাতের ক্ষেত্রে এতদিন বিএনপি নেতাদের নাম শোনা গেলেও তাতে পিছিয়ে ছিলেন না তাদের জোট সহযোগী জামায়াত ইসলামীও। এবার ত্রাণের টিন পাওয়া গেছে এক জামায়াত নেতার ক্লিনিকে। তিনি হলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদীয় উপনেতা পাবনা-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আবদুস সুবহান।
আবদুস সুবহান ক্ষমতার ৫ বছরে পুরো পাবনা নিয়ন্ত্রণ করতেন। পাবনার জন্য সব ধরনের বরাদ্দ উন্নয়নের জন্য ব্যবহার না করে তিনি জামায়াত কর্মীদের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য জামায়াত নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যয় করতেন। একই সঙ্গে নিজের পকেট ভারি করেছেন। সর্বশেষ বুধবার রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার মালিকানাধীন আল আমান ক্লিনিক থেকে ত্রাণের টিন উদ্ধার করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর ইসলামী জঙ্গি কানেকশন ব্যাপক প্রচারিত হলেও তারা সব সময় নিরাপদ অবস্খানে ছিলেন। জোট সরকারের সময় এক জামায়াতি মন্ত্রী পাকিস্তানে সরকারি সফরে গিয়ে সেই সফর শেষ হওয়ার পর ব্যক্তিগত কাজে দু’দিন অবস্খান করেন পাকিস্তানে। জানা যায়, সে সময় তিনি বৈঠক করেন পাকিস্তানে তালেবানপন্থি জঙ্গিদের সঙ্গে। তার এই তৎপরতা প্রকাশ্য না হলেও জামায়াতের নেতা মাওলানা সুবহান তালেবানের সঙ্গে তার প্রকাশ্য সম্পর্কের কথা ঘোষণা করেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি যে পুস্তিকা প্রকাশ করেন তাতে তার নানা কৃতিত্বের সচিত্র বিবরণ দেয়া হয়। এতে এক ছবিতে দেখা যায় পাকিস্তানের পেশোয়ারে তালেবান নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে আরও জামায়াতি নেতাকেও চিত্রে দেখা যায়। সূত্রগুলো জানায়, মাওলানা সুবহান তার এ তালেবান কানেকশনের কথা কখনও গোপন করেননি, বরং জামায়াতকে সেই ধারায় পরিচালনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল খুবই সক্রিয়।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জামায়াত নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আবদুস সুবহান তার নিজ নামে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেছেন। পাবনার জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে জেলার গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা জামায়াতপন্থি হওয়াতে তার বিরুদ্ধে কোন খোঁজ-খবরও পাওয়া সম্ভব ছিল না। আবদুস সুবহান যেসব দুর্নীতি করেছেন তাতে পূর্ণ সহায়তা করেছেন ওই কর্মকর্তারা। জানা যায়, বর্তমান জেলা প্রশাসকও জামায়াতপন্থি।
উন্নয়নের জন্য সরকারিভাবে যেসব বরাদ্দ পাবনায় যেত ওই সব বরাদ্দ উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়নি। বরাদ্দ করা হয়েছে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের আর পকেট ভারি করেছেন নিজের। এজন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করতেন। এভাবে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জামায়াত কর্মীদের।
জামায়াত পরিচালিত এনজিও মুসলিম এইড ও ওসাকার নামের ব্রিটিশ দাতব্য সংস্খা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং সরকারের স্যানিটেশন প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এসব কাজে তাকে সহায়তা করতেন এনজিও ব্যুরোর কর্মকর্তারা। জানা যায়, আলী আহসান মুজাহিদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী থাকায় ওই সময় এনজিও ব্যুরোর কর্মকর্তারা তার কথার বাইরে কোন কাজ করতে পারতেন না।
কাজের বিনিময়ে খাদ্য ও কাজের বিনিময়ে টাকা কর্মসূচির বরাদ্দ রাস্তাঘাট ও স্কুল কলেজের উন্নয়নে ব্যয় না করে লুটপাট করার জন্য মসজিদ ও গোরস্তানের নামে বরাদ্দ দিতেন। কোন প্রতিষ্ঠানের নামে কী পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার সঠিক তথ্য অনেকেরই থাকত অজানা।
কাজের বিনিময় খাদ্য ও কাজের বিনিময়ে টাকা কর্মসূচির বরাদ্দ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইসলামিক কলেজ, ইমাম গাজ্জালি ফাউন্ডেশন, আমান ফাউন্ডেশন, জাগির হোসেন একাডেমী। এসব প্রতিষ্ঠানে শুধু জামায়াত কর্মীদেরই চাকরি দেয়া হয়েছে। উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে পাবনাবাসীকে।
আবদুস সুবহানের মালিকানাধীন আল আমান ক্লিনিক সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। আইনগতভাবে অবৈধ এ ক্লিনিকটি আমান ফাউন্ডেশনের নামে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে একটি রেজিস্ট্রেশন নিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে।
সৎ লোকের দল’ জামায়াতে ইসলামীর নেতা এবং সাবেক এমপি মাওলানা আবদুস সুবহানের তালেবান কানেকশন ছিল প্রকাশ্য।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন
মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন
সিনেমা-গান-খেলাধুলা
আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন
প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ওরা ভয়ংকর

বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!
শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।