যে বয়সে কিশোরী মেয়েটির পায়ে আলতা মেখে নির্জন দুপুরে মিষ্টি রোদে ছাদে হাটবার কথা,যে বয়সে স্কুল পালিয়ে বান্ধবীদের সাথে সিনেমা দেখতে যাওয়ার কথা,যে বয়সে সামজিক বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করে একটি প্রেম পত্র পাওয়ার সুতীব্র আকাঙ্ক্ষা হৃদয়ে জাগ্রত হয়,যে বয়সে কচিকাঁচার আসরের ছোট্ট ছড়া রচিয়তা থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ কবি হওয়ার ক্রাইসিলাইসিস পিরিয়ডের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় ঠিক সেই বয়েসেই কিশোরী মেয়েটিকে বিয়ে নামক সামাজিক দায়বদ্ধতার শিকলে আবদ্ধ হতে হয়।কিশোরী মেয়েটির কবি হওয়ার স্বপ্ন আর পুরন হয়না ,কিশোরী মেয়েটি ইন্টারমিডিয়েটের গণ্ডি পেরোতে না পেরোতেই প্রথম সন্তানের জননী হয়, মেয়েটির চারুকলায় ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন শশুর বাড়ীর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হওয়ার কারনে ধুলিৎসাত হয়ে যায়।এইভাবে অজস্র সপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে মেয়েটি ধীরে ধীরে যুবতী হয়ে উঠে আর মাতৃত্ব এবং সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই সুখের অন্বেষণ করতে থাকে।কিন্তু যে হৃদয় সৃজনশীলতা আর সৃষ্টিশীলতা কে ধারন করে সে হৃদয় কক্ষনোই সুকুমারবৃত্তির চর্চা থেকে নিজেকে নিবৃত করেনা তাই সেই যুবতী মা সংসারের যাবতীয় কাজের পাশাপাশি রবীন্দ্ররচনাবলী পড়া থেকে শুরু করে নিজেই নিজেই একদিন রং তুলি দিয়ে ছবি আকা শুরু করে ছোট্ট শিশু জয় একদিন অবাক হয়ে দেখে তার মা রাধা কৃষ্ণের সুন্দর একটি ছবি একে ফেলেছে কিন্তু যুবতী মায়ের এই সৃজনশীলতাকে জয়ের বাবা মন থেকে সাধুবাদ জানায়না কক্ষনোই কারন সুন্দরী স্ত্রীর এতো গুন থাকা বাঞ্ছনীয় নয় যে এই পুরুষশাসিত সমাজে !!!!জয়ের বাবা কেতাদুরুস্ত ব্যাবসায়ী প্রায়শই বাসায় বিদেশী অতিথিদের নিমন্ত্রন জানানো হয় সেইখানে জয়ের মার কন্টিনেন্টাল রান্না পরিবেশন করা হয় রান্না খেয়ে মারুবিনি কোম্পানীর কর্ণধার জাপানী ব্যাবসায়ীর স্ত্রী কেঁদে জয়ের মাকে জড়িয়ে ধরে বোন ডাকে এতে জয়ের বাবা খুব খুশি হয় মনে মনে এই কারনে যে গুনবতীর স্ত্রীর গুনের সদব্যাবহার করা হচ্ছে বিজনেস আউটপুট টা ভালোই আসবে। দিন যায় জয়ের মার বিষণ্ণতা জয়ের মাঝেও সঞ্চারিত হয় তাই দুপুরে সংসারের সব কাজকর্ম সম্পন্ন করার পর জয়ের মা যখন ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে মলিন মুখে জয়কে আর জয়ের ভাই বাবুকে নিজের হাতে ভাত মাখিয়ে খাইয়ে দেয় আর রাজ্যের ক্লান্তি নিয়ে দুপুরে রুশদেশের উপকথা থেকে অথবা ঠাকুরমার ঝুলি থেকে গল্প পড়ে শোনায় জয়ের ভালো লাগেনা কিন্তু বাবুকে ঘুম পারাতে ওর মার কোন সমস্যা হয়না কিন্তু জয় বড় বড় চোখ করে মার মলিন মুখ হা করে দেখে মা হেসে বলে কিরে ঘুম আসেনা!!! জয় বলে না আম্মু !!! এইভাবে অনেক বিষণ্ণ দুপুর পার হয়ে যায় জয় আর বাবু একদিন স্কুলে ভর্তি হয় জয় বাবুর মার ব্যাস্ততা বেড়ে যায় কারন দুই ছেলেকে স্কুলে আনা নেওয়া থেকে শুরু করে গোসল পর্যন্ত মা করিয়ে দেয়। জয় আর বাবু ধীরে ধীরে কিশোর হয়ে উঠে ওদের মা কিছুটা নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পায় যাক ছেলেগুলো বড় হচ্ছে নিজেরাই স্কুল থেকে আসতে পারে তাই সংসারের ব্যস্ততার পাশাপাশি সৃষ্টিশীল কিছু করার অভিপ্রায় উনার মাঝে জেগে উঠে। তাই পারাবারিকসুত্রে জয় বাবুর মা একজন ধনাড্য এবং শিল্পপতির কন্যা সন্তান হওয়ায় একজন নারী উদ্যোগতা হওয়ার বাসনা জয় আর বাবুর বাবাকে জানায় এতে জয় বাবুর বাবা কিছুটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও সম্মতি প্রদান করে। তাই সংসারের যাবতীয় কাজকর্মের পাশাপাশি জয়-বাবুর মা নিজেই রুপাঞ্জনা নামে একটি ফ্যশন হাঊজ দাড়া করিয়ে ফেলে নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে এবং বিচিত্রা ঈদ ফ্যাশনে সেরা শাড়ির পুরুস্কারটি জিতে নেয়। জয়-বাবুর মায়ের এই ব্যাবসায়িক সাফল্যকে ভালভাবে গ্রহণ করেনা লর্ড ক্লাইভের উচ্ছিষ্ট খাওয়া শশুরবাড়ীর লোকজন তাই উন্নাসিক শশুরবাড়ীর লোকজন ফতোয়া জারি করে এবং বাধ্য করে সেই তরুনী উদ্যোগতার তিলে তিলে গড়া প্রতিষ্ঠান কে চিরতরে বন্ধ করে দিতে এই অজুহাতে যে কিশোর ছেলেরা বখে যেতে পারে মায়ের আদরের অভাবে।এইভাবে সপ্নভঙ্গের বেদেনাকে সাথী করে সেই তরুনী মা একদিন প্রৌরত্বে পৌছায় মেজ এবং বড় ছেলের বিয়ে হয়ে যায় দুই ছেলের বিয়েতেই মা নিজের হাতে তার সেই পুড়নো সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে শাড়ী তৈরি করে দেয় এবং একটি সুন্দর যৌথপরিবার গড়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু মা এর সেই স্বপ্নও বেশিদিন স্থায়ী হয় না জয় আর বাবুর বাবাকে একটি মিথ্যে রাজনৈতিক মামলায় বিপর্যস্ত হতে হয় এবং সেই সঙ্কটময়মুহূর্তে জয় আর বাবুর মা একাই পরিবারকে আগলে ধরেন একজন লৌহমানবী হয়ে কিন্তু যে ক্রান্তিকালে সন্তানদের বাবা মার বেশি প্রয়োজন ঠিক সেই মুহূর্তে বাবু জীবনের তাগিদে সিদ্ধান্ত নেয় আলাদা হয়ে যাওয়ার এতে মা নীরব সম্মতি দেয় যদিও ওনার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় তাই কোন এক ছুটিরদিনে বিষণ্ণ দুপুরে মা জয় কে জিজ্ঞেস করে জয় তুমিও কি আমাদের ছেড়ে চলে যাবে?? বিষন্নতার শহরে বেড়ে ওঠা জয় যেন শৈশবের সেই বিষণ্ণ দুপুরে চলে যায় মার মলিন মুখ দেখে বড় বড় চোখ করে অস্রুসজল দৃষ্টিতে কেবল তাকিয়ে থাকে .........
জয়ের মার গল্প ....... সাব্বির আহমেদ জয়
=কিছু তৃপ্তি দেরীতেও আসে না=
জানুয়ারী শেষের পথে। নতুন বাড়ীতে একমাস হয়ে গেল। এখনো গুছানো হয়নি। প্রতিদিনের নিয়ম কানুন অনেকটা পাল্টে গেছে। সকালে অফিসে আসার সময় এত তাড়াহুড়া বাপরে বাপ। রেডি হয়েও কাজ করি। ঘর... ...বাকিটুকু পড়ুন
বুঝে বলুন, হুজুর!
শরীয়া আইন প্রয়োগ করতে শরীয়া আইন জানা বিচার বিভাগ, সামরিক বাহিনী আর প্রশাসন দরকার। বাংলাদেশে শরীয়তী এতো সরকারী মানুষ কি আছে? আর, শরিয়া প্রয়োগ করার জন্যে যদি একটি রাষ্ট্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন
প্রিয় প্রফেসর ইউনুস সাহেবের নিকট খোলা চিঠি ( কাল্পনিক)

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা,
অন্তর্বর্তী সরকার,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
বিষয়: পে কমিশন বাস্তবায়ন ও সামষ্টিক অর্থনীতি পুনর্গঠনে একটি বিকল্প সামাজিক প্রস্তাব।
আসসালামু আলাইকুম। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আপনার শাসন আমল কেবল আইয়ুব খানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রলয়ংকরী সুনামি এবং প্রপাগান্ডা: সাধারণ মানুষ হয়ে উঠেছে উগ্র ইসলামপন্থি শক্তির হাতিয়ার

"আমাকে গুম করেছিল হিটলার, গোরিং বা গোয়েবলস নয়। করেছিল সাধারণ মানুষই। প্রতিবেশী মুদি দোকানদার, দারোয়ান, ডাকপিয়ন, দুধওয়ালারাই এই কাজ করেছিল। তারা মিলিটারির পোশাক পরল, হাতে অস্ত্র নিল - আর... ...বাকিটুকু পড়ুন
জনতার “হ্যাঁ”, দালালের “না”
যতই বলুন “হ্যাঁ”,
চাঁদাবাজরা শুনবে না;
তাদের প্রিয় “না”—
অভ্যাস তো বদলাবে না।
যতই বোঝান “হ্যাঁ”,
বুঝতে তারা চাইবে না;
অনিয়ম আর দুর্নীতি
ছাড়তে তো রাজি না।
বলছে সবাই “হ্যাঁ”,
তবু তাদের “না”;
লুট-সন্ত্রাস না থাকলে তো
তাদের জীবন চলেনা ।
গণভোটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।