শৈশবের স্মৃতিগুলো আজকাল খুব ধুসর আর বিবর্ণ হয়ে আসছে কিন্তু কিছু স্মৃতি এখনো নিউরনে অনুরিত হয় যা আমার জীবনে অনেক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। শৈশবে স্কুল ছুটিকালীন সময়ে সেগুনবাগিচায় মামার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া আমার জন্য ছিল যেন স্বর্গে আরোহণ করার চেয়েও অনেক বেশি কিছু কারন মূল আকর্ষণ ছিলো সেই পুরনো বাড়ীটির নীচে মামা জাহাঙ্গীর খান সাহেবের আলমগীর পিকচারসের অফিস এবং ওইখানে একটি ফিল্মের আর্কাইভ ঘর ছিলো যেখানে বড় বড় রুপালী চাকতির মতো ডিস্কে সেলুলয়েড ফিল্মগুলো রাখা হতো এবং অনেক ভালো ভালো সিনেমা ঐ প্রোডাকশন হাউজ থেকে বেরিয়েছিলো যেমন সীমানা পেরিয়ে, সূর্য কন্যা, এমিলির গোয়েন্দা বাহিনী অজস্র রুচিশীল সিনেমা। মামা কোলে করে নিয়ে যেতেন ঐ আর্কাইভ ঘরে আর বলতেন ভাগ্নে এই সব রুপার চাকতির ভিতরে সিনেমার নায়ক নায়িকারা থাকে আমার শিশুসুলভ মন বিশ্বাস করতে শুরু করলো ওনারা বুঝি নায়ক নায়িকাকে জ্যান্ত ধরে যাদুমন্ত্র বলে ঐ চাকতির মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় তাই একধরনের ভয় কাজ করতো। আর মামা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ছিল একটি বিশাল রুম যা সবসময় তালাবদ্ধ থাকতো ওইখানে শুটিং এর বিভিন্ন কস্টিউম রাখা হতো ভিতরে ঢোকা হয়েছিলো কিনা মনে পড়েনা তবে ঐ শৈশবেই সিনেমা দেখার প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ আমার মাথায় ঢুকে গিয়েছিলো। এরপর যখন বুঝতে শুরু করলাম তখন আমার বাবাই ভিডিও কানেকশন থেকে প্রচুর সিনেমা আমাদের দেখাতেন সাউন্ড অফ মিউজিক থেকে শুরু করে ম্যারি পপিন্স, ব্রিজ অন দ্যা রিভার কাওয়াই, কিং এন্ড আই অজস্র সিনেমা বাবার কল্যানে শৈশব থেকে কিশোর বয়সে দেখা হয়। আস্তে আস্তে যখন আরও বড় হলাম তখন স্কুল পালিয়ে এক টিকিটে দুটো ছবির মতো কিছু শিক্ষামূলক ছবি দেখে অনুতপ্ত হয়েছি কিন্তু সিনেমা দেখার নেশা কাটিয়ে উঠতে পারিনি। তাই কলেজ জীবনে জহির রায়হান ফিল্ম সোসাইটি থেকে শুরু করে যেখানেই সুযোগ পেয়েছি ধ্রুপদী সিনেমা দেখেছি ভিক্টরিও ডি সিকা, লুই বুনুয়েল, ফাসবাইন্ডার,ফেলেনি,আব্বাস কোঁইয়েরস্তমি, আকিরা কুরাসাওয়া প্রমুখ ধ্রুপদী পরিচালকের সৃষ্টিশীলকর্মের সাথে ধীরে ধীরে পরিচয় ঘটে আর আজঅব্ধি আমি সিনেমাতে আসক্ত আমার বিয়ের ফুলশয্যার রাতেও স্ত্রীকে সিনেমা প্যারাডিসো দেখিয়েছিলাম ঐ সিনেমার ইন্টারমিশনের সময় দেখি আমার নবপরিণীতা স্ত্রী ঘুমিয়ে গেছে।আমি যখন আমার কন্যা সন্তানের পিতা হলাম তখন ওর নাম রাখতে গিয়েও সিনেমা দ্বারা প্রভাবিত হলাম ভালো নাম রাখা হোল রোমান পোলনস্কির দ্যা পিয়ানিস্ট এর মূল নায়ক ভাদিস্লাভ স্পিতজম্যানের বোন সোসানা এর নামে যা মুলত একটা ইয়েদিস নাম তাই আমার জীবনে সিনেমার অনেক প্রভাব আছে। মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটাই একটা Montage যেন অজস্র ছোট ছোট দৃশ্যকল্পের একটা সমাহার তবে এই জীবন নামের সিনেমার ডিরেক্টারকে একজন সংশয়বাদী মানুষ হিসেবে অহর্নিশ খুঁজে বেড়াচ্ছি ...............ধ্রুপদী সিনেমার জয় হোক জীবনের জয় হোক
আমার সিনেমাপ্রীতি ......................সাব্বির আহমেদ জয়
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান
সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল

সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন
=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।
বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।
যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন
ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।