somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি সফল প্রেমের গপ্পো.....................সাব্বির আহমেদ জয়

১১ ই জুলাই, ২০১৪ দুপুর ১২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীতে ভুমিষ্ট হওয়ার পর থেকেই কিশোরী মা কে নাকি অনেক জালিয়েছিলাম কোন খাবারই মুখে নিচ্ছিলাম না মা ড্রপারে করে মুখে দুধ তুলে দিয়ে খাওয়াতেন সারারাত সজাগ থকতাম তাই আমার কিশোরী মাকে ও সজাগ থাকতে হতো এতে করে উনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মা কে পীড়া দেওয়ার এই ব্যপারটা আমার ৫ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী ছিলো তাই ফেইসবুকের অনেক আত্মীয় স্বজনের কাছে আমি একটি জীবন্ত কিংবদন্তী তাই আমার মেয়েও যখন খাওয়া এবং ঘুম নিয়ে বিরক্ত করে মা মুচকি হেসে বলেন প্রকৃতি তোকে ক্ষমা করেনি আমাকে যেমন জ্বালিয়েছিস তোর মেয়েও তাই করছে!!!!!আমার এই মা আমার প্রতি অনেক দুর্বল তাই যখন প্রেমে পড়লাম মা কেই একদিন গুলশান লেডিস পার্কে হাটতে গিয়ে বললাম মা আমি তো প্রেমে পরছি!!!! মা প্রতুত্ত্যরে বললেন হারামজাদা কি কস ??? আমি বললাম মা মেয়ে তো পুরান ঢাকার !!!!! মা বললেন ওই তুই এতো সেয়ানা ক্যামনে হইলি পুরান ঢাকায় গিয়ে প্রেম করোস তোরে তো মনে করছিলাম ভোদাই তুই তো দেখি মিনমিনা শয়তান খবরদার এই কথা যেন তোর বাবার কানে না যায়!!!!! দিন যায় আমার প্রেমের পারদের মাত্রা উপরেই উঠতে থাকে ঘরে হেভি মেটাল আর হার্ড রকের বদলে কবিগুরুর সহেনা যাতনা নতুবা বধু কোন আলো লাগলো চোখে, আমি তোমার প্রেমে হব সাড়া এই সকল অসাধারন গান দিনরাত বাজতে থাকে আমার গেম থিয়োরিস্ট বাবা সকালে নাস্তার টেবিলে বসে দার্শনিক হয়ে যান আমাকে বলেন জয় তোমার আচরন সন্দেহজনক বি ফ্র্যাঙ্ক উইথ মি ডোন্ট ট্রাই টু বি এন স্মার্ট অ্যাস তুমি কি আজাকাল নেশা ফেশা করো নাকি তোমার আচরনে এতো ড্রাস্টিক চেইঞ্জ দেখছি সামথিং ওয়েণ্ট রং আমার সাথে চালাকি করবানা আমি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি মা বলেন যা এমবি এর ক্লাসে যা!!!! কোন কিছুই চাপা থাকেনা পৃথিবীতে আর প্রেম বিষয়ক ব্যাপার স্যাপার দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে তাই পরিবারের সবার কানেই আমার লাইলি মজনু প্রেম কাহিনী পৌঁছে যায়। আমার দাদা বাড়িতে এই নিয়ে বিশাল বৈঠকের আয়োজন করা হয় এবং বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন আমার মেজ চাচা কেতাদুরস্ত কূটনীতিবিদ প্রাত্তন অ্যাম্বাসেডর মহিউদ্দিন সাহেব। তো বৈঠকে জাতিসংঘের অধিবেশনের মতোই ইংরেজিতে কথা বার্তা হয় যার শানেনজুল হচ্ছে আমি পরিবারের মান সম্মান ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছি একটা প্রেম করে!!! কারন আমার মতো ছেলে প্রেম করবে ওনারা ভাবতেই পারেননি বরং ওনাদের পছন্দ করা পেডিগ্রী সার্টিফিকেটধারী হানি টাইপ মেয়েকে বিয়ে করবো এটাই তাদের বদ্ধমূল ধারনা ছিলো আর বৈঠকের মাঝাখানে মেকাইভ্যালিয়ান পলিটিক্যাল সেজ চাচ্চু লাফ দিয়ে বলে উঠলেন তোর কারনে আমি আর সংসদ নির্বাচনে পাশ করতে পারবোনা আমি প্রত্যুত্তরে বললাম তবে তাই হোক। আমি অভিমান করে বেড় হয়ে আসলাম রাগে অপমানে সমস্ত শরীর কাঁপছিল প্রচণ্ড রোদে বাগানে বসে কাঁদছিলাম হটাত দেখি আমারে ঘাড়ে হাত রেখে মা দাড়িয়ে আছেন আর স্মিত হেসে আমাকে বললেন কোন চিন্তা করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে আমি আছি না বোকা আর তোর উপর আমার আস্থা আছে।শেষ পর্যন্ত আমার মায়ের একক প্রচেষ্টাতেই আমার বিয়ে হয় এতে আমার বাবার দিকের আত্মীয় স্বজনদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন ছিলোনা অনেকটা সামাজিকতা রক্ষা করতেই ওনারা এসেছিলেন বিয়েতে আর আমার মহিয়সী মা আমার স্ত্রীর বিয়ের শাড়ী পর্যন্ত নিজের হাতে এম্ব্রডায়রি করেছিলেন আমার প্রতি উনার আকুণ্ঠ ভালোবাসা থেকেই। তাই আমার মা আমার কাছে দেবীর সমতুল্য আর আমার মা ই আমার ঈশ্বর .........মা তুমি ভালো থাকো আজীবন !
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×