somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার সাতকাহোন ১৫

০৭ ই মে, ২০১৪ রাত ২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি আশা করবো তোর মুখ যেন আমাকে আর না দেখতে হয়। তোর সব জিনিসপত্র আমি প্যাক করে রাখছি নিয়ে বিদায় হ।
কক্স বাজার থেকে বাড়িতে ফিরেই আনিতাকে মায়ের এই অগ্নি রুপের সামনে পরতে হল। তবে কি তামিম সব বলে দিয়েছে? হ্যাঁ বলেছে। সালেহা বেগম মেয়ে কে তার সব ব্যাগ সহ বাড়ির বাইরে বের করে দিল। আনিতা কি করবে বুঝতে পারে না। খানিকক্ষণ দরজাতে আঘাত করল। ভাই আর মা তখন রেগে বকা দিতে লাগলো। আনিতার মনে অভিমান জমতে থাকে। তার পরিবারের থেকে তামিমের উপর বেশি। কিন্তু কিছু করার নেই।
দোতালার সিঁড়ি বেয়ে কিছুক্ষন পর আনিতা নেমে আসে। হাতে সুটকেস। কি করবে ভেবে পায় না। কার কাছে যাবে সে এখন? তাছাড়া তার এখনো এক বছর বাকি পড়া শেষ হতে। তার পড়াশুনার এতো খরচই বা কি করে যোগাড় করবে? ঘন্টা খানেক বাস স্ট্যান্ডে দারিয়ে থাকে আনিতা। এবার ফোন করে বান্ধবীদের। কিন্তু কারো বাড়িতে উঠার মতো অবস্থা নেই। কেউ গেছে গ্রামে, কারো রুম খালি নেই, কারো আবার বাড়িতে সমস্যা। আনিতা হাল ছেড়ে দেয়। ঠিক তখনি রাহাতের কথা মনে পরে। রাহাত কে ফোন করে। এক বার দুই বার তিন বার। না রাহাত ফোন ধরছে না। আনিতার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরার মতো অবস্থা।
ট্রিইইইন ট্রিইইইইন... মুঠো ফোন বেজে উঠে আনিতার হাতে। রাহাত। রাহাতই ফোন দিয়েছে। সব খুলে বলল রাহাতকে। এ এক মহা সংকটময় মুহূর্ত। রাহাত আনিতা কে অপেক্ষা করতে বলে কিছুক্ষন পর নিজেই আনিতা কে নিতে আসে। আনিতা কাঁদছে রাস্তায় দারিয়ে। না রাহাত শুধু মাত্র রাহাতের জন্যই আজ আনিতাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। কেন যে সেদিন নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলো না রাহাত। আনিতা কেন যে বাধা দিলো না রাহাতকে? রাহাতের কাছে আনিতার ভালবাসা, সম্ভ্রম, বিশ্বাস সবকিছু কেন উজার করে দিলো সেদিন? আজ রাহাতের সে দিনের আবেগের জন্য তার পাগলামির জন্য আনিতাকে রাস্তায় দারিয়ে কাঁদতে হচ্ছে। কেন তার এই ছন্নছাড়া জীবনে আনিতাকে জড়াল রাহাত? খুব কষ্ট হচ্ছে তার আনিতার জন্য।
রাহাত আনিতার হাত থেকে সুটকেসটা নিলো। না আর ফিরে যেতে হবেনা আনিতাকে ওদের কাছে যারা তার আনিতাকে এতো কষ্ট দিয়েছে। আনিতা থাকবে তার কাছে। রাহাতের কাছে থাকবে। রাহাতের বুকে থাকবে। আনিতা শুধু রাহাতের। রাহাত শুধু আনিতার। না কেউ আসবে না তাদের দুজনের মাঝে। কেউ না। রাহাতের মনে আনিতার পরিবারের সকলের উপর অভিমান জমতে থাকে। ফিরতে দিবেনা সে আনিতাকে তাদের মাঝে। কোন দিন না। কখনো না।
উত্তরার একটা বহুতল ভবন। তার একটা ছোট কিন্তু ছিমছাম ফ্লাটে এখন রাহাত আনিতা। এটা রাহাতের বন্ধুর ফ্লাট। বন্ধু দেশের বাইরে থাকে। যখন আসে তখন এই ফ্লাটে থাকে বাকি সময় এটা তালা বদ্ধ থাকে। এখন এই ফ্লাটেই রাহাত আর আনিতার নতুন সংসার শুরু। যত দিন না আনিতার পড়া শেষ হচ্ছে ততো দিন রাহাত আনিতাকে বিয়ে করতে পারছে না। তাই এখন আপাতত তাদের এভাবেই থাকতে হবে। আনিতা আর রাহাতের সম্পর্কের ব্যাপারে ইউনিভার্সিটি কমিটি জানতে পারলে রাহাতের চাকরি যেমন যাবে ঠিক তেমনি আনিতার পড়াশুনারও সমাপ্তি হবে। তাই এখন এখনি বিয়ে করতে পারছে না তারা। এক বছর তাদের অপেক্ষা করতেই হবে।
একদম ফাঁকা ফ্লাট। কিছু নেই। কোন আসবাব বলতে ঘরের এক কনে একটা খাট, একটা প্লাস্টিকের চেয়ার। আর কিছু নেই। রান্না ঘরে গেসের চুলা টা পর্যন্ত নেই। আনিতা বাসা ছেড়ে বের হয়ে আসার প্রথম ধাক্কাটা সামলে নেয়ার পর কি কি লাগবে তার একটা লিস্ট তৈরি করতে বসে। চুলা, চাদর, টুকটাক খাবার, ঝাড়ু, আরও কিছু রান্নার সামগ্রি। রাহাতের এটা দেখে খুব ভালো লাগছে যে আনিতা মোটামুটি স্বাভাবিক এখন। কি উৎসাহের সাথেই না ঘরে কি কি লাগবে তার লিস্ট বানাচ্ছে।!
সারা দুপুর ঘুরে ঘুরে রাহাত আর আনিতা সব জিনিস কিনে ফেলল। দুপুরে তারা একটা ফাস্টফুডের দোকান থেকে খাবার কিনে খেলো। আরও টুকটাক কিছু জিনিস কিনে যখন ফিরল তখন রাত হয়ে গেছে। আনিতা এবার ঘর গোছানোর কাজে হাত দিলো। ঘর ঝাড়ু দেয়ার জন্য ওড়নাটা মাথার উপর দিয়েছে দেখে আনিতাকে কেমন বউ বউ লাগছে। রাহাতের এতো মায়া লাগছে দেখে আনিতাকে। আনিতার এতো স্বচ্ছন্দ জীবন ফেলে এখানে এই অবস্থায় থাকতে হবে। ভাবতেই কেমন লাগছে। কিন্তু তার আনিতা এখন তার কাছে সেটা ভেবে খুশি হচ্ছে আরও বেশি।
- এই তুমি কিন্তু খেয়ে যাবে। আমি তোমার আর আমার রান্না বসিয়েছি। রাতের মেনু কিন্তু সংক্ষিপ্ত। বেগুন ভাজি, ডাল আর ডিম ভুনা।
ঝাড়ু দিতে দিতে বলে আনিতা। রাহাতের কেমন যেন সুখ অনুভূত হয়। বউ বউ একটা ভাব নিয়ে কথা বলছে আনিতা। রাহাত উঠে গিয়ে আনিতাকে জড়িয়ে ধরে।
- আমি কথায় যাবো এখন? এখানেই তো থাকবো তোমার কাছে।
রাহাত আদুরে গলায় বলে।
- কি হচ্ছে কি? এখানে থাকবে মানে? আমাদের এখনো বিয়ে হয়নি। এর মাঝেই একসাথে থাকা?
- বিয়ে করলেই বুঝি সব? কেন আমি তোমাকে ভালোবাসি না? আমি এখানেই থাকব।
- উঁহু। এখানে থাকলে সবাই জেনে যাবে আর তাছাড়া তোমার বাসায় তোমার মা আছেন। তিনি কি একা থাকবেন?
- হুম। কিন্তু আজ রাতে আমি কোথাও যাচ্ছি না। তুমি ঝাড়ু পেটা করলেও না।
- আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তু নো দুষ্টামি।
- আহা তোমার সাথে দুষ্টামি করবো না তো কার সাথে করবো বোলো?
রাহাত চোখ টিপে হাসে। আনিতা লজ্জা পেয়ে যায়।
- অসভ্য!
- আমি অসভ্য? তাই? হুম তাহলে তো অসভ্য হতেই হচ্ছে।
রাহাত আনিতাকে আরও জোরে জড়িয়ে ধরে। আনিতা নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়ে রান্নাঘরে চলে যায়। রাহাত হাসে। হ্যাঁ আনিতা এখন আর বাড়ি থেকে চলে আসার কষ্ট নিয়ে কাঁদবে না বসে। সে রাহাতকে নিয়ে ভাববে। রাহাতের প্রতিটা কথা নিয়ে ভাববে। ভেবে ভেবে লজ্জায় লাল নীল বেগুনী হতে থাকবে। রাহাত চায় আনিতার সম্পূর্ণ জগত জুড়ে শুধু যেন রাহাত থাকে আর কেউ না। কখনো না।

পর্ব ১ Click This Link
পর্ব ২ Click This Link
পর্ব ৩ Click This Link
পর্ব ৪ Click This Link পর্ব ৫ Click This Link পর্ব ৬ Click This Link পর্ব ৭ Click This Link পর্ব ৮ Click This Link পর্ব ৯ Click This Link পর্ব ১০ Click This Link পর্ব ১১ Click This Link পর্ব ১২ Click This Link পর্ব ১৩ Click This Link পর্ব ১৪http://www.somewhereinblog.net/blog/Dipahappy/29910243
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১৪ রাত ২:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ক্যাশলেস সোসাইটি এর জন্য কি পারফেক্ট?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



এটা বাংলা কিউ আর কোড। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাবসায়ীদের বাংলা কিউ আর কোড বাধ্যতামূলক করেছেনভ এটার ভালো দিক ও খারাপ দিক দুইটাই আছে। বাংলাদেশের সিস্টেম, কারিগরি দক্ষতা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×