somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ডঃ রুহুল আমিন চৌধুরী।
স্বাধিনতার শত সহস্র, লক্ষ কোটি “সুফল" - কিন্তু একটি মাত্র “কুফল” - দেশের নিতি নির্ধারণে অযোগ্য লোকেরা সব উচ্চাশনে - রাজনিতিতে ও প্রশাসনে - ফলে দেশটি যথাযথভাবে উন্নতিতে আগাতে পারছে না।তারপরেও যেটুকু এগিয়েছে, অধিকাংশ সাধারণের ব্যক্ত

কয়েক সেকেন্ডে ধুলোয় মিশেছে বিশ্বের যেসব বহুতল ভবন -

২৯ শে আগস্ট, ২০২২ সকাল ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েক সেকেন্ডে ধুলোয় মিশেছে বিশ্বের যেসব বহুতল ভবন -
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের নয়ডাতে রোববার (২৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে মাত্র ৯ সেকেন্ডে মাটির সঙ্গে মিশে গেল যমজ অট্টালিকা (টুইন টাওয়ার)। বিস্ফোরণের মাধ্যমে দেশটির টুইন টাওয়ার-খ্যাত জোড়া ‘সুপারটেক’ ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালে দেশটির প্রচলিত আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবৈধভাবে নির্মাণ হয়েছিল এই বিশাল টাওয়ার। এর পরই স্থানীয় এমারেল্ড কোর্ট সোসাইটির বাসিন্দারা দ্বারস্থ হন সুপ্রিমকোর্টে। সুপ্রিমকোর্টের রায়ে রোববার দুপুর ২.৩০টা নাগাদ ভেঙে ফেলা হলো বেআইনিভাবে তৈরি এই ৩২ ও ২৯ তলাবিশিষ্ট নয়ডার টুইন টাওয়ার।
তবে এ ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও এমন বহু ভবন ছিল, যেগুলোকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে মুহূর্তের মধ্যেই ধূলিসাৎ করা হয়েছে। আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা সেসব গুঁড়িয়ে দেওয়া ভবনের খবর। এক নজরে দেখে নিন সেসব ভবনের তথ্য-
ওশান টাওয়ার: ২০০৬ সালে আমেরিকার টেক্সাসে ‘ওশান টাওয়ার’ নামে একটি বিলাসবহুল আবাসন তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। ঠিক দুই বছর পর নির্মাণ কাজ চলাকালে ৩১ তলার এই বহুতল ভবনে ফাটল দেখা দেয়। এমনকি মাটির নিচে প্রায় ১৪ ইঞ্চির মতো অংশ ধসে পড়ে। এর ফলে ভবনটি এক দিকে হেলে যায়। এ কারণে ওশান টাওয়ার ‘লিনিং টাওয়ার অব সাউথ পাদ্রে’ নামেও পরিচিত। এটি পুনর্নিমাণ করা প্রচুর ব্যয়বহুল হতো। সব দিক চিন্তা করে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ভবনটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।
দ্য ট্রাম্প প্লাজা: ১৯৮৪ সালে আমেরিকার নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে তৈরি করা হয় ‘দ্য ট্রাম্প প্লাজা’। জানা যায় এ ভবনটির নামকরণ করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে। হোটেল ও ক্যাসিনো হিসাবে ৩৪ তলার এই বহুতলটি বিশেষ পরিচিত ছিল। এতে হলিউডের অসংখ্য অভিনেতা, রকস্টার ও ক্রীড়াব্যক্তিত্ব পার্টির আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই হোটেল এবং ক্যাসিনোর ব্যবসার ক্ষতি হতে থাকে। প্রায় চার দশক পর ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এই বহুতলটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মোট তিন হাজার ডাইনামাইট স্টিক ব্যবহার করে ২০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে এই বহুতলটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
হোটেল ও ক্যাসিনোটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় হাজারো লোক ভবনটির ভেঙে পড়া দেখতে আসে। ক্যাসিনো ও মনোরম সব হোটেলে সাজানো নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লাস ভেগাস হিসেবে অভিহিত করা হতো। আটলান্টিক সিটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ট্রাম্প প্লাজা হোটেল অ্যান্ড ক্যাসিনো।
‘দ্য এএফই টাওয়ার’: জার্মানের ফ্র্যাঙ্কফার্ট এলাকায় ১৯৭০ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল ৩৮ তলা বিশিষ্ট এক ভবন। এটি ‘দ্য এএফই টাওয়ার’ নামে পরিচিত ছিল। জানা যায়, এই বহুতলটি জোহান ভল্ফগ্যাঙ্গ গ্যেঠে ইউনিভার্সিটির অংশ ছিল। ৩৮ তলার এই বহুতলটি ১১৬ মিটার উঁচু ছিল। ২০১৪ সালে মোট ৯৫০ কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করে এই বহুতলটি ভেঙে ফেলা হয়। মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ৩৮ তলার এই বহুতলটি ভেঙে পড়ে।
দ্য মিনি প্লাজা: ২০০৭ সালে দুবাইয়ের ‘দ্য মিনি প্লাজা’ নামের বহুতল ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৪৪টি তলা এবং চারটি টাওয়ার তৈরি করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এই জায়গায় অন্য কিছু তৈরি করা হবে। এ ভবনটির উচ্চতা ছিল ১৬৫ মিটার। নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থাতেই ২০২০ সালের নভেম্বরে ছয় হাজার কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করে প্রায় ১০ সেকেন্ডের মধ্যে এই বহুতলটি ভেঙে ফেলা হয়।
দ্য গোল্ডেন ফ্লাওয়ার বিল্ডিং: শিয়ান সিটিতে অবস্থিত ৩৮৭ মিটার উঁচু ‘দ্য গোল্ডেন ফ্লাওয়ার বিল্ডিং’ টি চীনের উচ্চতম বহুতলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। এ ভবনটির কাজ শেষ হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। ২৬ তলার এই ভবনটি বহু বছর কোনও কাজেই ব্যবহার করা হয়নি।
১৬ বছর ফাঁকা অবস্থায় পড়ে থাকার এটিকে ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১৭ সালে ১২৭০ কেজি ওজনের ডাইনামাইট এবং ১২ হাজার ডিটোনেটর ব্যবহার করে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে এই বহুতলকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:৩৫
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাতীয় জন্মসনদে ভুলের ভূত আর সাভারের জালিয়াতি চক্র: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি কোনোদিন থামবে না?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০



আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। অথচ বাস্তবতা যেন এই স্লোগানের একদম উল্টো! সরকারি নথিতে যখন সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ, উদ্বাস্তু এবং রোহিঙ্গা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



দেশভাগের অনেক পরে আমার জন্ম।
আমি দেশভাগের ইতিহাস জানি। দেশভাগের পরে যা হয়েছে, অতি মন্দ সব ঘটনা ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার নারী নির্যাতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টারজান থেকে আইনস্টাইন

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাস। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা।
প্রচন্ড শীতে এক বালক রাস্তা দিয়ে একাএকা হাঁটছে। বালক জানে না- তার বাবা কে, মা কে? ক্ষুধা পেলে একটা খাবার দোকানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার দৃষ্টিতে - 'ব্লগার ওমর খাই-আম' বনাম 'ব্লগার সত্যপথিক শাইয়্যান'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩২



চ্যাটজিপিটিকে আমার এবং ওমর খাই-আমের ব্লগপেইজের লিংক দিয়ে বলেছিলাম মূল্যায়ন করতে। সে আমাদের রেটিং দিয়েছে এরকম -
সত্যপথিক শাইয়্যানঃ 8.0/10, আর ব্লগার ওমর খাই-আমঃ 7.8/10!!!

বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×