ঢাকা থেকে শ্যামলী পরিবহনের ঢাকা টু কক্সবাজারের গাড়ীতে উঠেছি রাত সাড়ে নয়টায়।
১২ঃ৩৬ এ গাড়ী কুমিল্লা থামল। বলা হল বিশ মিনিটের বিরতি।
ভেবেছিলাম নামব না। আবার ভাবলাম সবাই যেহেতু নামছে, আমিও নামি।
ভেবেছিলাম রেস্টুরেন্ট এ ঢুকব না। কিন্তু সবার মধ্যে থাকা প্রবণতাটা আমাকে প্রভাবিত করল।
ভেতরে ঢুকলাম। যেই টেবিলেই আমি বসি, ওটা "স্টাফ টেবিল" বলে আমাকে তুলে দেওয়া হয়। খালি টেবিল গুলো "স্টাফ টেবিল" আর অন্যগুলো ইতিমধ্যেই দখল হয়ে গেছে।
তারপর খালি টেবিল দেখলেই ভয় লাগে, এটাও বুঝি স্টাফ টেবিল। আরেকটাতে বসতে গেলাম, ওটা নাকি মহিলা টেবিল।
বিরক্ত হয়ে বের হয়ে এলাম।
ঢুকলাম পাশের একটা ফাস্ট ফুডের দোকানে।
ঢুকে বসেই আছি। কেউ আর অর্ডার নিতে আসেনা। এর মধ্যে ১০ মিনিটের বেশি পার হয়ে গেছে। ভাবলাম নো প্রব্লেম। বাংলাদেশের টাইম তো, বিশ মিনিটের জায়গায় গাড়ী ত্রিশ মিনিট তো থামবেই।
এদিকে অর্ডার নিতে কেউ আসেনা। সময় পেরিয়েই যাচ্ছে।
আমি ভাবলাম কোনো খাওয়ার আগে পে করতে হয় কিনা!
এই প্রি পে সিস্টেমটা আমার বাজে লাগে। এর জন্য আগে একবার খুব বিব্রত হয়েছি।
আরে ব্যাটা আমি কি কি খাব তা কি আগে থেকে জানি!
খাব। তারপর বিল দেব। এটাই তো সিস্টেম।
আমি গিয়ে বললাম, ভাই এখান থেকে আমাকে বার্গার দেন। কোন গুলো কি বার্গার?
সে বলল- সবগুলোই চিকেন বার্গার।
বিল আগে দিতে হয় কিনা জানতে চাইলাম। সে বলল টেবিলে গিয়ে বসেন।
একটু পর বার্গার নিয়ে এল। সাধারণত মেয়েদের জন্য টেবিলে এনে দেওয়া হয়। ছেলে হলে self service.
বার্গারে কামড় দিয়েই টের পেলাম কুমিল্লাতে সবজিকে 'চিকেন' বলা হয়।
আমি আরো মুরগী ভেবে ভুল করেছিলাম।
ভুলটা আমরই। এদের ভাষা তো আর আমি জানিনা।
ভাগ্যিস ২ টা অর্ডার করিনি। নাহয় নিজেই মুরগী হয়ে যেতাম।
সবজি দিয়ে বানানো 'কুমিল্লার চিকেন বার্গার' অনেক কষ্টে খেলাম।
নতুন কিছু অর্ডার করব ভেবে রেস্টুরেন্ট এর একটা ছেলেকে ডাকলাম।
ছেলেগুলো সব মহিলা যাত্রীদের সেবায় ব্যস্ত।
আমাদের দিকে তাকানোর টাইম নেই।
সৌভাগ্যক্রমে পেয়ে গেলাম একজনকে।
কুমিল্লার রস মালাই নাকি বিখ্যাত। রসমালাই অর্ডার করলাম।
সে আমাকে বলল- কত কেজি?
ইয়াল্লাহ। কয় কি! এখানকার মানুষেরা কি এক সাথে কয়েক কেজি করে খায়?
ওয়েটারের পেছনে থাকা আয়নায় দেখলাম আমার চোখ দুটি ততক্ষণে রসগোলার আকার ধারণ করেছে।
হঠাৎ মাথায় আসলো, এখানকার মানুষের ভাষায় কেজি মানে অন্যকিছু নয়তো!!
বললাম- এখানে খাব।
সে হাত দিয়ে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গীতে বলল_ খাওয়ার জন্য বিক্রি করা হয়না।
আমিতো পুরাই টাস্কি খেয়ে গেলাম।
খাওয়ার জন্য নাহলে এই রসমালাই দিয়ে কি করার জন্য বিক্রি করা হয়? প্রশ্ন করতে গিয়ে দেখি সে ইতিমধ্যেই অন্য ২ জন মেয়ে কাস্টমারের দিকে রওনা দিয়েছে।
কি আর করা। সেই প্রথম ছেলেটির কাছে ফিরে গেলাম। যে বার্গার দিয়েছিল।
তাকে রসমালাই দেওয়ার কথা বললাম।
ছেলেটি হৃদয়বান।
রসমালাইর সাথে আমাকে আরো কয়েকপ্রকারের মিষ্টি এনে দিল সে।
খাওয়া দাওয়া করে উঠলাম। একজন এসে বলল আপনি কি ৩৫১২ নাম্বার গাড়ীর যাত্রী?
আমি বললাম জ্বী।
- আপনার জন্য গাড়ী দাঁড়িয়ে আছে।
ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি আধাঘন্টা হয়ে গেছে।
বাইরে এসে দেখি গাড়ী অনেকদূর চলে গেছে। সেখানে আবার দাড়িয়েও আছে।
গাড়ীর কাছা কাছি আসতেই ড্রাইভার প্রচন্ড মেজাজের সাথে বলল, এই ছোঁড়া! বাড়ি কই তোর?
ড্রাইভার আমার উপর প্রচন্ড ক্ষেপে আছে। বুঝলাম এরপর গালি দিবে।
তার কানের কাছে গিয়ে বড় করে শুধু একটা কথা বললাম, কক্সবাজার।
সাথে সাথে চুপ হয়ে গেল। একটা কথাও বলেনি আর।
এভাবে থেমে যাবে আশা করিনি।
পরে বুঝলাম, তাকে যে প্রতিদিন কক্সবাজার যেতে হয়।
মনে রাখবেন, কুমিল্লাতে 'চিকেন বার্গার' কিন্তু সবজি দিয়ে বানানো হয়!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


