somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোকা কাহিনী

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"এই গাধা! অ্যাই! তুই একটা বেকুব!"
খুবই পরিচিত শব্দ।
আমি শব্দের উৎসের দিকে ফিরে তাকালাম।
আমি ফিরে তাকানোর কারণ হচ্ছে আমি যে বেকুব সেটা সম্পর্কে আমি মোটামুটি নিশ্চিত।
নিশ্চিত হওয়ার কারণ হচ্ছে এই স্বীকৃতিটি আমি জীবনে বহুবার পেয়েছি।
বারবার শুনলে সেটির উপর একসময় বিশ্বাস জন্মে যায়। আমারও মোটামুটি বিশ্বাস জন্মে গেছে আমি একটা বেকুব।
তাও ভাল খবর হচ্ছে আমি শুধুই 'একটা' বেকুব। ভাগ্যিস একজনের 'অনেক গুলো' বেকুব হওয়ার সুযোগ নেই।
এর জন্য আমি মোটামুটি খুশী।

আমি যে বেকুব সেটা সবচেয়ে বেশীবার বলেছে আমার আম্মু।
আমার ধারণা আম্মু কখনো মিথ্যা বলেন না। তারপরও আম্মুর সব কথা বিশ্বাস করলেও এ কথাটি বিশ্বাস করতে আমি একটু কাইঁকুই করি। প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি।
তখন আম্মু হাসতে হাসতে বলেন-' তুমি যে বেকুব, তা আবার প্রমাণ করছো।'
আমার প্রতিবাদ থামিয়ে তখন আমি আম্মুর সাথে প্রশ্নোত্তর পর্বে অবতীর্ণ হই।
পৃথিবীর সব চেয়ে ছোট, সহজ এবং একই সংগে কঠিনতম প্রশ্নটি আমি করি- কেন??
আম্মু আবার হাসেন।
হাসতে হাসতে বলেন, কীভাবে প্রতিবাদ করতে হয় সেটাও জান না তুমি।
বেকুবের মত প্রতিবাদ কর।
তখন আমি বুঝতে পারি, প্রতিবাদেরও রকমফের আছে।
বেকুব টাইপের প্রতিবাদ, চালাক টাইপের প্রতিবাদ আছে।
শুধু প্রতিবাদ করলেই হয় না।
অন্যসব কিছুর মত প্রতিবাদও করতে জানতে হয়।

আমি প্রচন্ড বোকা টাইপের মানুষ। পৃথিবীর খুব কম জিনিসই আছে যা আমি পারি।
বেশীরভাগ সহজ জিনিস আমি পারিনা।
মানুষের সাথে মিশতে পারিনা, কীভাবে কথা বলতে হয় সেটা জানিনা।
মাঝে মধ্যে চেষ্টা করি অবশ্য।
তবে সেটা আরেকটু বেশীই বোকামী হয়ে যায়। কি বোকামী করলাম সেটাও আমি বুঝতে পারিনা।
তবে মাঝে মধ্যে সফল হয়ে যাই অবশ্য।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সেঞ্চুরী করে ফেলার মত ব্যাপার।

খুব সহজ বিষয় গুলোতে আমি কী ধরণের বোকামী করি তার সবচেয়ে সহজ দৃষ্টান্ত হচ্ছে; খুব ছোট বেলায় একবার ভাইয়াদের সাথে বসে সিগারেট ফুঁকার চেষ্টা করেছিলাম।
ঠিক সিগারেট না, কাগজকে গোল করে পাইপের মত করে নকল সিগারেট বানানোর চেষ্টা।
বলা যায়, নিকোটিন মুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত সিগারেট। :p
সেই স্বাস্থ্য সম্মত সিগারেটের এক মাথা মুখে দিয়ে অন্য মাথায় আগুন ধরিয়ে দিই। অন্যরা ঠিকই সিগারেট ফুঁকে মুখ দিয়ে গলগল করে ধোঁয়া ছাড়ছে।
কিন্তু আমার সিগারেট বারবার নিভে যাচ্ছে।
ঘটনা কী!
আমার বাকী দুই ভাই দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্তে নামল।
আমাদের দেশের মানুষের দৃঢ় ধারণা হচ্ছে, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কখনো বের হয়না।
সবার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে মাত্র এক মিনিটের মাথায় তদন্ত রিপোর্ট পেশ করলেন আমার রেজা ভাইয়া।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, আমি এতই বেকুব যে, সিগারেটে টান দেওয়ার বদলে বারবার ফুঁ দিচ্ছিলাম।
যার কারণে মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো সিগারেটের আগুনই নিভে যাচ্ছিল।

এত দ্রুত সঠিক রিপোর্ট পেশ করা তদন্ত কমিটির মূল্যায়ণ ভুল হওয়ার কথা না।
তারা আমাকে বেকুব হিসেবেই মুল্যায়িত করলো।
তারা যে ভুল ছিলনা তার প্রমাণ পরবর্তীতে আমি পেয়েছি।
আমি পরবর্তীতে বেকুব হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছি।

আমার মায়ের মত সবাই যে আদর করে বেকুব ডাকেন সেটা অবশ্যই না।
অনেকেই গালি দিয়ে ডাকেন। তবে সেটা আর 'ডাক' হয়ে উঠেনা। কারণ তারা মনে মনেই বলেন।
এদেশের আমজনতা বরাবরই ভীতু।
একজন 'বেকুব'কে বড় করে বেকুব ডাকার সাহস তাদের নেই।
তারা সরকারকে, মন্ত্রী-এমপিদেরকে যেমন মনে মনে গালি দেন, বোকা লোকদেরও মনে মনে গালি দেন।
সে হিসেবে কত মানুষ আমাকে বেকুব বলেন সেটা আমার জানা হয়না কখনো।
অনুমান করতে পারি।

আমার অনুমান যে ঠিক হবে, তা কিন্তু না। বেকুবের অনুমান তো।
আমার মা যে আমাকে সবসময় বেকুব বলেন তা কিন্তু না, তিনি আমাকে মাঝেমধ্যে ধমকের সুরে পরম মমতায় গাধা ডাকেন।
আমার মা যখন আমাকে গাধা ডাকেন, তখন আমি হাসি।
গাধা ডাক যে কত মধুর আমি তখন সেটা বুঝতে পারি।

গাধা বলে যে শুধু আমার মা আমাকে ডাকেন তাও কিন্তু না।
অনেকেই ডাকেন।
বেকুব ডাকার চেয়ে গাধা ডাকা মনেহয় অনেক সহজ।
যে'বার গণিতে ৯৯ পেয়েছিলাম, সে'বার স্যার আমাকে বলেছিলেন, গাধা! জ্যামিতিটা আরেকটু ভাল করলে পুরো নাম্বারটা পেতি। গাধা!
মাঝে মধ্যে গাধা ডাকটি পৃথিবীর সবচেয়ে
মধুর শব্দ হয়ে উঠে।
মনেহয় এর থেকে মধুর শব্দ আর হয়না।
গাধা ডাকটি কিন্তু সবসময় মধুর না, কখনো কখনো মৌচাকও হয়ে উঠতে পারে।
গাধা ডাকার কারণে নাক মুখ ফাটানোর ইতিহাসও কিন্তু কম নয়, বরং যথেষ্ট সমৃদ্ধ।

পৃথিবী বড়ই বিচিত্র জায়গা।
এখানে জায়গা এবং পরিবেশ ভেদে শব্দের অর্থ আমুল পাল্টে যায়। রিএকশন আর একশনে মিলে একাকার হয়ে যায়।
খুশি হয়ে বৃদ্ধাংগুল দেখানোর কারণে, যাকে দেখিয়েছে সে অপমানিত হয়ে বৃদ্ধাগুংল ভেঙ্গে দেওয়ার মত ঘটনা আমার চোখে দেখা।
যদিও সেটা ঘটনা না, অঘটন।

আমি বোকা সোকা মানুষ। ঘটনাতেও নেই, দূর্ঘটনাতেও নেই।
তাই দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে ঘটনা বুঝার চেষ্টা করি।
আমার বিফল হওয়ার রেকর্ড যেহেতু যথেষ্ট ভাল, তাই আমার রেকর্ড আরো সমৃদ্ধ করি।

শব্দের উৎসের দিকে তাকিয়ে দেখি, আম্মু আধো ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বললাম- কী?
আম্মু বলল খাটের নিচে শুয়ে আছিস কেন?

হঠাৎ খেয়াল করলাম আমি ফ্লোরে শুয়ে আছি, আর শরীরের বেশীরভাগ অংশ খাটের নীচে।
আমি বোকা হলেও আমার উপস্থিত বুদ্ধি মাঝেমধ্যে উসাইনবোল্টের চেয়েও দ্রুত গতি লাভ করে।
বললাম- শীত করছিল তাই খাটের নীচে ঢুকে গেছি। উপরে ফ্যান চলছিল, তাই ফ্যানের বাতাস থেকে বাঁচতে খাটের নীচে ঢুকে গেছি।
আম্মু সম্ভবত আমার কথা বিশ্বাস করেছে।
বিশ্বাস করার কারণ হচ্ছে- আম্মুর বিশ্বাস আমি পৃথিবীর সব চেয়ে অলস ব্যাক্তি।
আমার মা পৃথিবীর সবচেয়ে অলস ছেলের জননী।
আম্মু জানে আমি এতই অলস যে, উঠে গিয়ে ফ্যানের সুইচ অন করার মত কর্ম আমি করব না।

আম্মু হাসতে বলল, গাধা!
তখন বরাবরের মত পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট, সহজ এবং একই সংগে কঠিনতম প্রশ্নটি আমি আবার করি- কেন??
আম্মু হা হা হা করে হাসেন।
আমি বললাম হাসছো কেন?
আম্মু বলে তুই বেকুব তাই।
আমি বললাম বেকুব কেন?
আম্মু উত্তর না দিয়েয়ে আবার হাসে।
আমি হাসির অর্থ বুঝতে পারিনা।
বেকুব তো।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৩২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাবধান, এই ফলগুলো খাওয়ার আগে সচেতন হোন।

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২

আজ কথা বলব একটা ভিন্নধর্মী সচেতনার বিষয় নিয়ে।
আপনারা অনেকেই জানেন, আপেলের বীজ বিষাক্ত, বেশি পরিমাণে খেলে মানুষ মারা যায়। কখনও ভেবেছেন, কেন মারা যায়? ঘটনাটা আসলে কী?

এর মূলে আছে Amygdalin... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই/ঝুলাই

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৯



আমরাই মারবো,লাশ করবো গুম,
আমরাই জানাবো শোক!

আমরাই বলবো , গলা ফাটা চিৎকারে-
ওরা ছিলো আমাদেরই লোক॥

আমরাই বাঁধাবো দু’তরফা দাঙ্গা,
... ...বাকিটুকু পড়ুন

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×