somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি গ্রামীন পহেলা বৈশাখ ও আমার মাটির ব্যাংক

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছোটবেলা গ্রামে নতুন বছরের যে আমেজ উপভোগ করেছি এখন তা নস্টালজিক ছাড়া কিছুই নয় । ২০/১৮ বছর আগের কথা মাত্র। নতুন বছর মানে পাশের গ্রামে বড় একটি মেলা বসবে, আম্মা ঘর-বাড়ী নতুন করে সাজাবে! সাজানো বলতে মাটির ঘর-বাড়ির মেঝেটাকে নতুন করে মাটি দিয়ে প্রলেপ দেওয়া। গ্রামে যাকে ঘর লেপা বলে । মেলার আগের দিন বা মেলার দিন আব্বা বাজার থেকে বড় মাছ কিনে আনবে । বাড়ির বড়রা মেলা এবং নতুন বছর উপলক্ষে কিছু নতুন নোট বা মেলা করার জন্য কিছু টাকা দিবে এসব ।

নতুন বছর নিয়ে আমাদের গ্রামে অনেক কথা প্রচলিত ছিল। যার কিছু এখনো আছ,,,,,,! যেমন বছরের প্রথম দিল ভাল খাবার খাইলে সারা বছরই ভাল খাওয়া যাবে ! নতুন বছরের প্রথম দিন ভাল করলে সারা বছর ভাল আর মন্দ করলে সারা বছর মন্দ করতে হবে । আরো কত কি যে ছিল ! মনে আছে,,,দাদী নতুন বছরের আগের দিন তিতা জাতীয় শাক তুলে আনত বছরের প্রথম দিন খাওয়ার জন্য। এগুলা খেলে নাকি রোগ বালাই চলে যেত ! নতুন বছর উপলক্ষে বাজারের দোকানিরা হালখাতা অনুষ্ঠান করত।। কাকা বা আব্বার সাথে হালখাতার অনুষ্ঠানে গিয়ে মিষ্টি বা দইচিড়া খাওয়া হয়েছে অনেকবার ।

নতুন বছরের প্রথম দিন বা তার আগের দিন আমার মাটির ব্যাংকটা ভাংতাম, মেলা করার জন্য । মেলা জমত পাশের গ্রামে । সকাল থেকে মেলা জমতে থাকত আর শেষ হত সন্ধ্যা নামলেই । সারাদিনই মেলায় আর বাড়িতে চক্কর দিতাম। কেনাকাটা হইত কাকা বা আব্বার সাথে । আমি চরকি,ডেডঢেরি,বাঁশি, মাটির নতুন ব্যাংক, মাটির বানানো বিভিন্ন প্রাণীর পুতুল কিনতাম। খাবারের মধ্যে কেনা হইত মুড়ালি,কদমা ,বাতাসা,নানা জাতীয় মিষ্টি খাবার।

গ্রামের মুরব্বিরা বলত,,,,, মেলা বা ১লা বৈশাখ ত হিন্দুদের উৎসব। মেলার জিনিসপাতি খাওয়াও ঠিক না । মেলা উপলক্ষে মেলার আশে পাশে বসত জুয়ার আসর। ঐসব আসর থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ এসে অনেককেই ধরে নিতে দেখেছি । যদিও নিজজে কখনো জুয়ার দানে পয়সা ফেলি নাই । মেলার দিনটা কিভাবে যে চলে যেত। ভাবতেই পারতাম না । নতুন মাটির ব্যাংকে আবার পয়সা জমাতে থাকতাম নতুন বছরের অপেক্ষা করে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:৪৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ের অবস্থা নিয়ে আলাদা গুরুত্ব দেয়া দরকার

লিখেছেন অপলক , ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫



পাহাড়ীদের হাতে এখন প্রচুর টাকা। সে টাকার যোগান প্রত্যাক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আমরা সমতলের জনগন দিয়েছি। পাহাড়ীরা এখন জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। তাদের মাঝে প্রচুর উচ্চ শিক্ষিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×