somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অই শোন, তোকে না আমি তেলাপোকা দিয়ে রস খাওয়াবো কিন্তু! (বালক/ বালিকার রস খাওয়ার গল্প ...।।)

২৯ শে নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তুই কখনো খেজুরের রস খেয়েছিস?
হু, ছোটবেলায় আমার নানীবাড়ীর বাসার পাশের রাস্তা দিয়ে সেই ভোরবেলা রসয়ালারা
“ রস লাগবে রস” এই বলে ডেকে ডেকে যেত! আমার নানীবাসায় এক কলসির অর্ধেক-ই রেখে দিত! সবাই কি মজা করে খেত! আমি অল্প একটু গ্লাসে নিয়ে খেতাম!
আচ্ছা শোন, তোকে একদিন রস খাওয়াবো কেমন?
ওকে, একদিন কেন? আজ-ই খাই চল!
খাবি? আজ-ই খাবি? গ্রামে খাবি না শহরে?
হু! আজ-ই! গ্রামে খাই চল! তুই গাছে উঠবি, গাছ থেকে রসের হাড়ি চুরি করে আনবি, এরপর আমরা দু’জন, কোন এক জায়গায় লুকিয়ে রস খাবো, কেমন হবে বল তো?
অই শয়তান্নী! আমাকে চোর বানাবি? তাহলে তো তুই চোরের বউ চুন্নি হয়ে যাবি! রাজি?
হাহহা! হু রাজি! আর তুই তো চোর-ই! মিছা কথা বলবি না! সত্যি কইরা বল- তুই এর আগে তোর গ্রামের বাসায় এই শীতের সময় গাছ থেকে রস চুরি করে খাস নাই?
হাহহা! পাগলী! তুই ক্যামনে জানলি?
জানি রে জানি চোরটা! তোকে জানতে কি আমাকে এদিক-সেদিক দৌড়াতে হপ্পে? আমি তো সব বলে দিতে পারবো!
হাহহা! তাই না কি? তাইলে বল দেখি- এর আগে কয়জনের লগে রস খাইছি এইভাবে? (চোখ মারার ইমো হইবেক)
বদমাশ, পাজির পাজি! তুই এর আগে আরো শাঁকচুন্নিদের নিয়া রস খাইছোস? অই যা ! খামু না তোর রস! তুই খা গা অইসব শাঁকচুন্নিদের সাথে! যাআআআ ভাগ!
অই দেখো! রস কি শাঁকচুন্নিদের সাথে খাইছি না কি বোকা ? বন্ধুদের নিয়া খাইছি! খালি সন্দেহ করে!
অই অই তোর ঠিক নাই! খাইতেও পারিস বদের হাড্ডি!
অই অই চুপ থাক তো! চল খাই এবার!
সত্যি বলছিস?
হু! সত্যি! তিন সত্যি!
ওকে নিয়ে চল আমাকে...।
তাহলে শোন- এই দেখ, সেই ভোরবেলা আমি তোর বাসার পাশে এসে দাঁড়িয়েছি , তার আগেই তোর কথা মত গাছের রস চুরি করছি, সেই হাড়ি অই যে পুকুর পাশের বাগানে লুকিয়ে রাখছি, এইবার আয় ঘর থেকে বের হয়ে আয়!
হু যাচ্ছি!
হাতটা ধর আমার! ইসস্‌ তোর হাত এত ঠান্ডা কেন রে?
অই শীতের সময় আমার হাত/পা এমন-ই সাপের মত ঠান্ডা হয়ে থাকে!
ওকে দাঁড়া বাগানের এক পাশে আগুন জালামু, তুই অইখানে বইসা আগুনের তাপে হাত গরম করে নিস কেমন! মাথা/কান ভাল করে ঢেকে নে চাদর দিয়ে!
অই অই, তোর হাতে কি হয়েছে রে? রক্ত মনে হল!
হু রে পাগলী! গাছে উঠতে গিয়ে খোঁচা লাইগা হাত কাইটা গেছে!
ইসস, বলিস নাই কেন আগে? আমি কিছু একটা মলম বাসা থেকে আনতাম!
জ্বলছে খুব?
আরে না গাধি! এর থেকেও কত কাটা-ছিড়া গেছে! কিছু হবে না! তুই চিন্তা করতে বসে যাস না আবার!
অই দাঁড়া, ওড়নাটা সুতির আছে, একটা কোণ ছিড়ে তোর হাত বেঁধে দেই! আরে ধুররর! লাগবো না কইলাম! ওড়না ছিড়বি কেন? বদমাইশী তাই না? ওড়না ছিড়ে নতুন ওড়না আমাকে কিনে দিতে বলবি? তাই না?
হহাহা! কিপটা একটা! যা লাগবে না! এখন হাত দে! বেঁধে দেই! একটু রস খাওয়াবে তাও আবার হাত কেটে একাকার! কোন কাজ-ই পারিস না!
হহাহহা! অই অই তুই কি আমাকে শাসন করছিস? না কি খোঁচা মারতেছিস হারামী? দুইটাই বুঝলি এবার?
হহাহা! দেখে চল গাধি! পড়ে যাবি তো! তখন পায়ে কিছু হলে, আমাকে বলবি, কোলে করে নিয়ে যেতে! আমি বাপু কাউরে কোলে নিতে পারুম না!
মানে কি? নিতে পারবি না কেন? আমি কি তোর শাঁকচুন্নিদের মত মুটকি
না কি রে হারামী?
হাহহা! তুই তো ফড়িং! আমার ঘাস ফড়িং!
আর তুই? তুই একটা তেলাপোকা... না না টিকটিকি! না বিলাই রাজা!
অই দেখো- আমি কত সুন্দর করে ফড়িং বললাম, আর উনি কি না কি সব বলে?
অই শোন তোকে না আমি তেলাপোকা দিয়ে রস খাওয়াবো কিন্তু!
ইয়াক! ইয়াক! শালা শয়তান্নী! খাওয়ার আগেই এমন কথা কস! মারুম কিন্তু এইবার! উফস্‌ আর কতদূর ? হাঁটতে পারছি না তো!
এই তো এসে গেলাম, সত্যি হাঁটতে পারছিস না? কোলে নেবো?
ইসসস্‌ শখ কত্ত! কোলে নেবো! যা ভাগ!
এইযে এসে পড়ছি, বস এইখানে, আমাই রসের হাড়ি আনি অই ঝোপ থেকে! অহোও! গ্লাস আনা হয়নি যে! খাবি কিভাবে?
তুই হাড়ি নিয়ে আয়, তারপর আমি তোর মুখে ঢেলে দেবো আর তুই আমার মুখে!
বাপস্‌! তোর মাথায় তো বুদ্ধি কিলবিল করতেছে! ঘুমাস ক্যামনে ?
চলে যাবো কিন্তু এখন!
অই দেখো- একটুতেই রাগ করে গাল ফুলায়! একটু মজা করতেও পারবো না?
যা তো নিয়ে আয়! এই নে, হা কর এবার! অল্প দিস কিন্তু, আমি অত খেতে পারবো না... তুই খাবি আমি দেখবো কেমন!
হা কর? হাআআআআআ! হইছে তো!
এইবার তুই হা কর! হাআআআ! এই নে তেলাপোকা আর টিকটিকি সহ রস ঢেলে দিলাম তোর মুখে...হাহহাহ!
ইয়াক ইয়াক... ধুস্‌ শাল খামুই না! দিলি তো খাওয়াটা নষ্ট করে! এত কষ্ট করে সেই ভোরে ঘুম থাইকা উইঠা রস চুরি করলাম আর তুই খাইতেই দিলি না!
হাহহা যখন-ই রস খাবি, মনে পড়বে আমাকে, তাই বললাম...
কি রে রসের গ্লাস হাতে নিয়ে বসে আছিস যে, খাচ্ছিস না? কি চিন্তা করিস? ঝুল বারান্দায় বসে রসের গ্লাস হাতে নিয়ে মেয়েটি হারিয়ে গিয়েছিলো কোথাও ... চমকে ওঠে পাশে বসে থাকা কাজিনের ডাকে...! না কিছু না, কিছু ভাবছি না।। বলেই মেয়েটি রসের গ্লাস হাতে নিয়ে উঠে যায় কিচেনের দিকে... সিঙ্কে গিয়ে ফেলে দেয় সবটুকু রস... অনুভব করে... গাল বেয়ে নেমে আসছে... নোনা জল... !
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×