somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলি - ২

১৮ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলের বিষয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে আমার ওপরে নেমে আসে পরপর চারটি সাজানো মামলা নামের দুর্যোগ। আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ (প্রথম আলো) সপরিবারে আমাকে নিয় গেলেন পত্রিকাটির ঢাকার কার্যালয়ে। আমার বিরুদ্ধে সাজানো মামলার খড়্গ চালানো শুরু হয় ২০০৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাত থেকে। ১০ সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগ এনে করা একটি মামলাসহ মোট তিনটি মামলা করা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমরা প্রথম আলো কার্যালয়ে পৌঁছাই। সরাসরি চলে যাই মতি ভাইর (প্রথম আলো সম্পাদক) কক্ষে। আমাদের দেখেই মতি ভাই ভীষণ ব্যস্ত হযে পড়লেন। এরই মধ্যে উপ সম্পাদক মুকুল ভাই (আবদুল কাইউম), সুমনা আপা (সুমনা সারমিন), সহযোগী সম্পাদক মিজান ভাই (মিজানুর রহমান খান), বার্তা সম্পাদক লাজ্জাত ভাই (লাজ্জাত এনাব মহসি), প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ার ভাই (আনোয়ার হোসেন চৌধূরি), ওই সময়কার সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আলম ভাই (মো. নুরুল আলম) মতি ভাইর কক্ষে এলেন। ঢাকা অফিসের পৌঁছানোর পরও আমাদের উৎকণ্ঠা কাটেনি। সংক্ষিপ্ত আলাপনে মতি ভাই আমাদের কাছ থেকে জেনে নিলেন সার্বিক পরিস্থিতি। এর পর মামলা সংক্রান্ত কাগজপত্র চেয়ে নিলেন। ওগুলো পর্যালোচনা করে মিজান ভাই বললেন একটি মামলায়ও বিচারিক আদালত বা নিম্ন আদালত থেকে জামিন পাওয়া যাবে না। শুনে অনেকটা ঘাবড়ে গেলাম। মতি ভাই বললেন 'ভয় করো না। ধৈর্য ধরো, আমি নিজে তোমাদের জন্য পত্রিকায় লিখব। আমরা এ মামলাগুলো নিয়ে উচ্চ আদালতে যাব।'
আনোয়ার ভাই আমাদের থাকার খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। প্রথম আলো কার্যালয়ের কাছে একটি হোটেলে উঠলাম আমরা। হোটেলে উঠে মনে হল, এবার হয়তো আমাদের যাযাবর জীবন শুরু হল। হোটেলে মালামাল রেখে চলে গেলাম প্রথম আলো কার্যালয়ে, আমি একা। এদিকে চুয়াডাংগার সাংবাদিক সনি ভাইও (মো. শাহ আলম সনি) সাজানো মামলার শিকার হয়ে সপরিবারে প্রথম আলোর ঢাকা কার্যালয়ে চলে এসেছেন দুদিন আগে। ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে সনি ভাই আর আমি যেন মাণিক-জোড়। সারাক্ষণ একই সঙ্গে।
আদালত বন্ধ থাকায় মামলার জামিন আবেদনের ব্যাপারে কোনো কাজ করা যাচ্ছে না। তবে কৌশলগত দিক নিয়ে নিযমিত আলোচনা হচ্ছে। হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও মতি ভাই নিয়মিত আমাদের জন্য সময় দিতেন। আমাদের বিষয় নিয়ে ভাবতেন। মাঝে মাঝে আমাদের সঙ্গে হাস্য-রস করতেন।
১৩ সেপ্টেম্বর নিউজ ডেস্ক থেকে আলীম ভাই (আলীম উজ জামান) ফোন করে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বললেন। সোজা চলে গেলাম তাঁর কাছে। তিনি আমার হাতে একটা লেখা দিয়ে একটি ডেক্সটপ দেখিয়ে সেটি অন করতে বললেন। আমি ডেক্সটপ অন করার পর পর তিনি আমোকে আরো কিছু কৌশল দেখিয়ে দিয়ে বললেন, এবার এই নিউজটা এডিট (সম্পাদনা) করুন। আমি অতিরিক্ত মনযোগ ও সতর্কতার সঙ্গে সম্পাদনার কাজটি করলাম। কাজ শেষে আলীম ভাইকে জানালে তিনি সেটির একটি কপি প্রিন্ট করে দিতে বললেন। প্রিন্ট কপি তাঁর হাতে দিলাম। তিনি সেটি কয়েকবার পড়লেন। এর পর তিনি দুই তিন বার হাত-তালি দিয়ে ডেস্কের সবাইকে কাছে ডাকলেন। সবাই কাছে আসলে তিনি বললেন, ‌লিপটন ভাই পাস করেছেন। বিষয়িটি সম্পর্কে কিছু না বুঝে আমি বোকার মত আলীম ভাইর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম কিছু সময়।
হ্যাঁ, এর পর থেকে প্রতি দিন আমি আলীম ভাইর সঙ্গে নিয়মিত ডেস্কে কাজ করে যাচ্ছিলাম। সংবাদ সম্পাদনার কাজ। (একজন সাব এডিটর যা করেন)। বিকেল চারটা থেকে রাত ১০টা। কোনো কোনো দিন রাত দেড়টা পর্যন্তও ডেস্কে থেকেছি।
বেশি রাত পর্যন্ত অফিসে থাকায় একটা বাড়তি সুবিধা ছিল। সেটি হল মতি ভাইর সঙ্গে বেশি সময় পাওয়া। রাত দশটার পর মতি ভাই নিউজরুমে ঘুরে ঘুরে সবার সঙ্গে কথা বলেন। বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। আর আমিও মতি ভাইর পেছনে ঘুরঘুর করতাম। আমার জীবনের এত বড় একটা দুর্যোগের পর প্রথম আলোর কার্যালয়ে, মতি ভাইর সান্নিধ্য আমার সকল দুশ্চিন্তা যেন মুছে দিয়েছিল। আমি মনেই করিনি আমার কোনো সমস্য রয়েছে। চারটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভূক্ত আসামী আমি। এত মানসিক চাপের মধ্যেও যখন মতি ভাইর কাছে যেতাম, তখন মনে হত কোনো সমস্যাই নেই আমার। যা কিছু ঝামেলা হচ্ছে সবই তুচ্ছ। মন্ত্র-মুগ্ধের মত শুধু মতি ভাইর কথা শুনতাম। এমনি করে কেটে গেলো অনেকটা দিন। ঈদ ঘনিয়ে আসলো। মতি ভাই বললেন, এক কাজ করো, ঈদের ছুটিতে সপরিবারে বেড়িয়ে আসো। দেশের যেসব যায়গায় যাওয়া হয়নি সেসব যায়গায় ঘুরে আসো। আমরা অফিস থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করে দিই। ঘুরে আসলে মন ভালো থাকবে।
বললাম, বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করছে না। আমরা এখানেই থাকবো। মতি ভাই বললেন, 'ভেবে দেখো।'
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ১১:০৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×