গত ১২ নভেম্বর সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় ওই গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে।
দুপুর তিনটার দিকে ঘরের বাইরে গাছতলায় বসে বাঁশের ঝুড়ি তৈরি করছিলেন দুলাল মালীর (৩৬) স্ত্রী রেখা রানী (২৫)। কাজ করতে করতেই রেখা রানী কথা বলতে থাকেন। তিনি জানান, ২০০৭ সালের ঘুর্ণিঝড় সিডরে তাঁরে ঘরসহ সব কিছু ভেসে যায়। এর পর অনেক কষ্টে নতুন একটি ঘর তোলেন তাঁরা। কিন' অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই আইলার জলোচ্ছাসে আবার ঘরটি ভেসে যায়। পর পর দুটি দুর্যোগে তাঁরা পথেই বসে যান। এর পর তাঁর স্বামী এবং এক দেবর মিলে নতুন করে একটি ঘর তোলেন। এখন তাঁরা সেই ঘরেই থাকেন। তবে প্রত্যেকের সংসার আলাদা।
বাঁশ ও বেতের কাজ করে সপ্তাহে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা উপার্যন করেন দুলাল-রেখা দম্পতি। এতে তাঁদের দুই বছরের একটি মেয়ে শিশু নিয়ে এতে তাঁদের ভালোই কেটে যাওয়ার কথা। কিন' নিজেদের কোনো পুঁজি না থাকায় একটি বেসরকারি সংস'া থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ করেছেন তাঁরা। প্রািত সপ্তাহে ঋণের কিসি-র টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকায় সংসার চালাতে তাঁদের হিমশিম খেতে হয়। এরকম ঋণের বোঝা বহন করতে হচ্ছে এ গ্রামের প্রতিটি পরিবারকেই।
ঘূর্ণিঝড় সিডরের রাতের কথা স্মরণ করে ওই গ্রামের রোশনে আলী মৃধা (৬৬) বলেন, ‘হেই রাইতে মনে হইছিল আসমান ভাইঙ্গা আমাগো মাথায় পড়ছে। পোলা মাইয়া সব বানের পানিতে ভাসতে আছিল। গাছপালা ধইরা যে যার মত বাচছে। এক ঘণ্টার বানে আমাগো ঘরবাড়িসহ সব কিছু ভাইস্যা গ্যালো।’
আনোয়ারা বেগম (৭০) বলেন, ‘সিডরের বানে বড়জোর কারো কারো পরনের কাপড়ডা ছিল। এ ছাড়া আর কেউ কিছু বাঁচাইতে পারে নাই।’
গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহআলম (৫০) বলেন, সিডর ও আইলা আমাগো ঘরবাড়ি কাইর্যা নিছে। এখন সিডর-আইলা না থাকলেও আমাগো ভোগানি-র শ্যাষ নাই। প্রত্যেক অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ে (জোয়ারে) পুরা গ্রাম পানিতে ডুবে যায়।’
সিডর ও আইলার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না পেরে মো. আমীর আলী, মোহাম্মদ পেয়াদা, কালাম মুন্সি, ফুলবানু, এছাহাক পেয়াদা, বারেক হাওলাদার, বাবুল মৃধা, পুতলী রানী ও সেকান্দার খাঁর পরিবারসহ ১৫ টি পরিবার এ গ্রাম থেকে অন্যত্র চলে গেছে। গ্রাম ছেড়ে গলাচিপা উপজেলা সদরের একটি বস্তিতে ঠাঁই আশ্রয় নেওয়া মো. আমীর আলী (৫০) জানান, সিডরের পরেও তারা মাটি কামড়ে গ্রামটিতে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন' তাদের পূর্নবাসনের জন্য কেউ কোনো সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। আর নিজেদের পক্ষেও ক্ষতি পুষিয়ে সেখানে থাকা সম্ভব হয়নি।
দড়িবাহেরচর গুচ্ছগ্রামের ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর তুলে দেওয়ার জন্য কোনো সহযোগিতা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান গলাচিপা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোজাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডরে গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় মোট ৫৩ হাজার ৩৮০ টি পরিবার কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়িঘর বিধ্বস- হয়েছে ৪০ হাজার ৫০০টি। এরমধ্যে ১৫ হাজার ৫০০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং বাকি ঘববাড়ি আংশিক বিধ্বস- হয়েছে। নতুন করে ঘর তৈরি করে দিয়ে এ পর্যন- নয় হাজার ১০৮টি পরিবারকে পুর্নবাসন করা সম্ভব হয়েছে। দড়িবাহেরচর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের মত যারা এখনো ভোগানি-তে রয়েছেন তাঁদের ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষেরও জানা আছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



