somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের দড়িবাহেরচর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিনিয়তই টিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে। এ গ্রামের ৩৭ টি পরিবারের সবাই ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরে ঘরবাড়ি হারায়। সিডরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আগেই আবার ঘূর্ণিঝড় আইলার ছোবলে ঘরবাড়িসহ সব কিছু ভেসে যায় ওই পরিবারগুলোর। বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির শিকার এ গ্রামের ৩৭ টি পরিবারের মধ্যে ১৮টি পরিবার এখন কোনো রকম টিকে আছে। বাকি পরিবারগুলো বিভিন্ন এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধের ওপর, শহরের বস্তিতে অথবা অন্যের বাড়িতে ডেরা বেঁধে কোনোরকম মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছে।
গত ১২ নভেম্বর সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় ওই গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে।
দুপুর তিনটার দিকে ঘরের বাইরে গাছতলায় বসে বাঁশের ঝুড়ি তৈরি করছিলেন দুলাল মালীর (৩৬) স্ত্রী রেখা রানী (২৫)। কাজ করতে করতেই রেখা রানী কথা বলতে থাকেন। তিনি জানান, ২০০৭ সালের ঘুর্ণিঝড় সিডরে তাঁরে ঘরসহ সব কিছু ভেসে যায়। এর পর অনেক কষ্টে নতুন একটি ঘর তোলেন তাঁরা। কিন' অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই আইলার জলোচ্ছাসে আবার ঘরটি ভেসে যায়। পর পর দুটি দুর্যোগে তাঁরা পথেই বসে যান। এর পর তাঁর স্বামী এবং এক দেবর মিলে নতুন করে একটি ঘর তোলেন। এখন তাঁরা সেই ঘরেই থাকেন। তবে প্রত্যেকের সংসার আলাদা।
বাঁশ ও বেতের কাজ করে সপ্তাহে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা উপার্যন করেন দুলাল-রেখা দম্পতি। এতে তাঁদের দুই বছরের একটি মেয়ে শিশু নিয়ে এতে তাঁদের ভালোই কেটে যাওয়ার কথা। কিন' নিজেদের কোনো পুঁজি না থাকায় একটি বেসরকারি সংস'া থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ করেছেন তাঁরা। প্রািত সপ্তাহে ঋণের কিসি-র টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকায় সংসার চালাতে তাঁদের হিমশিম খেতে হয়। এরকম ঋণের বোঝা বহন করতে হচ্ছে এ গ্রামের প্রতিটি পরিবারকেই।
ঘূর্ণিঝড় সিডরের রাতের কথা স্মরণ করে ওই গ্রামের রোশনে আলী মৃধা (৬৬) বলেন, ‘হেই রাইতে মনে হইছিল আসমান ভাইঙ্গা আমাগো মাথায় পড়ছে। পোলা মাইয়া সব বানের পানিতে ভাসতে আছিল। গাছপালা ধইরা যে যার মত বাচছে। এক ঘণ্টার বানে আমাগো ঘরবাড়িসহ সব কিছু ভাইস্যা গ্যালো।’
আনোয়ারা বেগম (৭০) বলেন, ‘সিডরের বানে বড়জোর কারো কারো পরনের কাপড়ডা ছিল। এ ছাড়া আর কেউ কিছু বাঁচাইতে পারে নাই।’
গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহআলম (৫০) বলেন, সিডর ও আইলা আমাগো ঘরবাড়ি কাইর‌্যা নিছে। এখন সিডর-আইলা না থাকলেও আমাগো ভোগানি-র শ্যাষ নাই। প্রত্যেক অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ে (জোয়ারে) পুরা গ্রাম পানিতে ডুবে যায়।’
সিডর ও আইলার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না পেরে মো. আমীর আলী, মোহাম্মদ পেয়াদা, কালাম মুন্সি, ফুলবানু, এছাহাক পেয়াদা, বারেক হাওলাদার, বাবুল মৃধা, পুতলী রানী ও সেকান্দার খাঁর পরিবারসহ ১৫ টি পরিবার এ গ্রাম থেকে অন্যত্র চলে গেছে। গ্রাম ছেড়ে গলাচিপা উপজেলা সদরের একটি বস্তিতে ঠাঁই আশ্রয় নেওয়া মো. আমীর আলী (৫০) জানান, সিডরের পরেও তারা মাটি কামড়ে গ্রামটিতে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন' তাদের পূর্নবাসনের জন্য কেউ কোনো সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। আর নিজেদের পক্ষেও ক্ষতি পুষিয়ে সেখানে থাকা সম্ভব হয়নি।
দড়িবাহেরচর গুচ্ছগ্রামের ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর তুলে দেওয়ার জন্য কোনো সহযোগিতা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান গলাচিপা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোজাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডরে গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় মোট ৫৩ হাজার ৩৮০ টি পরিবার কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়িঘর বিধ্বস- হয়েছে ৪০ হাজার ৫০০টি। এরমধ্যে ১৫ হাজার ৫০০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং বাকি ঘববাড়ি আংশিক বিধ্বস- হয়েছে। নতুন করে ঘর তৈরি করে দিয়ে এ পর্যন- নয় হাজার ১০৮টি পরিবারকে পুর্নবাসন করা সম্ভব হয়েছে। দড়িবাহেরচর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের মত যারা এখনো ভোগানি-তে রয়েছেন তাঁদের ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষেরও জানা আছে।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট ব্যবসা, বড় আইডিয়া: প্রযুক্তি না নিলে পিছিয়ে পড়বেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩



বাংলাদেশে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা (SMEs) মানেই হচ্ছে “চা খেতে খেতে বিজনেস প্ল্যান” - কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন শুধু চা আর আড্ডা দিয়ে ব্যবসা চলে না, দরকার প্রযুক্তির ব্যবহার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা হযরত রাসূল (সা.), হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ও অন্যান্য সাহাবার (রা.) সমালোচনা করে তাদের সাথে মুসলিম জাতির অপরাংশ কোন দিন ঐক্যবদ্ধ হবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫৮




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইএমএফ কেন ঋণের কিস্তি আটকে দিতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৩


একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে: "যে ব্যক্তি অর্থনীতি বোঝে না, সে রাজনীতিও বোঝে না।" বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের পরিস্থিতি দেখলে মনে হয়, এই প্রবাদটি শুধু সাধারণ মানুষের জন্য নয়, আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেল Last Afternoon

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:০৫

এই পৃথিবীতে শেষ বিকেলে আমরা কেটে ফেলি দিনগুলো
আমাদের শরীর থেকে, আর গুনি সেই হৃদয়গুলো যা আমরা নিয়ে যাব
এবং যেগুলো যাব এখানে রেখে। সেই শেষ বিকেলে
আমরা কোনো কিছুকে বিদায় বলি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ইবনে রুশদ

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



''অজ্ঞতা থেকে ভীতি তৈরি হয়,
ভীতি ঘৃণার সৃষ্টি করে আর ঘৃণা থেকে আসে হিংস্রতা। এটাই নিয়ম।''

– ইবনে রুশদ

ইবনে রুশদ হলেন একজন মুসলিম লেখক।
তিনি আরবী ভাষায় লিখতেন। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×