somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তরমুজ গাছের গোড়ায় পচন, পোকার আক্রমণ

২৫ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পটুয়াখালীর গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয় হাজার তরমুজচাষি তরমুজচারা, ও ফল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। চলতি মৌসুমে এ দুই উপজেলার বেশিরভাগ তরমুজখেতেই গাছের গোড়ায় এক ধরণের পচন দেখা দিয়েছে। যাবপোকা ও মাছিপোকা নামে দুই ধরণের পোকার আক্রমণে বোঁটা থেকে ফল ঝরে যাচ্ছে। পোকা দমনে কীটনাশকও তেমন কার্যকর হচ্ছে না বলে জানান চাষিরা। এ ছাড়া এবছর তরমুজ গাছের এবং ফলের বৃদ্ধিও আশানুরূপ হচ্ছে না বলে চাষিদের অভিযোগ।
গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে তরমুজচাষিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
রাঙ্গাবালীর পশুরবুনিয়া গ্রামের তরমুজচাষি মো. নূর উদ্দিন জানান, তাঁর খেতের তরমুজে গাছে ফল ধরার পরপরই মাছি পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও তিনি পোকা দমন করতে পারছেন না। এ পোকার আক্রমণে গাছের সব ফল বোঁটা থেকে খসে পড়ছে।
গলাচিপার চরবিশ্বাস গ্রামের মো. মহিউদ্দিন জানান, তিনি এ বছর চার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তরমুজের চারায় যখন তিন-চারটি পাতা ছেড়েছে, তখন ‘যাবপোকা’ নামে এক ধরণের পোকা খেতের অনেক চারা নষ্ট করে ফেলে। এ পোকা চারা অবস'ায় কাছের কাণ্ড, পাতা এবং পরবর্তীতে ফুল এবং ফলেও আক্রমণ করেছে। তিনি কোনো অবস্থায়ই কীটনাশক দিয়ে পোকা দমন করতে পারেননি।
গলাচিপার বাউরিয়া গ্রামের মো. আবদুল হাই জানান, তাঁর খেতের চারাগুলো যখন একটু একটু বড় হতে শুরু করে তখন গোড়া ফেটে চারাগুলো মরে যেতে থাকে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসারে বিভিন্ন ছত্রাকনাশক ওষুধ ব্যবহার করেও তিনি চারার গোড়ার পচন ঠেকাতে পারেননি।
নলুয়াবাগী গ্রামের মো. সানু শরীফ জানান, চলতি বছর অনেক তরমুজ খেতের চারা এবং ফলের আশানুরূপ বৃদ্ধি হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে বিভিন্ন চেষ্টা করেও তেমন কোনো লাভ হচ্ছে না।
কৃষকদের এসব সমস্যা নিয়ে আলাপকালে গলাচিপা উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মো. ফজলুল হক জানান, চলতি মৌসুমে গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রায় ছয় হাজার তরমুজচাষি ১০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এ এলাকায় তরমুজের উৎপাদন এবং উৎপাদিত তরমুজের গুণগতমাণ ভালো হওয়ায় প্রতি বছরই তরমুজচাষির সংখ্যা বাড়ছে। গত বছর এ দুই উপজেলায় সাড়ে তিন হাজার চাষি সাত হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন।
কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকা দমন করতে না পারা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ এলাকার তরমুজচাষিরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজেদের খেয়ালখুশি মত কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন। সঠিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার না করার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ ধরণের কোনো পোকা দমন করা জটিল হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে পোকা দমনের জন্য খেতে আলোর ফাঁদ এবং সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
চারার গোড়া ফেটে পঁচে যাওয়ার ক্ষেত্রেও কৃষকদের দায়ী করেন কৃষি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সার, কীটনাশক এবং ওসুধ কোম্পানিগুলোর বিক্রয় প্রতিনিধিদের খপ্পরে পড়ে এলাকার চাষিরা খেতে বেশি মাত্রায় ইউরিয়া সার এবং গাছ ও ফলের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য দ্রুতবর্ধক রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। এতে করে অল্প সময়ে দ্রুত গতিতে বেড়ে ওঠা চারার গোড়া ফেটে পঁচে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ অবস'া থেকে রেহাই পেতে চাষিদের ওইসব রাসায়নিক এবং ইউরিয়া সারের ব্যবহার একদম বন্ধ করতে হবে। আমরা মাঠ পর্যায়ে এমন পরামর্শই দিচ্ছি।’
তরমুজগাছ এবং ফলের আশানুরূপ বৃদ্ধি না হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে ব্যাপক হারে তরমুজ চাষ করা হচ্ছে। তরমুজ চাষের ক্ষেত্রে কৃষকদের ব্যাড-প্রাকটিস (বদঅভ্যাস) হল অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করা। একই জমিতে বছরের পর বছর মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করায় জমির উর্বরতা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে যে সব জমিতে বর্ষাকালে পানি চলাচল করতে পারে সেসব জমিতে স্বাভাবিক ফলন আশা করা যায়। এ বছর যারা এ সমস্যায় পড়েছেন তাঁদের একটু ধৈর্য ধরতে বলা হচ্ছে। সময় একটু বেশি লাগলেও গাছ এবং ফলের বৃদ্ধিটা আসবে।’
মো. ফজলুল হকের দাবি, এত কিছুর পরও এ বছর গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় তরমুজের ফলন ভালো হবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট ব্যবসা, বড় আইডিয়া: প্রযুক্তি না নিলে পিছিয়ে পড়বেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩



বাংলাদেশে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা (SMEs) মানেই হচ্ছে “চা খেতে খেতে বিজনেস প্ল্যান” - কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন শুধু চা আর আড্ডা দিয়ে ব্যবসা চলে না, দরকার প্রযুক্তির ব্যবহার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা হযরত রাসূল (সা.), হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ও অন্যান্য সাহাবার (রা.) সমালোচনা করে তাদের সাথে মুসলিম জাতির অপরাংশ কোন দিন ঐক্যবদ্ধ হবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫৮




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইএমএফ কেন ঋণের কিস্তি আটকে দিতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৩


একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে: "যে ব্যক্তি অর্থনীতি বোঝে না, সে রাজনীতিও বোঝে না।" বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের পরিস্থিতি দেখলে মনে হয়, এই প্রবাদটি শুধু সাধারণ মানুষের জন্য নয়, আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেল Last Afternoon

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:০৫

এই পৃথিবীতে শেষ বিকেলে আমরা কেটে ফেলি দিনগুলো
আমাদের শরীর থেকে, আর গুনি সেই হৃদয়গুলো যা আমরা নিয়ে যাব
এবং যেগুলো যাব এখানে রেখে। সেই শেষ বিকেলে
আমরা কোনো কিছুকে বিদায় বলি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ইবনে রুশদ

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



''অজ্ঞতা থেকে ভীতি তৈরি হয়,
ভীতি ঘৃণার সৃষ্টি করে আর ঘৃণা থেকে আসে হিংস্রতা। এটাই নিয়ম।''

– ইবনে রুশদ

ইবনে রুশদ হলেন একজন মুসলিম লেখক।
তিনি আরবী ভাষায় লিখতেন। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×