somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইনভিজিবল কিলার (অদৃশ্য মৃত্যুদূত) ।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মাস্ক পরা যেন লোক দেখানো একটা আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে চারপাশে । লোক দেখানো নয়, করোনা দেখানো । কিন্তু এই মাস্ক বাঙালিকে মোটেও করোনা থেকে রক্ষা করতে পারবে না । কোনভাবেই না ।

প্রথমত এইসব নামকাওয়াস্তের মাস্ক বিজ্ঞানসম্মত নয় । এন৯৫ নামে যে মাস্ক পরতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছে, এসব আমাদের ডাক্তাররাও সবাই পায় না, আমরাতো বাতিলের খাতায় । করোনা আক্রান্ত রোগি যদি কাছে এসে হাঁচি কাশি দেয়, এসব বিশ পঞ্চাশ টাকা দামের মাস্কের বাপেরও ক্ষমতা নেই আপনাকে রক্ষা করে ।

আপনি অত্যন্ত সচেতন মানুষ । আপনি ঘরের ভেতরেই থাকেন সবসময় । কিন্তু হঠাৎই মনে হলো, বাজারটা না করলেই যে চলছে না আর ।

তো, নিজস্ব পিপিই পরেই বাজারে গেলেন । বাজারে মানুষের কাছ থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বাজার করলেন, তারপর বাসায় ফিরে এলেন । কাছাকাছি কেউ হাঁচি কাশি দেয়নি । যতক্ষন বাইরে ছিলেন, মহামূল্যবান হেক্সাসল পকেট থেকে ক্ষনিক পরপর বের করে করোনাকে দেখিয়ে দেখিয়ে হাতে ঘষেছেন । বাসায় ফিরে সাবান দিয়ে আচ্ছাসে হাতমুখ ধুয়েছেন বিশ সেকেন্ডের যায়গায় এক মিনিট লাগিয়ে । আপনি কি ভাইরাসকে বিদায় করতে পেরেছেন ?

মোটেও না ।

আপনি বাজার থেকে কিনে এনেছেন ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, লাল শাক, বরবটি, বিস্কুট, তেল, আটা, মাছ ইত্যাদি ইত্যাদি । এসবের কয়েকটি আবার নিষিদ্ধ পলিথিনে মুড়ে এনেছেন । কাঁচা বাজারে এবং মুদির দোকানে খোলা পড়ে থাকা সবজি এবং অন্যান্য খাদ্যবস্তুগুলিতে কিন্তু মাস্ক পরানো ছিল না । ওসবের গায়ে হয়তো করোনা ভাইরাস আয়েস করে বিশ্রাম নিচ্ছিল । আপনার বাজারের ব্যাগে ঢুকে কখন তারা আপনার বাড়িতে বেড়াতে চলে এসেছে আপনি তা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি ।

আপনি অতি সতর্ক মানুষ । স্বাস্থ্যবিধি নিখুঁতভাবে মেনে চলেন । তাই বাড়ি ফিরে কিছু সবজি সাবান পানিতে ধুয়ে ফেলে অদৃশ্য ভাইরাসকে বিদায় করতে পেরেছেন বলে মনে মনে যখন আত্মপ্রসাদে ভুগছেন, করোনা ভাইরাস তখন আটা কিংবা বিস্কুটের প্যাকেটে, কিংবা পেঁয়াজের লাল শরীরে বসে খিক খিক করে হাসছে ।

ওদিকে আপনার স্ত্রী বাজার থেকে আনা যে পলিথিনগুলি ফ্রিজে মাছ-মাংশ সংরক্ষন করবে বলে ভাঁজ করে রান্নাঘরে গুঁজে রাখছে, সেগুলিতে বসে তক্কে তক্কে ছিল ভাইরাস । চান্স পেয়েই আপনার স্ত্রীর নরম হাতটা তার অজান্তেই খপ করে ধরে বসেছে ।

আপনি পকেট থেকে টাকাগুলি বের করে সাবান পানিতে ধুয়ে ফেলেননি নিশ্চয়? অসংখ্য হাত ঘুরে আসা নোংরা টাকাগুলির গায়ে হয়তো বহু করোনা ভাইরাস মিটিং করছে । আপনি পকেট থেকে বের করে রেখে দিলেন আলমারিতে । ভাবলেন, যাক্, ভাইরাস এখন আলমারিতে বন্দি ।

সাবধানের মার নেই । কাপড়ে কিছু ভাইরাস লেগে থাকতে পেরে ভেবে বাথরুমে ছুঁড়ে ফেললেন সব । ভালো । কিন্তু আপনি ভুলে গেছেন রাস্তা-ঘাটের রাজ্যের করোনা মেশানো থুতু আর হাঁচি কাশি মাড়িয়ে আসা আপনার চামড়ার স্যান্ডেল জোড়াকে বাথরূমে ছুঁড়ে ফেলতে ।

সাবান দিয়ে হাত ধুয়েছেন, মুখ ধুয়েছেন, মাস্ক ধুয়েছেন, কাপড় ধুয়েছেন, খাদ্যবস্তুগুলি ধুঁয়েছেন, পলিথিনগুলি ফেলে দিয়েছেন, স্যানিটাইজারে ঘর মুছে ফেলেছেন, স্ত্রীর হাতেও ছিল স্যানিটাইজার লাগানো । করোনা ভাইরাস আপনার টিকিটিরও নাগাল পায় নি । খামোকাই বকেছি এতক্ষন ।

গোসল করে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসে ফ্যান ছেড়ে দিয়ে বিশ্বের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে বাজার থেকে দশ টাকায় কিনে আনা পত্রিকাটা বিছানায় খুলে বসেছেন । আরাম করবেন ।

আপনার পত্রিকার পাতায় করোনার খবর নয়, সত্যিকারের করোনা ভাইরাস বসে বসে ঝিঁমুচ্ছিল কয়েক ঘন্টা ধরে । এখন শিকারকে এত কাছে দেখতে পেয়ে সে খুশিতে অট্টহাসি দিয়ে উঠেছে ।

আপনার এক জোড়া কানের ক্ষমতা নেই এত কম ফ্রিকোয়েন্সির অট্টহাসি কোনদিন শুনবে ।

বিঃ দ্রঃ কোন্ বস্তুতে নভেল করোনা ভাইরাস কতক্ষন বেঁচে থাকতে পারে তার একটা তালিকা দেয়া হলো ছবিতে । যদিও বিশেষজ্ঞরা কোন তথ্যের ব্যাপারেই পুরোপুরি নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না এখন পর্যন্ত । গবেষনা এবং পর্যবেক্ষন চলছে ।

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১১:৫৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×