somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রাণহীন তিলওয়াত ।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা সময় আসবে যখন মুসলমানরা নিয়মিত সুর করে সকাল সন্ধ্যা কুরআন তিলওয়াত করবে, নিজেদের সন্তানদেরকে তিলওয়াত করতে শেখাবে । তাদের সমাজে কুরআনের হাফেজ থাকবে, সুললিত কন্ঠের ক্বারী থাকবে । কিন্তু তাদের মাঝে থাকবে না ইসলামের কোন জ্ঞান ।

হযরত যিয়াদ বি লাবীদ (রা) বলেন: একবার আল্লাহ্‌র রাসুল (সা) একটা ভয়ংকর কথা শুনালেন আমাদেরকে । রাসুল (সা) বললেন,
--এমন দিন আসবে যখন ইসলামের জ্ঞান নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাবে ।

--আমি বললাম,
--ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা), ইসলামের জ্ঞান কীভাবে নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাবে? আমরাতো কুরআন নিজেরা পড়ছি, আমাদের সন্তানদেরকেও শেখাচ্ছি । এভাবে আমাদের সন্তানরাও তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে শেখাতে থাকবে ।

রাসুল (সা) বললেন,
--আরে যিয়াদ, আমিতো তোমাকে মদিনার সবচে বুদ্ধিমান লোক মনে করতাম । তুমি কি দেখতে পাও না, ইহুদি ও খৃষ্টানরা তাওরাত ও ইনজীল সবসময় স্রেফ তিলওয়াত করে; কিন্তু তারা এইসব কিতাবের শিক্ষা অনুযায়ী একটুও আমল করে না ?
------ ইবনে মাজা ।

আসলে কবিতার মতো সুন্দর ও সুললিতভাবে আবৃত্তি করে শুধুমাত্র নেকি সংগ্রহ করার জন্য পৃথিবীতে কুরআন নাজিল করেননি আল্লাহতায়ালা । সশব্দে তিলওয়াতের ফলে সৃষ্ট শব্দযাদু থেকে স্রেফ আত্মিক প্রশান্তি কিংবা সাওয়াব পাওয়ার উদ্দেশ্যে কুরআন দেয়া হয়নি ।

কুরআন একটি উপদেশমূলক গ্রন্থ । হিদায়াতের গ্রন্থ । সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য প্রকাশকারী গ্রন্থ । অন্তরের রোগ নিরাময়ের গ্রন্থ । আল কুরআনের অনেক সুরার সূচনাই হয়েছে এই তথ্যগুলি দিয়ে ।

কিন্তু আমাদের সমাজের মুসলমানদেরকে বহুকাল ধরে শেখানো হয়েছে অর্থ না বুঝে শুধু তিলওয়াত বা আবৃত্তি করতে, এবং বারবার কুরআন খতম করে ব্যাপক নেকি বা পয়েন্টস সংগ্রহ করতে ।

কুরআন তিলওয়াত করে চোখ,কান ও অন্তরের প্রশান্তি অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহকে খুশী করাই তাদের অনেকের মুখ্য উদ্দেশ্য । তিলওয়াতের আরেকটি অর্থ যে চিন্তা-ভাবনা করে, অর্থ বুঝে অধ্যয়ন করা তা তাদের অনেকেই জানেন না । দ্বীনি জ্ঞানের অন্যতম উৎস এই কুরআনকে ফেলে তারা অজ্ঞতা দূর করতে নিয়মিতভাবে ছুটেন প্রফেশনাল আলেমদের পেছনে ।

ওদিকে, দ্বীনকে প্রধান পেশায় পরিণত করা, নিজেদেরকে দ্বীনি জ্ঞানের একমাত্র ডিলার মনে করা এ সমাজের কিছু পেশাজীবী আলেম সাধারন মুসলমানদেরকে এমন ধারনা প্রায়ই দেন যে, তাফসির তর্জমা পড়ে সাধারন মুসলমানগন কুরআন বুঝতে পারবে না । কুরআনের অর্থ অনেক গভীর স্তরের । অথচ ঐ তাফসির তর্জমাগুলি কিন্তু তাদেরই তৈরী ।

এ কারনে মুসলমানদের অনেকে অস্বস্তি ও ভয়ে কুরআনের তর্জমা পড়তে সাহসই করেন না । অথচ আল্লাহ কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, তিনি এই কুরআনকে মানুষের জন্য সুস্পষ্ট ভাষায় ও সহজবোধ্য করে নাজিল করেছেন ।

এ সমাজের সাধারন মুসলমানরা কুরআনকে যতোটা না প্রয়োজনীয় গ্রন্থ হিসাবে জানে তারচে বহুগুণে জানেন পবিত্র গ্রন্থ হিসাবে । এজন্য কুরআনকে তারা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে যত্নের সাথে সংরক্ষন করে রাখেন, চুমু দিয়ে নাগালের বাইরে তাকে তুলে রাখেন । অথচ এই গ্রন্থটি ডিকশনারীর মতো একটি নিত্য প্রয়োজনীয় ও ব্যবহার্য্য গ্রন্থ । একই সাথে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ।

রাসুল (সা) বলেছেন,
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বিষয়গুলিকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়—হালাল, হারাম, মুহকাম, মুতাশাবিহ্ এবং উদাহরণ ।
তিনি বলেন, তোমরা হালালকে গ্রহন করো, হারামকে বর্জন করো । মুহকামের (আকীদা, ইবাদত, আমল-আখলাক, আইন-কানুন ইত্যাদি) উপর আমল করো । মুতাশাবিহের (গায়েব তথা বেহেশত, দোযখ, আরশ, কেয়ামত ইত্যাদি) উপর বিশ্বাস রাখো । এবং উদাহরন (অতীতের ধ্বংশপ্রাপ্ত জাতিগুলির কাহিনী) থেকে শিক্ষা গ্রহন করো ।
----মেশকাত শরীফ ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:৩৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×