নারীকে সম্মানিত করেছে ইসলাম-তিন পড়ুন ।
::নারীকে সম্মানিত করেছে ইসলাম-চার:: ইসলাম পূর্ব জাহেলী যুগে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া হত; যে ব্যাপারে হাদীস শরীফে বহু প্রমাণ বিদ্যমান। আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র কুরআনেও ঘোষণা করেছেনঃ
وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ - بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ
অর্থাৎ, "(কেয়ামতের দিন) যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, 'কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল'?" [সূরা আত্-তাকভীরঃ ৮-৯] ইসলাম নারীজাতিকে সেই কঠিন অবস্থা থেকে তুলে এনে সম্মাননার আসনে বসালো এবং ঘোষণা দিল যে, বিচারের দিনে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে।
ইসলাম তখন অনেক দূর এগিয়ে, একদা বনু তামীম গোত্রের সর্দার কায়েস বিন আসেম প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু এর দরবারে এসে ইসলাম কবুলের আকাংখা প্রকাশ করলো। রাসূল তাকে ইসলাম গ্রহণ করালেন। লোকটি কালেমা পড়ে কান্না করছিল। তিনি কান্নার কারণ জানতে চাইলে লোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার গোনাহ্ কি মাফ হয়েছে? তিনি বললেনঃ তুমি যেহেতু ঈমান এনেছ, সেহেতু তোমার অতীতের সমস্ত গোনাহ্ মাফ হয়ে গেছে। লোকটি তবুও স্বস্তি না পেয়ে কান্না করছিল আর বলতে লাগলঃ হে আল্লার রাসূল! আমি যে ভয়াবহ পাপ করেছি, কিভাবে তার ক্ষমা হতে পারে? এ বলে সে বলতে শুরু করলঃ
আমার স্ত্রীকে আমি গর্ভাবস্থায় রেখে ব্যবসা নিয়ে সফরে গেলাম, বহুদিন পর ফিরে এলে স্ত্রী বললো যে, একটি মৃত সন্তান হয়েছিল। তারপর বছর দুয়েক পর ঘরে ফুটফুটে একটি মেয়েকে দেখে জানতে চাইলে স্ত্রী জানালো যে, এই মেয়ে আমাদেরই এবং আমি জীবন্ত কবর দেব এই ভয়ে তাকে সে কোন এক আত্মীয়ের বাড়ীতে বড় করেছে। আমি তাকে আদর করলাম, কিন্তু আমি ছিলাম গোত্র সর্দার, আমার জাহেলি চিন্তা ছিল ভিন্ন। তাই একদিন তাকে বেড়াতে যাব বলে নিয়ে চললাম, নির্দিষ্ট স্থানে পেঁৗছে গর্ত খোঁড়া শুরু করলাম, মেয়েটি গর্ত থেকে মাটি তুলছিল। হায়! সে তখনো জানতে পারেনি যে, নিজের কবর নিজেই খুঁড়ছে! মাটি এসে আমার দাড়ীতে লাগছিল আর মেয়েটি তা ঝেড়ে দিচ্ছে। অবশেষে গর্ত খোঁড়া শেষ হলে আমি মেয়েটির হাত-পা বাঁধতে শুরু করলাম। সে তখন বুঝে ফেলেছিল যে, তাকে আমি হত্যা করতে যাচ্ছি। সে কেঁদে কেঁদে বলছিল যে, আব্বা আপনাকে আমি পিতা বলে পরিচয় দেব না, আমাকে মেরে ফেলবেন না আব্বা! তবুও আমি তার কথায় কান না দিয়ে নির্মমভাবে তাকে গর্তের ভেতর ফেলে দিলাম। তারপর তার মৃতু্য নিশ্চিত করার জন্য একটা বড় পাথর নিয়ে তার বুক বরাবর ছুঁড়ে মারলাম, ফিন্কি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল, আর মেয়েটির সর্বশেষ যে আর্তনাদটি আমি শুনতে পেলাম তা হলোঃ ইয়া আব্বা!!! হে রাসূলঃ আমি এখনো তার সে ভয়ার্ত ডাক শুনতে পাই। আপনি বলুন আমার এই পাপ কি ক্ষমার যোগ্য?
আল্লাহর রাসূল অশ্রু বিসর্জন দিলেন। (হাদীসের ভাব তুলে ধরা হলো শুধু)। তাফসীরে ইবনে কাসীরে ইব্ন আবূ হাতেম কায়স্ ইবনে আসেম থেকে বর্ণনা এসেছে যে, জাহেলী যুগে কায়েস তার বার/তেরটি কন্যাকে জীবন্ত কবরস্থ করেছে। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই কন্যাদের দুনিয়ায় আগমন করার প্রেক্ষিতে সুসংবাদ শোনাচ্ছেন কন্যার পিতা-মাতাকে এভাবেঃ "একটি ঘরে যখন কন্যা সন্তান প্রসব করে কোন নারী, তখন একজন ফিরিশ্তা আসেন সেখানে। তারপর নবজাতিকার শিয়রের কাছে গিয়ে নূরের ডানা বুলায় এবং বলে, এই কন্যা সন্তানকে যে আদব, দ্বীন শিক্ষা দেবে এবং ভালবাসবে, আল্লাহর সাহায্য তার জন্য অবধারিত থাকবে।" ছেলের জন্য এমন কোন বিশেষ কথার ঘোষণা তিনি দেননি। ইসলাম এবং ইসলামের নবী যে মর্যাদা কন্যা সন্তান তথা নারী জাতিকে দিয়েছে; পৃথিবীতে আর কেউ তার নযীর স্থাপন করতে পারেনি।
ইসলাম মূলতঃ দুনিয়ায় এসেছে বঞ্চিতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে, পথভ্রষ্টকে পথ দেখাতে, নিগৃহীতকে উচ্চমর্যাদা দান করতে, সর্বোপরি মানবজাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে সাফল্য সোপানে উন্নীত করতে। তাই যাদের আশ্রয়ে, আদরে একটি কন্যা শিশু বড় হবে, পৃথিবীর এই আবাদে ভূমিকা রাখবে, তারাই যেখানে ছিল তার হত্যাকারী; সেই অতল গহ্বর থেকে তুলে আনতে প্রিয় নবী তার সর্বোচ্চ অবস্থানকে ভাগাভাগি করতেও দ্বিধা করেননি (অবশ্যই তার প্রভূর আদেশে)। তিনি ঘোষণা দিলেনঃ "দুই কন্যার পিতা তাদেরকে (আদর-স্নেহে, শিক্ষায়, আদব-কায়দায়) বড় করলে কেয়ামতে আমি এবং ঐ ব্যক্তি পাশাপাশি অবস্থান করব" [মুসলিমঃ ৪৭৬৫]। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন পুত্র সন্তান জীবিত ছিলেন না; তিনি ছিলেন কন্যাদের পিতা। আর ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু 'আনহাকে তিনি প্রচণ্ড ভালবাসতেন, তাই বলতেনঃ "ফাতেমাকে আমি ভালবাসি, যে ফাতেমাকে কষ্ট দেয় সে মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে কষ্ট দেয়"।
আজকের নারীজাতির উচিত সেই সম্মান দাতার খোঁজ করা; যিনি তাদেরকে পিতৃস্নেহ ফিরিয়ে দিয়েছে। সেই মহাসম্মানিতের আদর্শকে মানা; যিনি তাদের প্রতি ভালবাসা পোষণকারী, তাদেরকে শিক্ষায়-আদবে প্রতিপালনকারীর মহামর্যাদা ঘোষণার মাধ্যমে নারীজাতিকে সমুন্নত করেছেন জগতে ও পরপারে।
(অসমাপ্ত)
নারীকে সম্মানিত করেছে ইসলাম-পাঁচ পড়ুন ।
নারীদের অধিকার ও মর্যাদা বিষয়ে কয়েকটি আলোচনা শুনতে পাবেন এখানে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



