somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@ সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতির নামঃ ইসলাম(২৩)

১৫ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব পড়ুন । ব্যক্তি, সমাজ ও সভ্যতার ধ্বংস সাধনকারী এই নেশাকে শুধু কঠোরভঅবে হারাম ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হয়নি ইসলাম। বরং এর নিষিদ্ধতার আইন-কানুনও শক্তভাবে জারি করেছে এবং এটাই বিজ্ঞতার পরিচায়ক। অন্য সকল মন্দ বিষয়ের মত এক্ষেত্রেও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ তথা নেশার বস্তু সম্পর্কে কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন করে বলেছেনঃ ((সর্বপ্রকার অপকর্ম এবং অশ্লীলতার জন্মদাতা হচ্ছে মদ। এটি পান করে মানুষ নিকৃষ্টতর পাপে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে))। অন্য হাদীসে বলেন, ((মদ এবং ঈমান একত্রিত হতে পারে না))। [নাসায়ীঃ ৮/৩১৫]

আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদের সাথে সম্পর্ক রাখে এমন দশ শ্রেণীর ব্যক্তির উপর লা'নত করেছেন। '(১) যে লোক নির্যাস বের করে, (২) প্রস্তুতকারক, (৩) পানকারী, (৪) যে পান করার, (৫) আমদানীকারক, (৬) যার জন্য আমদানী করা হয়, (৭) বিক্রেতা, (৮) ক্রেতা, (৯) সরবরাহকারী এবং (১০) এর লভ্যাংশ ভোগকারী'। [ইবনে মাজাহঃ ৩৩৮০] এবং এই তিরস্কার সকল নেশার দ্রব্যের সাথেই সমভাবে সম্পর্ক রাখে। তিনি কেবল মাত্র ভয় প্রদর্শন, শিক্ষা ও প্রচার করেই ক্ষান্ত হননি, বরং যথাযথ আইনের মাধ্যমেও ঘোষণা করেছেন যে, যার নিকট কোন প্রকার মদ থেকে থাকে, তা অমুক স্থানে উপস্থিত কর। ইতিহাসে সেদিনই প্রথম এবং হয়ত শেষ মদের বন্যা বয়েছিল মদীনার অলি-গলিতে; মদীনার মুসলমানগণ সে নজীর স্থাপন করেছিলেন।

ফিরে আসা যাক প্রাসঙ্গিকতায়- মদ, মাদক তথা নেশার বস্তুসমূহের বিরুদ্ধে যে জীবন ব্যবস্থার অবস্থান এতটাই সুদৃঢ়, সে বিধানের প্রতি সম্মত সহযোগিতা করতে পারে; নেশাখোর ও সেসবের আয়োজকদের চরিত্র কোনকালেই সে পর্যায়ভুক্ত ছিল না এবং হবেও না। তাই নেশার সন্ধানে যেমন উন্মাদ ওরা ঠিক তেমনি এসবের বিরোধিতাকারী সকল শক্তির বিরোধিতায়ও তারা বদ্ধ উন্মাদ। আর এদের এহেন উন্মাদনাকেই অত্যন্ত সুকৌশলে কাজে লাগায় ইসলামের দুশমনেরা। তারা একদিকে যেমন ইসলামী দুনিয়ায় এসবের অতিমাত্রার প্রসার ঘটানোর মাধ্যমে মুসলমানদের ঐতিহ্যগত শৌর্যকে ধুলিস্মাৎ করে দিতে চায়, মুসলিম যুব শক্তিকে পঙ্গু করে দিতে চায়, ইসলামী চরিত্রকে ধ্বংস করে সেস্থলে কলংকিত অধ্যায় রচনা করতে চায়; তেমনি অন্যদিকে ইসলামের অগ্রগামিতাকে প্রতিরোধ করার জন্য এসব বখে যাওয়া নেশাখোর দুঃশ্চরিত্রদেরকে প্রতিপক্ষ হিসেবেও দাঁড় করিয়ে দিয়ে দুনিয়ার মানুষকে জড়ো করে হাততালি দেয় আর নিজেদের নির্মিত বাস্তবচিত্র দেখে তৃপ্ত হয়। আফসোস সেসব মুসলিম যুব সমাজের জন্য, যারা জানা-অজানায় আটকে যায় শত্রুর পাতা ফাঁদে, পতিত হয় পথে পথে খোঁড়া গর্তে, আর সোচ্চার হয় নিজের বুকে নিজেই ছুরি বসাতে!

বিরুদ্ধবাদী শত্রু শক্তি কোন কালেই এর বেশী কিছু করে দেখাতে পারেনি। মূলতঃ ইসলাম মানবতার বিকাশ ও সুরক্ষায় এমন এক অভেদ্য দেয়াল; যা কেউ কোনদিন মিটিয়ে দিতে সক্ষম হবে না ইনশাআল্লাহ। আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বের পৃথিবীতে প্রচলিত নেশার দ্রব্যের জন্য যে বিধান ইসলাম দিয়েছিল, ঠিক আজ থেকে শত, হাজার, লক্ষ্য বছরও যদি পৃথিবী বেঁচে থাকে তো তখনো ইসলাম মানবতার জন্য সে যুগের উপযোগী আধুনিক রূপেই তার বিধানকে পেশ করতে সন্দেহাতীতভাবে সক্ষম। ইসলামের চির তারুণ্য এখানেই যে, সে যুগের চাহিদা মেটাতে সর্বদাই সফল সক্ষম। আর তাই "সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবন পদ্ধতির নাম- ইসলাম"।
(মন্তব্য কিন্তু হিসেব করে--; এখনো শেষ হয়নি)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম: আপসহীন সংগ্রামের এক জীবন্ত ইশতেহার।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০১




​ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের খতিয়ান নয়, ইতিহাস মূলত লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকা কিছু অবিনাশী কণ্ঠস্বরের গল্প। আজ ২৬ জুন। ১৯৯৪ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এক হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাওয়াত দিয়েছে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭

দাওয়াত দিয়েছে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এক পছন্দের মানুষ দাওয়াত দিয়েছে
তার ‍সুন্দর জেলা দেখার জন্য
আমিও বলেছি চলে আসবো হঠাৎ-
একদিন দেখতে, দেখবো ঘুরে ঘুরে
তার পুরো শহর , তার গ্রাম, তার বাড়ি
বিশেষ করে তাকে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×