আগের পর্ব পড়ুন । ব্যক্তি, সমাজ ও সভ্যতার ধ্বংস সাধনকারী এই নেশাকে শুধু কঠোরভঅবে হারাম ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হয়নি ইসলাম। বরং এর নিষিদ্ধতার আইন-কানুনও শক্তভাবে জারি করেছে এবং এটাই বিজ্ঞতার পরিচায়ক। অন্য সকল মন্দ বিষয়ের মত এক্ষেত্রেও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ তথা নেশার বস্তু সম্পর্কে কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন করে বলেছেনঃ ((সর্বপ্রকার অপকর্ম এবং অশ্লীলতার জন্মদাতা হচ্ছে মদ। এটি পান করে মানুষ নিকৃষ্টতর পাপে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে))। অন্য হাদীসে বলেন, ((মদ এবং ঈমান একত্রিত হতে পারে না))। [নাসায়ীঃ ৮/৩১৫]
আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদের সাথে সম্পর্ক রাখে এমন দশ শ্রেণীর ব্যক্তির উপর লা'নত করেছেন। '(১) যে লোক নির্যাস বের করে, (২) প্রস্তুতকারক, (৩) পানকারী, (৪) যে পান করার, (৫) আমদানীকারক, (৬) যার জন্য আমদানী করা হয়, (৭) বিক্রেতা, (৮) ক্রেতা, (৯) সরবরাহকারী এবং (১০) এর লভ্যাংশ ভোগকারী'। [ইবনে মাজাহঃ ৩৩৮০] এবং এই তিরস্কার সকল নেশার দ্রব্যের সাথেই সমভাবে সম্পর্ক রাখে। তিনি কেবল মাত্র ভয় প্রদর্শন, শিক্ষা ও প্রচার করেই ক্ষান্ত হননি, বরং যথাযথ আইনের মাধ্যমেও ঘোষণা করেছেন যে, যার নিকট কোন প্রকার মদ থেকে থাকে, তা অমুক স্থানে উপস্থিত কর। ইতিহাসে সেদিনই প্রথম এবং হয়ত শেষ মদের বন্যা বয়েছিল মদীনার অলি-গলিতে; মদীনার মুসলমানগণ সে নজীর স্থাপন করেছিলেন।
ফিরে আসা যাক প্রাসঙ্গিকতায়- মদ, মাদক তথা নেশার বস্তুসমূহের বিরুদ্ধে যে জীবন ব্যবস্থার অবস্থান এতটাই সুদৃঢ়, সে বিধানের প্রতি সম্মত সহযোগিতা করতে পারে; নেশাখোর ও সেসবের আয়োজকদের চরিত্র কোনকালেই সে পর্যায়ভুক্ত ছিল না এবং হবেও না। তাই নেশার সন্ধানে যেমন উন্মাদ ওরা ঠিক তেমনি এসবের বিরোধিতাকারী সকল শক্তির বিরোধিতায়ও তারা বদ্ধ উন্মাদ। আর এদের এহেন উন্মাদনাকেই অত্যন্ত সুকৌশলে কাজে লাগায় ইসলামের দুশমনেরা। তারা একদিকে যেমন ইসলামী দুনিয়ায় এসবের অতিমাত্রার প্রসার ঘটানোর মাধ্যমে মুসলমানদের ঐতিহ্যগত শৌর্যকে ধুলিস্মাৎ করে দিতে চায়, মুসলিম যুব শক্তিকে পঙ্গু করে দিতে চায়, ইসলামী চরিত্রকে ধ্বংস করে সেস্থলে কলংকিত অধ্যায় রচনা করতে চায়; তেমনি অন্যদিকে ইসলামের অগ্রগামিতাকে প্রতিরোধ করার জন্য এসব বখে যাওয়া নেশাখোর দুঃশ্চরিত্রদেরকে প্রতিপক্ষ হিসেবেও দাঁড় করিয়ে দিয়ে দুনিয়ার মানুষকে জড়ো করে হাততালি দেয় আর নিজেদের নির্মিত বাস্তবচিত্র দেখে তৃপ্ত হয়। আফসোস সেসব মুসলিম যুব সমাজের জন্য, যারা জানা-অজানায় আটকে যায় শত্রুর পাতা ফাঁদে, পতিত হয় পথে পথে খোঁড়া গর্তে, আর সোচ্চার হয় নিজের বুকে নিজেই ছুরি বসাতে!
বিরুদ্ধবাদী শত্রু শক্তি কোন কালেই এর বেশী কিছু করে দেখাতে পারেনি। মূলতঃ ইসলাম মানবতার বিকাশ ও সুরক্ষায় এমন এক অভেদ্য দেয়াল; যা কেউ কোনদিন মিটিয়ে দিতে সক্ষম হবে না ইনশাআল্লাহ। আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বের পৃথিবীতে প্রচলিত নেশার দ্রব্যের জন্য যে বিধান ইসলাম দিয়েছিল, ঠিক আজ থেকে শত, হাজার, লক্ষ্য বছরও যদি পৃথিবী বেঁচে থাকে তো তখনো ইসলাম মানবতার জন্য সে যুগের উপযোগী আধুনিক রূপেই তার বিধানকে পেশ করতে সন্দেহাতীতভাবে সক্ষম। ইসলামের চির তারুণ্য এখানেই যে, সে যুগের চাহিদা মেটাতে সর্বদাই সফল সক্ষম। আর তাই "সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবন পদ্ধতির নাম- ইসলাম"।
(মন্তব্য কিন্তু হিসেব করে--; এখনো শেষ হয়নি)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


