somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

=পরবাসী মননে শান্তি-স্বপ্ন-বাস্তবতা (২)

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্ব পর্বগুলো পড়ুন-
!@@!462546 !@@!462547 !@@!462548 !@@!462549!@@!462550 !@@!462551 !@@!462552 !@@!462553 !@@!462554!@@!462555 !@@!462556 !@@!462557-!@@!462558-!@@!462559 (!@@!462560)

স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে (ধারাবাহিক সত্য ঘটনাবলী)
=============================

শুরু হলো তদবীর, দিনে যোগাযোগ, ফোন ও অন্যান্য নিতান্তই আত্মসম্মানবোধ বজায় থাকামূলক প্রচেষ্টা এবং রাতে 'সালাতুল ইস্তেখারা'; কারণ, শক্তিমানদের যুলুমের শিকার যখন এমন কেউ হয়, যেখানে তার এর বাইরে কিছুই করার থাকে না, তখন মাথা গরম করে সিদ্ধান্তে পৌঁছার চাইতে ধৈর্য্যই সঠিক পন্থা। 'এক্সিট সীল' পড়ার পর পাসপোর্টধারীকে এমাসের মধ্যেই দেশ ত্যাগ করতে হবে, অথচ একমাস পূর্ণ হওয়ার আর মাত্র তিন/চার দিন বাকী। বন্ধুদের সাথে চলে আমার খুবই সাধারণ আলাপচারিতা, হাসিতামাশা, একথায় সবকিছুই স্বাভাবিক; অনেকেই আশ্চর্য হয়ে বলে- 'ফজলে এলাহি ভাই, আপনার এতবড় বিপদ, আপনি কয়েকদিনের মধ্যে দেশে যাচ্ছেন নিতান্ত অনিচ্ছায়, অথচ আপনি দিব্যি হাসছেন, কিভাবে পারছেন?'

বলি- 'কেন হাসবো না, আমার প্রতিপালক যদি আমার জন্য এদেশে আরো রিয্ক রেখে থাকেন, তো পৃথিবীর এমন কোন শক্তি নেই যে, আমাকে এখান থেকে বের করে দেবে। আর যদি তিনি আমার জন্য এদেশ থেকে ক'দি পর বের হওয়া নির্ধারণ করে থাকেন, তো পৃথিবীর কারো সাধ্য নেই যে, আমাকে এখানে এক মুহূর্তও ধরে রাখবে; অতএব চিন্তা কি, আমার প্রতিপালনের দায়িত্ব তো তাঁরই(আল্লাহর)।' তো অবশেষে একদিন সালাতুল ফজরের পর সূর্যোদ্বয়ের অপেক্ষায় থাকলাম, তারপর ইস্তেখারার সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্নে আসলো স্পন্সরের অফিস কক্ষ, টেবিলে বসা স্পন্সর আর পাশে দাঁড়ানো তার মিসরী ড্রাইভার, তত্ত্বাবধায়ক পাশ ফিরে স্পন্সর পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় তিনটি কাগজ আমার হাতে দিয়ে বললেন নতুন স্পন্সর যেন তার নিকট ফোন করেন।

ঘুম ভাঙ্গলো, মনে মনে আল্লাহকে বললাম- যেন সত্যি হয়। দিন চলে গেল, প্রতিদিনের মতই বন্ধুর দোকানে বসে বসে গল্প করে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ বন্ধুর ফোন বেজে উঠলো, খোঁজ করলো আমাকে, বললো তাড়াতাড়ি চলে আস অমুকের দোকানে। গিয়ে দেখি এ অফিস নয় বরং ইয়ানবোর কাঁচা বাজারের রাস্তাটি, রাস্তার একপাশে দাঁড়ানো তত্ত্বাবধায়কের গাড়ী, সে গাড়ীতে বসা আর তার ড্রাইভার গাড়ীর পাশে দাঁড়ানো, পাশ ফিরে আমার হাতে প্রয়োজনীয় তিনটি কাগজ ধরিয়ে দিয়ে ঠিক স্বপ্নের সবকিছুর মতই বললেন- নতুন স্পন্সরকে বলতে যেন তার নিকট ফোন করেন। আমি স্তম্ভিত! মনে মনে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রশংসায় পঞ্চমুখ, কি আশ্চর্যভাবে মিলে গেল স্বপ্নের সাথে বাস্তবতা, শুধু স্বপ্নে ছিল অফিস কক্ষের চেয়ার টেবিল আর এখানে গাড়ী, চরিত্র তিনজন মিললো, কাগজ তিনটি মিললো, অবস্থানও মিললো, এমনকি পার্শ্ব ফেরা এবং কথাটাও হুবহু মিলে গেল। সোবহানআল্লাহ্।

সেদিনের পর থেকে আমার ঈমান আরো দৃঢ় হলো যে, দয়াময় আল্লাহর নিকট প্রাণের নির্যাস মিশিয়ে কিছু চাইলে তিনি ফিরিয়ে দেন না; আজ না হোক কাল তা দেবেনই, নিশ্চিত। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীও সত্যে পরিণত হলো, যেমনটি তিনি বলেছেনঃ ((যখন তোমাদের মধ্যে কেউ কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজের পদক্ষেপ নেয়ার ইচ্ছা করে, সে যেন দু'রাকা'আত নফল সালাত আদায় করে এবং এ দো'আ পড়ে. . . . (ইস্তেখারার দো'আ)।)) [ইবনে মাজাহঃ ১৩৮৩]। ইস্তেখারা বলতে বুঝায় 'কল্যাণের ইঙ্গিত প্রার্থনা'। প্রবাসের দ্বিতীয় বছরও যখন ব্যবসা শুরু করবো কি করবো না, ভাল হবে না মন্দ হবে; তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম, তখন ইস্তেখারার মাধ্যমে স্বপ্নে দেখতে পেলাম যে, আমি সেই ব্যবসাই করছি, তারপর যতদিন করলাম ভালই পাওয়া হলো। সুতরাং মুমিনদেরও উচিত সব ভালকাজের পূর্বে ইস্তেখারা করা এবং অন্য মুমিনদের সাথে পরামর্শ করা। কারণ, 'যে ব্যক্তি সৃষ্টিকর্তার নিকট ইস্তেখারা করে এবং সৃষ্টজীবের মাঝে মুমিনদের সাথে পরামর্শ করে আর তার কর্মে দৃঢ়পদ থাকে, সে কখনো অনুতপ্ত হয় না।'

(((চলতে দিন না, কি বলেন?)))

ছবির জন্য !@@!463063 যেখানে। ছবি ইয়ানবো পাওয়ার প্লান্ট, তৈল শোধনাগার ইত্যাদির; রাতের এই আলোক মনোরমতা আমি দারুন উপভোগ করতাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১২:৪২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গজব পরিস্থিতি দেশের: বিদ্যুৎ নেই বিল ডাবল

লিখেছেন অর্ক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭



হাহাকার পড়ে গেছে দেশে। গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার নিয়েছে, নিচ্ছে। একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অপরদিকে ভূতুড়ে বিল। অদ্ভুত ব্যাপার। বিদ্যুৎ নেই, নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই বিল কম হওয়ার কথা। সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভাড়াটে কান্নাকারী

লিখেছেন রাজসোহান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



লোকে ভাবে আমরা কান্না বিক্রি করি। আমরা কান্না বিক্রি করি না। আমরা শব্দ বিক্রি করি।

শোকসভায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীরবতা। বক্তা বক্তৃতা শেষ করে বসে পড়লেন, পরের বক্তা এখনো মাইকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×