somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গাজী বুরহান
???? নিজের সম্পর্কে কিছু বলা বা লিখা পৃথিবীর সব কঠিন কাজগুলোর একটি।

লাইফ ইজ বিউটিফুল

০৯ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেইন রোডে দাঁড়িয়ে আছি, হঠাৎ কিছুটা শূন্যের উপর দিয়ে শাঁ করে একটা বাইক পাঁশ কাটিয়ে চলে গেল... মনে হল এই শব্দটাই লাইফ।

গাড়ী করে যাচ্ছি, চোখের সামনে ভাসল আকাশ সম পাহাড়। এই পাহাড়গুলো আমাদের বাড়ি থেকে দেখা যায়। প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠে পাহাড়কে সুপ্রভাত বলে দিন শুরু করি কিন্তু এত এত কাছে থেকে দেখার সুযোগ হচ্ছিলনা। এখন মন চাইছে এখানকার সবচেয়ে উচু পাহাড়ের চূড়ায় ঊঠে মেঘের সাথে ডানা মেলে কিছুক্ষণ উড়তে। কিন্তু পারবনা, দুর্ভাগ্যক্রমে এর সব উচু উচু পাহাড় ভারতের মেঘালয় রাজ্যে পড়েছে। খুব আফসোস হচ্ছে, মনে হচ্ছে দেশ বিভাগের সময় ভারত খুব প্ল্যান করে আমাদের এসব নিয়ে গেছে। আমাদের সাথে অন্যায় করেছে। কিন্তু পরক্ষণে ভাবলাম ভালোই হয়েছে ভারতে এই পর্বত-মালা পড়ায়। নইলে হয়ত দেখারও সুযোগ পেতাম না। এখন তো প্রান খোলে দেখতে পাচ্ছি। ভূমিকম্প থেকে কিছুটা রেহাই পাচ্ছি।সময় মত বৃষ্টি পাচ্ছি।আর কি চাই? শুনেছি চিন নাকি ভারত থেকে মেঘ কিনতে চাচ্ছে। আরব আমিরাতে কৃত্রিম ভাবে পাহাড় তৈরি করা হবে শুধু মেঘের জন্য। পাহাড় খেকোর দল গুলো অতি বৃষ্টি থেকে রেহাই পেতে গাছ তো কাটতই সঙ্গে পাহাড়ও খেয়ে ফেলত।



যেতে হবে লোভা ছড়া চা বাগান। আমি একা না সঙ্গে পাঁচ জন। সেই ঈদের আগের দিন থেকে প্ল্যান...কোথায় যাব? কজন যাব? কিভাবে যাব?
সব শেষে সিদ্ধান্ত হল ঈদের পরের দিন সকাল ৯.৩০ এ বের হব, গন্তব্য লোভা ছড়া।

লোভাছড়াঃ এটি একটি চা বাগান।আমার বাড়ির পাঁশেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে এখনো যাওয়া হয়নি। সেদিন রাস্তা ধরে হাটছিলাম, পিছন থেকে একটা গাড়ী প্যাঁ প্যাঁ করতেছে। বিরক্তি চোখে তাকাতেই দেখি গাড়ির ভেতর থেকে কজন লোক হাত দিয়ে ইশারা করে ডাকতেছে। কাছে যাওয়ার পর একজন বলল 'ভাই আমরা ঢাকা থেকে এসেছি, লোভাছড়া চা বাগান কোন দিকে?'
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসে, কত জনকে যে পথ দেখিয়েছি। আর আমি বাড়ির পাঁশে রেখেই যেঁতে পারছিনা!


মা এসে ঘুম থেকে ডেকে দিয়ে বললেন তর কে যেন ফোন দিয়েছে। আমার বুজতে আর দেরী হলনা ইডিয়টরাই ফোন দিয়েছে। আর সময় প্রতিবারের মত এবারো... হু এখন সময় ১০.৩০!

এবার প্রশ্ন, ওরা আমার ঘরের নাম্বার পেল কোথায়? ৩০ মিনিট ধরে ফোনে ট্রাই করে যখন আমায় পাচ্ছিল না, তখন নাকি ফেইসবুক থেকে আমার চাচাতো ভাইয়ের নাম্বার নিয়ে পেল। হাহা :-B

যাক, তাড়াতাড়ি শাওয়ার সেরে রওয়ানা দিলুম। মেইন রোডে এসে মনে পড়ল ইস! আমি তো সকালে কিচ্ছু খাইনি। এক কাজ করা যায়, সামনের বাজার থেকে কিছু খেয়ে নেয়া যাক, তারা এই রাস্তা দিয়ে যাবে সঙ্গে আমায় নিবে। তার আগে আমার কাজ সমাধা হয়ে যাবে। নইলে ফইন্নি গুলোর জালায় কিচ্ছু খেতে পারবনা। যেই ভাবা সেই কাজ...

যেতে যেতে দেখি একটি পাহাড়ের নিচে ঝুপের মধ্যে কয়েকটি ছোট ছোট গাছের নড়াচড়া। ভয় পেলাম, বাঘ টাঘ নয়ত? কিন্তু না একটি মেয়ে কচুর লতি তুলতেছে। দেখলাম, মনে হল এই দৃশ্যটা দেখার জন্যই লাইফ!!

কিছুক্ষণ যাওয়ার পর দেখলাম একটা ছেলে ৮/১০ বছর হবে, হাতে একটি সিগারেট নিয়ে টানতেছে আর গরু রাখতেছে। মনে হল এইটাই লাইফ!

আমাদের পাশের নৌকার চালকটি এক হাতে স্টিয়ারিং ধরে অন্য হাত দিয়ে নৌকায় উটা পানি ফেলছে। মনে হল এই টাই লাইফ।

ছোট নৌকা শাঁ শাঁ করে এগুচ্ছে। কি নীলাভ পানি! মনে হচ্ছে এই তো আমার দেশের সম্পদ, এই তো হীরের খনি, এই তেল, এই গ্যাস! মনে হচ্ছে এই পানি এখান থেকেই বোতলজাত করা যাবে। কিন্তু তাও কি রাখতে দিল ওই বোকার দল? ল্যাট্রিনের পাইপ সরাসরি নদীতে ছেড়ে দিল। আবর্জনা যা আছে সব নদীতে।



নৌকা এগুচ্ছে তো এগুচ্ছেই। বড় বড় স্রোত এসে চোখমুখ ভিজিয়ে দিচ্ছে মনে হল লাইফ তো এখানেই!

পাঁশের নৌকায় একটি ছেলে নৌকার পিছে দাঁড়িয়ে হিসু করতেছে মনে হল লাইফ তো এই দৃশ্যেই!

যাক, আমাদের জার্নি শেষ হল। ভালোই কাটল। এই কয়েকদিনে মাথাটা হ্যাঁং হয়ে গেছিল। চা গাছের নতুন কুঁড়ি, উচু উচু পাহাড়ের দৃশ্য, নৌকা ভ্রমণ। সব মিলিয়ে মনটাকে কি আর খারাপ রাখতে দিল? নেক্সট রাঙ্গামাটি



নোটঃ 5 MP ক্যমেরা দিয়ে এর চেয়ে ভালো ছবি আসা করা বোকামো হবে :-B

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১:২৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×