somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পতিতা

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি কর্জ: গুগল থেকে

উৎসর্গ: একজন মেয়েকে....। যাকে ২০০৯ সালে কান্দা পাড়ায় বেঁচে দেয়া হয়েছিলো।

স্তব্ধ রাতের নিরবতা ভেঙে
ক্রন্দন ধ্বনি আসে কানে!
ঘুম ভেঙে যায়; জেগে উঠি,
নিষ্পাপ মশকীর মৃদু গুন্জরনে।

সারাঘর জুরে কীটনাশকের বিষাক্ত ধোঁয়া;
কয়েলের তীব্র গন্ধের ভেতর
ঠাঁই বসে এক মশকী!
কি সাহস; কত হিম্মত, আহা!

না, তাকে হত্যা করতে উদ্ধত হয়নি আমি।
মশকীর কাছ থেকে শিখছিলাম!
কেমন করে, কিভাবে ভয়কে দূরে ঠেলে
উপেক্ষা করতে হয় তুলার মতো!
সেই মন্ত্রমুগ্ধ পাঠ নিতেই বসেছিলাম।

মশকীর মতো হিম্মত যদি
উদ্যান শুন্য হৃদে সঞ্চার করে
বটবৃক্ষ করতে পারতাম উপ্ত;
তবে হয়তো তোমাকে বাঁচাতে পারতাম!
হয়তো সহজে বেঁচে যেতে তুমি।
মনের মুকুরে আজো নিভু নিভু আশা সুপ্ত।

আজ তোমার মনের দোয়ার
তীব্র গন্ধযুক্ত!
কখনো নিজের পারফিউমের ঘ্রাণে
কখনো বা অন্য কারো শার্ট থেকে নাও ধার।
মনের ভেতর আছে কি আনন্দ জোয়ার?

ভীষণ অন্ধকার।
নেহায়েত তেলাপোকা ছাড়া সেথা
পাবে না কেহ তৃপ্ত প্রেমের আহার!
তোমাতে কেহ প্রেম পাবে না খুঁজে
পুরষ্কারে মিলে থকথকে জল
গন্ধ ভরে পুঁজে।

তোমার বস্তিতে অল্প কিছু দিন
জায়গা করে দিতে পারবে?
ছারপোকার মতো, কোল বালিশের ভাঁজে
লুকিয়ে থাকবো আমি!
তোমাকে বের করে আনার ফন্দি ফিকির
করবো দিবসযামী।

কিভাবে হিম্মত আসবে হৃদে?
বস্তির জলে স্নান করলে
সাহস পাওয়া যাবে কিছু?
এ জলেই তো মশকীর জন্ম,
তুমিও তো এখানেই বাঁচো!

বস্তির ছোট্ট খুপরি ঘরে,
চার পেয়ে এক নরবড়ে খাটে
কি যে পৈশাচিক সুখে আছো
আমি বুঝতে পেড়েছি ঢের!
চার পা একত্র করলেই কি সুখ পাওয়া যায় টের?

বিশ্রাম নেবার ফুসরত আছে তোমার?
থাকলেও বা কি আসে যায় তাতে!
তুমি তো চলমান এক যন্ত্র
আনন্দ দানের মেশিনে রুপান্তরিত।
মায়া থেকে মেশিনে রুপান্তরের আমি সাক্ষী!
ভয়ংকর সাক্ষী!



কবিতার পটভূমি:

প্রথম যখন টাঙ্গাইল আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হই তখন যানতাম না যে এতো কাছে এ পাড়া। একদিন চৌকি কিনে ভ্যানে করে ফিরে আসার সময় ও পাড়ার রাস্তা দিয়ে আসছিলাম। রাস্তার পাশে দেখি সেজেগুজে অনেক মেয়েরা দাঁড়িয়ে আছে। সাথে থাকা রুমমেট কে জিজ্ঞেস করলাম '' এখানে এতো মেয়ে মানুষ কেন? বিয়ে বাড়ি নাকি।'' আমাকে বলে '' ও দিকে তাকাইস ন্যা, ধইরা নিব তরে। এইটা তো ঐ পাড়া..." পড়ে তার কথায় বুঝতে পাড়ি।

২০০৯ সালের কথা। ফাগুন শেষে শীতের শুরু তখন। টাঙ্গাইল আলিয়া মাদ্রাসার ২য় তলার ৮ নম্বর রুমে থাকতাম। আলিয়া মাদরাসার ছাদ থেকেই কান্দাপাড়া দেখা যায়। একদিন এশার নামাজ পড়ে রুমে আসছি এমন সময় একজন ২২ বা ২৫ বছরের যুবক মাদ্রাসায় আসে। সে কি কান্না..! বলে, ''ভাই আমার বোনকে বাঁচান। আমার বোনকে ঐখানে আইনা বেইচা দিছে।'' আমাদের মধ্যে থেকে একজন গিয়েছিলো ভেতরে সাহস করে। কিন্তু কোন মতে নিজের জান নিয়া ফেরত আসছিলো। যে কাহিনি বর্ণনা করেছিলো তা আরো ভয়াবহ।তারপর লোকটাকে থানায় পাঠিয়েছিলাম। কোন লাভ হয়নি। মানবাধিকার, নারী অধিকার বিভিন্ন স্থানে দৌড়িয়ে শেষমেশ ছাড়াতে পেড়েছিলো কিনা জানিনা.......।

কৃতজ্ঞতা:সুজন ভাইকে (নজসু)..., যার প্রেরণায় পোস্ট করা।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:৪৭
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ৫: অবশেষে শ্রীনগরে!

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:২৬

গাড়ীচালক মোহাম্মাদ শাফি শাহ সালাম জানিয়ে তড়িঘড়ি করে আমাদের লাগেজগুলো তার সুপরিসর জীপে তুলে নিল। আমরা গাড়ীতে ওঠার পর অনুমতি নিয়ে গাড়ী স্টার্ট দিল। প্রথমে অনেকক্ষণ চুপ করেই গাড়ী চালাচ্ছিল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারিদিকে বকধার্মিকদের আস্ফালন!!

লিখেছেন ঘূণে পোকা, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৩৭

জাতি হিসেবে দিনে দিনে আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত মানসিকতা গড়ে উঠছে।
আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যকে বিচার করার এক অসাধারন দক্ষতা অর্জন করতে শিখে গেছি। আমাদের এই জাজমেন্টাল মেন্টালিটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন জনকের চোখে

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:১৬


আমি ছিলাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনারত
হসপিটালের ফ্লোরে —পরিবারের সবাই
প্রতীক্ষার ডালি নিয়ে নতমস্তকে —আসিতেছে শিশু
ফুলের মতোন — ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শুভাগমন
কোন সে মহেন্দ্র ক্ষণে — পরম বিস্ময়ে সেই
... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা প্রেম!

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪০



ইনবক্সের প্রেমের আর কী বিশ্বাস বলো
এসব ধুচ্ছাই বলে উড়িয়ে দেই হরহামেশা
অথচ
সারাদিন ডেকে যাও প্রিয় প্রিয় বলে.....
একাকিত্বের পাল তুলে যে একলা নদীতে কাটো সাঁতার
সঙ্গী হতে ডাকো প্রাণখুলে।

এসব ছাইফাঁস আবেগী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগারদের কিছু ফেসবুক ছবি

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ৮:৩৭


হাজী জুম্মুন আলি ব্যাপারী
:P

জাহিদ অনিক
এখানে কেউ খোঁজে না কাউকে কেউ যায়নি হারিয়ে।

গিয়াস উদ্দিন লিটন ভাই।

শাহিন বিন রফিক
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×