somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিথিলা-সাফাতরা কেন এমন হয়!

২৫ শে মে, ২০১৭ রাত ১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জ্যাকুলিন মিথিলার কথা মনে আছে? মেয়েটি বাংলার সানি লিওন হতে চেয়েছিল। সানি লিওনের বিভিন্ন ছবি থেকে `অনুপ্রাণিত` হয়ে সেই একই ভঙ্গিতে ছবিও তুলেছিল। কিছু সিনেমা আর মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছে। যার পুরোটাই ছিল বিভিন্ন অশ্লীল ভঙ্গিমায় দেহ প্রদর্শন।



এবছরই ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে নিজের ঘরে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলে মরে গিয়েছে মেয়েটি। সহজ বাংলায় যাকে বলে আত্মহত্যা। মানুষ তো স্বপ্ন নিয়েই বাঁচে। মিথিলারও স্বপ্ন ছিল সে বাংলার সানি লিওন হবে। সেই পথে এগিয়েও যাচ্ছিল, তবু সে আত্মহত্যা কেন করলো? এর কারণ হচ্ছে স্বপ্ন আর বাস্তবতার ব্যবধান। মিথিলা জন্ম নিয়েছিল খুবই দরিদ্র একটি পরিবারে। তাদের দিন কাটতো খেয়ে, না খেয়ে। মেয়েটি রূপবতীও নয়। একে তো গরিব, তার ওপর নেই রূপ। এমন একটি মেয়েকে কে মডেল বানাবে! মিথিলা তখন বেছে নিলো সবচেয়ে সহজ পথ, দেহ প্রদর্শন! এবং সে যা চাইছিল, তাই পেয়ে গেল। রাতারাতি পরিচিতি। টাকা, পাকা বাড়িতে থাকা, বিমানে করে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো, ফেসবুকে লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার, সবই তার নগ্নতার বিনিময়ে পেয়েছিল।

মেয়েটির আত্মহত্যার পর আমি তার ফেসবুক প্রোফাইলে একবার ঢুকেছিলাম। তার অনেকগুলো পোস্টে দেখেছি শিশুদের ছবি দিয়ে ক্যাপশন লিখেছে- এরকম একটি বাচ্চা হলে আর কিছু চাই না। নিজের নগ্নতার বিনিময়ে পাওয়া পরিচিতিও চায় না সে। শুধু দেবশিশুর মতো একটি শিশু চায়। নিজের ভেতরের মাতৃত্বকে অস্বীকার করতে পারে কোন নারী! মেয়েটি বিয়েও করেছিল। যতদূর জানা যায়, তার স্বামী আর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মনোমালিন্য থেকেই তার এই আত্মহত্যা!

বাংলাদেশের কারো পরিবারই চাইবে না তাদের ঘরের মেয়েটি বা বউটি এমন হোক। মিথিলা তবু হতে চেয়েছিল। হয়েছিলও কিছুটা। তারপর আত্মহত্যা করেছে। তার এই আত্মহত্যার পেছনে দায়ী তার প্রত্যাশা আর বাস্তবতার সাথে ফারাক। বাস্তবতা কঠিন। সেখানে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। বিনা কষ্টে প্রাপ্ত অর্জন আবার কোনো কারণ ছাড়াই হারিয়ে যাবে- এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

একজন মডেল কিংবা অভিনেত্রী হতে হলে যে কঠোর অধ্যাবসায় দরকার, মিথিলা তা করেনি। শুধু মিথিলাই নয়, জীবনের নিগূঢ় যে অর্থ তা আর এ প্রজন্মের কজন ছেলেমেয়ে জানে? কজন ভেবে দেখে, পৃথিবীতে তার আসার অর্থটা মূলত কী? কী কাজ আছে তার করণীয়? সমাজব্যবস্থা তো বটেই, এর জন্য দায়ী আমাদের পরিবারও। কয়টি পরিবারে শেখানো হয়, তোমার জীবনটা তোমার একার নয়। পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছ সৃষ্টিকে ভালোবাসার জন্য। এখানে যেটা শেখানো হয়, সেটা হলো অসুস্থ প্রতিযোগিতা। অমুক ফার্স্ট হয়েছে, তোমাকেও হতে হবে। অমুক বিখ্যাত হয়েছে, তোমাকেও হতে হবে। সন্তানকে নিজের দায়িত্ব তাকে নিজেকে নিতে শেখানো হয় না।

দেশের বাইরে আমার কখনো যাওয়া হয়নি। ইউটিউবের কল্যাণে যতটা দেখেছি, উন্নত বিশ্বের সবগুলো দেশে শিশুকে নিজের হাতে খেতে শেখানো হয়। যেখানে আমাদের দেশের মায়েরা `ওলে ওলে বাবু, খাও নাহয় বাঘ আসবে বলে` শিশুর পেছন পেছন ঘুরে খাবার খাওয়ায়। যার পেছনে নষ্ট করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।


আজ তাই দরিদ্র পিতার মেয়ে মিথিলার আত্মহত্যা আর শিল্পপতির ছেলে সাফাতের ধর্ষক হয়ে ওঠা একইসূত্রে গাঁথা। এরা দুজনই না চাইতেই, বিনা পরিশ্রমে অনেককিছু পেয়ে গিয়েছে। বাস্তবতা, অধ্যাবসায়, পরিশ্রম, সাফল্য- এসব শব্দের মানে এরা জানে না। শিল্পপতির ছেলেটি বাবার টাকা খেয়ালখুশি মতো উড়িয়েছে, দরিদ্র মেয়েটি তার শরীর দেখিয়ে বিনা কষ্টে পরিচিতি পেতে চেয়েছে। কিন্তু অসঙ্গতি ছিল তাদের স্বপ্ন আর বাস্তবতায়। বাস্তব জগতে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হলে যে লড়াই জানা দরকার, তা তারা কখনো শেখেনি। তাদের দরকার পড়েনি। কারণ তারা বিনা পরিশ্রমেই অনেককিছু পেয়ে গিয়েছে। আর এই কারণেই হারিয়েও ফেলেছে। একজন আত্মহত্যা করে পরপারে, আরকেজন ধর্ষণ করে জেলে। সচেতনতার সময় কি এখনও আসেনি? নাকি পুরো দেশটাই ধীরে ধীরে জেলখানা হয়ে যাবে!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১৭ রাত ১:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×