somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চলচ্চিত্র সমালোচনাঃ ডুব (২০১৭)

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



“ঢাকা অ্যাটাক” মুক্তির পর থেকে বাংলা চলচ্চিত্রাঙ্গনে বেশ ফুরফুরে একটা আবহাওয়া যাচ্ছিলো। কখনো রিভিউ না দেয়া কিংবা লিখতে না জানা মানুষ গুলোও সিনেমাটির প্রতি তাদের ভাল লাগা প্রকাশ করেছে। বেশ তৃপ্তির একটি দৃশ্য। এমন একটা পরিস্থিতিতে খুব প্রত্যাশা নিয়ে ডুবের প্রথম শো দেখে ফেললাম এবং এক রাশ হতাশা নিয়ে বের হওয়া লাগলো।

অবশ্য প্রত্যাশার সাথে ভয়ও ছিলো। প্রত্যাশার কারন ফারুকীর ব্যাচেলর, মেইড ইন বাংলাদেশ, থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার ও টেলিভিশন বেশ ভাল লেগেছিল। বিশেষ করে বলাকা সিনেমাহলে টেলিভিশন দেখে বেশ আনন্দ পেয়েছিলাম। সাথে ইরফান খানের মতো বড় মাপের অভিনেতার প্রথম বাংলাদেশী চলচ্চিত্র। আর ভয় ছিল কারন আরেকটা “পিপড়াবিদ্যা” না দেখতে হয়।



কেন ভাল লাগেনি সেই আলোচনায় চলে যাই। প্রথমত অফ-ট্রাকের তথা আর্ট ফিল্ম গুলোর ক্ষেত্রে দর্শকদের প্রত্যাশা থাকে কোন মন মুগ্ধকর গল্পের আদলে তৈরি হবে। যে গল্পের সিনেমা দেখে দর্শক গভীরভাবে ভাববে, পর্দার চরিত্রগুলোর গল্প হৃদয় ছুঁয়ে যাবে, জীবনবোধের অন্য এক সচিত্র অনুভব করা যাবে। সিনেমার চরিত্রের বেদনায় নিজে বেদনা সিক্ত হবে। সেই দিক থেকে “ডুব” ব্যার্থ।

প্রাথমিক দৃষ্টিতে অথাৎ ট্রেইলার, আলোচনা-সমালোচনা দেখে মনে হয়েছিল ডুব মূলত পারিবারিক টানাপোড়ন-দ্বিধাদ্বন্দ্বের গল্পের আদলে তৈরি করা মানসম্মত ড্রামা নির্ভর সিনেমা হতে যাচ্ছে। কিন্তু সিনেমার টোন এমন থাকলেও কোথাও এসবের সঠিক উপস্থাপন ছিল বলে মনে হয়নি। কোন চরিত্রের প্রতি রাগ লাগলোনা, প্রেমবোধ ও সহমর্মিতা জাগলো না, ভাল খারাপ কিংবা উভয় উপস্থিতি নিয়ে মনে কোন সংশয় সৃষ্টি হয়নি। তাছাড়া সিনেমাটি দেখা শুরু করার পর থেকে যতই সময় যাচ্ছিলোনা ততই ভাবছিলাম “এখন ভাল লাগছেনা, সামনে হয়তো বিশেষ কিছু আসবে” কিন্তু এটা ভাবতে ভাবতেই সিনেমা শেষ হয়ে গেলো। সুতরাং সিনেমাটি ভাল লাগার প্রশ্নই উঠেনা।



আর যদি হুমায়ূন আহমেদের বায়োপিক প্রসঙ্গে বলি তাহলে বলবো এটাকে বায়োপিক না বলে বড়জোর পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার জন্য “ইনস্পায়ার্ড” বলা যায়। কেন বায়োপিক মন হয়নি আমার? মনে আছে হুমায়ূন স্যার যেদিন মারা যান সেদিন কুমিল্লার মেসে বসে পত্রিকা পড়ছিলাম, এক বড় ভাই এসে বললেন খবরে দেখাচ্ছে হুমায়ূন আহমেদ মারা গেছেন। অনেকক্ষণ মন খারাপ ছিল। কিন্তু এই সিনেমায় জাবেদ হাসানের মৃত্যুতে আমার খারাপ লাগেনি কেন? অথবা জাবেদ হাসানের কিছু সিদ্ধান্তের প্রতি অভিমান কাজ করেনি কেন? এত বছর পরে তাহলে হুমায়ূন আহমেদের প্রতি আমার ভালোবাসা বা অভিমান কমে গেছে? নাহ, কমেনি। বরং আমার অনুভূতি জাগানোর মত উপাদান ছিলনা সিনেমায়। সিনেমা এক কথায় বলতে গেলে “তিনি আসলেন , চা খেলেন এবং চলে গেলেন” এই চা খাওয়া আর চলে যাওয়ার মাঝখানে গুরুত্বপূর্ণ বা মনে দাগ কাটার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি।



একটা ব্যাক্তিগত তিক্ততা শেয়ার করি, শ্যামলী সিনেমাহলে মুভি দেখি অনেক বছর হল, কিন্তু এবারের মতো বাজে অভিজ্ঞতা হয়নি কখনো। কিছু থার্ড-ক্লাস দর্শক ছিল হলে যাদের বিরক্তিকর চিক্কার চেঁচামেচি, অহেতুক ও খোঁড়া শ্রুতিকটু মন্তব্য খুবই পীড়া দিয়েছে সারাক্ষণ। সবার প্রতি অনুরোধ থাকবে দয়া করে সিনেমাহলের পরিবেশ নষ্ট করবেন না। আপনার কারনে অন্যদের সিনেমা দেখায় ডিস্টার্ব হোক এটা কখনোই কাম্য নয়।

যাক এই হচ্ছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর “ডুব” নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত মতামত। আমি চেষ্টা করেছি সম্পূর্ণ সৎ থেকে নিজের মতামত জানানোর, তৈলাক্ত রিভিউ দিয়ে নিজের কাছে নিজে ছোট হতে পারবোনা। সিনেমাটি দেখা না দেখা এখন একান্তই আপনাদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ২:১৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×