somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ৫ দিনব্যাপী উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের অনুষ্ঠান ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর গোপন কার্যক্রম নিয়ে একটি পর্যালোচনা

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৯১ সালের বাংলাদেশে ‘র’ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলো মি. মহাপাত্র। ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের কূটনীতিকের ছদ্মাবরণে তিনি ছিলেন ইন্টেলিজেন্স ক্যাডারের কর্মকর্তা। ১৯৯১ সালের পর প্রায়শই ভারতীয় দূতাবাসের উদ্যোগে কথক নাচের আয়োজন করা হতো। সেখানে মি. মহাপাত্র সুপ্রশিক্ষিত স্ত্রী থাকতেন আসরের মধ্যমনি। পৃথিবীখ্যাত ভারতীয় কথক নাচের ঐসব অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতো দেশবরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে বিরোধী দল এমনিক সরকারের বহু হোমরা চোমড়া মন্ত্রীদের। আপাত দৃষ্টিতে নাচ দেখার জন্য সেখানে দাওয়াত কবুল করতে কোন মন্ত্রী আপত্তির কিছু দেখতেন না। সরল বিশ্বাসে উপস্থিত হতেন কথক নাচ দেখার জন্য। অথচ এই নাচের ফাকে ফাকে বা আপ্যায়নের সময় মি. মহাপাত্রসহ ভারতীয় কূটনীতিকদের ছদ্মাবরণে থাকা র’ অপারেটিভগণ মন্ত্রী, এমপিদের কাছ থেকে আলাপছলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন লাভ করতেন তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসঙ্গেও ভারতের অনুকূলে আদায় করতেন অসংখ্য সুবিধা। এভাবে চলে গেছে বেশ কয়েকদিন। পরবর্তীতে বাংলাদেশী গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের নজরে আসার প্রেক্ষিতে সরকারি উচ্চপর্যায়ে এনিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে এ ধরনের অনুষ্ঠানে সরকারি দলের সদস্যদের যোগদান বন্ধ হয়ে যায়। তবে তাই বলে যে কথক নাচের আসরসহ বিভিন্নরূপ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আড়ালে র’ তার কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছিলো তা কিন্তু নয়। বরং অসংখ্য নাট্যশিল্পী সঙ্গীতশিল্পী বুদ্ধিজীবি কলামিস্ট যারা জ্ঞাতসারে বা অবচেতনভাবে র’ এর চক্রে জড়িয়ে গিয়েছিলো তাদের আনাগোনা এসব অনুষ্ঠানে মোটেও হ্রাস পায়নি। তথ্য আদান-প্রদান করনীয় সম্পর্কিত নির্দেশ লেনদেন রুটিন ওয়ার্ক চলেছে স্বাভাবিকভাবে।
(বই: “গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা: বাংলাদেশে র”: অধ্যায়-১০, পৃষ্ঠা-২২২। লেখকের সূত্র: ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত এনএসআই’র মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত দু’জন উর্ধ্বতন সেনা কমকর্তার সাক্ষাৎকার)
উপরের দলিল দেখলে বোঝা যাচ্ছে, ১৯৯১ সালের পর ভারতীয় দূতাবাসের উদ্যোগে ভারতীয় কথক নৃত্যের আয়োজন ছিলো মূলত র’এর সদস্য রিক্রুট করা এবং বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি উপলক্ষ মাত্র।
সময় পাল্টেছে, এখন সবকিছুই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অনুকূলে। এখন আরো বড় পরিসরে আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়েছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের অনুষ্ঠান। গত বছর হয়েছে ৪দিন, এবার বেড়ে হয়েছে ৫দিন (বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে, আগামীকাল সোমবার শেষ হবে)। অনুষ্ঠানের উদ্ভোধন করে দিয়েছে খোদ বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী-সংস্কৃতিমন্ত্রী। উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে ছিলো ভারতীয় রাষ্ট্রদূত, আমেরিকান রাষ্ট্রদূত। অনুষ্ঠানের স্পন্সর এনজিও ব্র্যাক, ধর্মান্তরিত স্কয়ার। প্রচারের দায়িত্ব প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, মাছরাঙা টিভির মত চিহ্নিত বাইরের মদদপুষ্ট মিডিয়াগুলো। আর অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলো ভারত থেকে আসা একঝাক গায়ক-বাদক-নৃত্যশিল্পী ।
এ অনুষ্ঠান শুধু উচ্চাঙ্গ সংগীত সম্মেলন নয়, বরং বিদেশী এজেন্ট সম্মেলন বলতে পারেন,
-এখানে নতুন সদস্য রিক্রুট হবে
-পুরাতন সদস্যদের আলাপ-আলোচনা হবে
- সংস্কৃতির নাম দিয়ে বাংলাদেশীদের ব্রেইন ওয়াশ হবে
- ভারতীয় ভালোবাসা প্রবেশ করানো হবে
- বাংলাদেশকে শোষন করার নতুন কোন পরিকল্পনা গৃহিত হবে।
সর্বপরি, এগুলো দেখে একসময় অভ্যস্থ হয়ে যাবে বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজ। তখন তাদের ভারতীয় আগ্রাসন দেখে আর গায় চুলকোবে না, সীমান্তে ফেলানীর ঝুলন্ত লাশ দেখে গা শিউরে উঠবে না, ভারতীয় সেনারা বাংলাদেশে ঢুকে গেলে মুখ দিয়ে কথা বের হবে না। প্রত্যেক শিক্ষিত সমাজ তখন মনে প্রাণে বিশ্বাস করবে, বলতে থাকবে: “থাক না, ভারতই তো ভালো, তাদের সংস্কৃতি কত ভালো। আমার খুব পছন্দ। বাংলাদেশ ভারত হলে কতই না ভালো হতো।”
অনুষ্ঠানের সূত্র খবর:
১) বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব এবার পাঁচ দিন (http://goo.gl/cjhkD8)
২) পর্দা উঠলো বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের (http://goo.gl/EHoHa1)
৩) উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের প্রথম দিন (http://goo.gl/tssOTE)
৪) অনুষ্ঠান আয়োজকদের ফেসবুক লিঙ্ক: http://goo.gl/yjFz7A
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৪৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×