somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্তরের বাগান১৩

২০ শে মে, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অন্তরের বাগান ১৩

দুনিয়া প্রীতি এবং প্রতিকার

"হে ভাই,দুনিয়ার সহিত ভালোবাসা রেখোনা,
কারন দুনিয়া তোমার সাথে চিরকাল থাকিবেনা।"


আমার প্রিয় ইমাম,আমি যার কিতাব থেকে সর্বাধিক উপকৃত হয়েছি হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আবু হামেদ মুহাম্মদ গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি দুনিয়ার হাকিকত এবং নিন্দা সম্পর্কে সর্বাধিক লিখেছেন।তিনি কুরআন হাদীসের রেফারেন্স সহ তাত্ত্বিক বিশ্লেষন করেছেন।
আমি শুধু চর্চার জন্য নিজের দিল থেকে দুনিয়ার মুহাব্বত দূর করার নিয়তে কিছু লিখালিখি করছি।আমার পাঠক নাই বললেই চলে,আমার প্রানপ্রিয় কিছু ভাই কিছু ব্লগার আমার ব্লগে আসেন এবং ভাঙাচোরা লেখাগুলো পড়েন,তাদের নিকট ক্ষমা চাচ্ছি,কারন আমি অভিজ্ঞ কোনো লেখক নই,ভুল ত্রুটি থাকতে পারে,এবং আমি সূত্র ও দেইনা অনেক সময়,কারন কোন কিতাবে কবে কোথায় পড়েছি মনে থাকেনা।এখন আমি দুনিয়ার পরিচয় দুনিয়ার নিন্দা এবং দুনিয়ার মুহাব্বত দিল থেকে বের করার উপায় বর্ননা করছি।

"হে প্রান প্রিয়,দিলের কান খোলো,কারন আমি যা বলি তা দিলের কান ব্যাতিত বুঝিতে পারিবেনা।"

"হে ভাই,বাহিরে এক জোড়া কান গাঁধার ও রহিয়াছে,
তবে কি গাধা হক উপদেশ শোনে?"

প্রথমে কিছু শের রচনার চেষ্টা করছি,তারপর মূল আলোচনা করি,

" হৃদয়ে তোমার রহিয়াছে জটলা,দেখিলেনা কখোনো খুলে,
কোন সে পানে চলিছো ছুটিয়া,প্রভুর মায়াভরা দুয়ার ভুলে।"
হারাইয়াছো নিজেকে কোন জঙলায়,কোন গর্তে দিয়াছো পাও,
মরিচীকার পেছনে ছুটিয়া চলিয়া, জীবনটা দিয়াছো ফাও।।

(আমি এই সূরে কবিতা লিখতে অভ্যস্ত নই)
এখন আমার পরিচিত সুরে কিছু কবিতা লিখছি,

"হে দুনিয়ার জাকজমকো,চাকচিক্য,দূর হও সামনে থেকে,
তুমি আমার জীবনকে নীরানন্দে অতিষ্ট করে দিয়েছো।

" তোমাকে পেয়ে যে আনন্দিত হয়,সে পাগল ছাড়া কিছু নয়,
তোমাকে হারিয়ে যে ব্যাথিত হয়, সে গাঁধা ছাড়া কিছুই নয়।"

তোমার থেকে প্রয়োজন পরিমান রিযিক ই মূল রিযিক,
আর অপ্রয়োজনীয় রিযিক রিযক নয়, আত্মার ব্যাথা।

"হে দুনিয়া,কত মানুষকে তুমি ধ্বংস করেছো,হিসাব দাও,
কত মানুষকে আফছোস সাগরে নিমজ্জিত করিয়াছে, জানা আছে?

ফেরাউন বাহীনিকে তুমি নিমজ্জিত করিয়াছো!কেন?
ফেরাউন তো তোমাকে অনেক সোহাগ করত,ভালোবাসত!

" নমরুদ তোমাকে কত চাটা চাটত,
আজ কোথায় গেলো নমরুদ আর তার আগুন।"
"আজ নতুন কিছু নমরুদ জন্ম নিয়েছে,
নতুন কিছু ফাঁরাও দুনিয়া খেয়ে যাচ্ছে।"
এরাও কি অনন্তকাল থাকতে পারবে দুনিয়াতে,
কিসের জন্য এরা নিজের জান দিয়ে দিচ্ছে?
"আয় পরোয়ার,দুনিয়ার ধোঁকা থেকে যদি বাঁচিয়ে নেন,
তা হবে আপনার সর্বাধিক অনুগ্রহ থেকে একটি অনুগ্রহ।
"আয় পরোয়ার অনুগ্রহ করেন,আপনি সর্বাধিক দয়ালু,
আপনার মতো অনুগ্রহকারী আগেও নাই পরেও নাই।"
দুনিয়া থেকে বাঁচিয়ে,আপনার দয়ার কোলে রাখেন,
আপনার দয়ার কোল বড় আনন্দদায়ক,প্রশান্তিদায়ক।

যদি কখোনো পথ হারাই,আবার পথে উঠিয়ে নিয়েন
যদি কখোনো ভুল করি ক্ষমা করে দিয়েন।
কত অপরাধ বেয়াদবি করেছি জীবনে,তবুও আশা ছাড়িনি,
কতমানুষ টেনেছে আ পথে কুপথে,তবুও সেদিকে যাইনি।


দুনিয়ার পরিচয়
মানুষের পৃথিবীর জীবনকেই দুনিয়া বলা হয়।

দুনিয়া একটি জায়গার নাম।যে জায়গাটা প্রানীর বসবাস উপযোগী করে সৃষ্টি করা হয়েছে।মানবজাতীর আদি পিতা আদম আলাইহিস সালামকে এই পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।

তাকে কোথায় থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিলো?
=তাকে বসবাসের মনোরম এক জায়গা জান্নাত থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিলো?

কিন্তু কেন তাকে নামিয়ে দেওয়া হলো পৃথিবীতে?
=কেন নামিয়ে দেওয়া হয়েছিলো,এর গোপন এবং প্রকাশ্য অনেক কারন আছে।এটা রহস্য উদঘাটনের বিষয়।কুরআন যতটুকু আমাদেরকে জানিয়েছে এর বাইরে আমরা কিছুই জানিনা।
কুরআন যতটুকু জানিয়েছে তা সূরা বাকারা এবং সূরা আরাফ থেকে জানা যায়।

তা হলো,আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদেরকে বললেন,আমি পৃথিবীতে আমার খলিফা সৃষ্টি করতে চাই।ফেরেশতারা বলল,আপনি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন,যারা পৃথিবীতে গিয়ে রক্তপাত মারামারি,হানাহানিতে লিপ্ত হবে।আমরাই তো নিয়ত আপনার প্রশংসা এবং গুনকীর্তন করছি। তিনি বললেন,আমি যা জানি তোমরা তা জানো না।(অর্থাৎ কেন সৃষ্টি করতে চাই তা আমিই জানি তোমরা তা জানোনা,এই বাক্য মানব সৃষ্টির গোপন কারনের প্রতি ইঙ্গিত দেয়,যা তিনি ছাড়া কেউ জানেনা। আমরা শুধু ধারনা এবং অনুমান করতে পারি।)

দুনিয়া থেকে সবকিছু মূলত নিকৃষ্ট নয়,শুধুমাত্র যা কিছু আত্মার জন্য ক্ষতিকর সেগুলোই নিকৃষ্ট।
কোন কোন বিষয়গুলো আত্মার জন্য ক্ষতিকর?
অনেক বিষয় আছে আত্মার জন্য ক্ষতিকর—
১। অপ্রয়োজনীয় রিযিক।
অপ্রয়োজনীয় হালাল রিযিক ও অনেক৷ সময় আত্মার জন্য ক্ষতিকর হয়ে থাকে।অপ্রয়োজনীয় খাওযা-দাওয়া দেহ আত্মা দুইয়ের জন্যই ক্ষতিকর।

"অপ্রয়োজনীয় আহার ক্ষতিকর হয়ে থাকে।
অপ্রয়োজনীয় বিশ্রাম ক্লান্তি বয়ে আনে।"

২।আত্মার ক্ষতিকর আরেকটি বিষয় হলো,মানুষের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা,সময় কাটানো।
মানুষের সাথে থাকা চেয়ে বর্তমানে একা থাকা ভালো
কারন অধিকাংশ মানুষ নিজেও যিকির করেনা,
অন্যের যিকির ইবাদতেও বাঁধা দেয়।

৩।কাজে তাড়াহুড়ো করা আত্মার জন্য ক্ষতিকর হয়,

"কোনো কোনো সময় তাড়াহুড়া করা দরকার,
আর কোনো কোনো কাজ ধীরে করা উত্তম।"

৪।অনিচ্ছাকৃত বিষয় দূর করতে যাওয়া,সাধ্যতিত কার্যউদ্ধার করতে যাওয়া আত্মাকে আরো বেশি আঘাত করে,এবং বিভ্রান্ত করে,

"হে ভাই।তরিকতের পথে তোমার কিছুই করার নেই,
আবার কোনোকিছু না করেও উপায় নেই।"
বিখ্যাত এই কথাটি বলেছিলেন বড়পীর আব্দুল কাদির জীলানি রহ.

এই কথার অর্থ=অর্থাৎ তোমার সাধ্যের মধ্যে বা ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু কুলোয় ততটুকু কাজ করতে থাকে,আর যা কিছুু সাধ্যের বাইরে,নিশ্চিত থাকো এর জন্য পাকড়াও হবেনা ইনশাআল্লাহ।


সাধ্যের মধ্যে কাজের কিছু উদাহরন,

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া,মানুষের সাথে ভালো ব্যাবহার করা ইত্যাদি আরো অনেক কাজ বান্দার সাধ্যের মধ্যে আছে।

সাধ্যতিত কাজের কিছুু উদাহরন,
অন্তরের অসঅসা দূর করা,কাশফ কারামত,হৃদয়কে পবিত্র করা এগুলো সাধ্যতিত কাজ।
"হে প্রিয়।সম্পূর্ণরুপে নিজেকে তার হাতে ছেড়ে দাও,
অন্তরকে বিশুদ্ধ করা কোনো যেন তেন কাজ নয়"
আত্মার জন্য ক্ষতিকর আরো অনেক বিষয় আছে,
"ধীরস্থিরতার সহিত কাজ করাই উত্তম,
অতিরিক্ত ঝামেলায় জড়ানো আত্মার জন্য ক্ষতিকর।

পরিশেষে এই পর্ব কিছু শের লিখে শেষ করছি,

আমি আত্মাকে পবিত্র করতে চেয়েছি,
এই কাজ অবশ্যই দুঃসাধ্য ব্যাপার।
মহাভাগ্যবান তারা যাদের আত্মা পবিত্র হয়েছে,
প্রভুর ধ্যানেই যারা সদা মগ্ন রয়েছে।
কবরস্থানে দুনিয়ার ধনি গরীব সবাই সমান,
সেখানে বেশি নেক আমলকারীগনই ধনি।

" কবরস্থানকে তুমি নিরব মনে কোরো না,
তুমি জানোনা আফসোস লুকায়িত আছে।
কত আফসোস কবরস্থানের ভিতর রহিয়াছে,
আবার কারো কবরে প্রশান্তির ঝর্ণা বহিতেছে।
কারো কবরে মলিনতা উত্তাপ রহিয়াছে,
কারো কবরের পাশে জান্নাতের ঘ্রান রহিয়াছে।
হে কবর, তুমি অভিনব এক বস্তু,
একটি মাটি,অথচ আচরণে কত পার্থক্য।

"কবর জান্নাতের টুকরা থেকে একটি টুকরা,
অথবা দোজখের গর্ত থেকে একটি গর্ত।

হে অন্তর, তোমার আচরন অভিনব,তোমার হাকিকত গভীর,
কারো জন্য হও আজাবের কারন,কাউকে দাও প্রশান্তি নিবীর।

আরিফদের প্রশান্তি,
যদি চাও সুন্দর এক বাগান ভ্রমন করবে,
তাহলে আরিফদের অন্তর ভ্রমন করো,
প্রশ্ন হয়,কারো অন্তর ভ্রমন কি সম্ভব?
উত্তর হলো,অবশ্যই সম্ভব,অন্তর তো প্রকাশিত!
যখন তুমি আতর ব্যাবসায়ীর নিকটে যাও,
তখন তুমি আতরের স্নিগ্ধ ঘ্রাণ নাকে পাও।
আর যখন কামারের কাছে গিয়ে দাড়াও,
অনিচ্ছায় হলেও আগুনের উত্তাপ পাও।
" মুমিনের চোখে আলো অন্ধকার ধরা পরে,
এজন্যই তারা অন্ধকার থেকে পলায়ন করে।"

যদি মুমিনকে বলো,পুরো দুনিয়া দিয়ে দিবো,
এক ওয়াক্ত নামাজ শুধু ছেড়ে দাও,
মুমিন বলবে,তোমার দুনিয়া নিয়ে তুমি থাকো,
আমার দুনিয়া ভিন্ন, আমার আসমান ভিন্ন।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০২৬ ভোর ৬:৪৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×