'সংখ্যালঘু' শব্দটা আমার কাছে ভীষণ রকম অশ্লীল, বর্ণবাদী এবং চূড়ান্ত সাম্প্রদায়িক বলে মনে হয়।
এই ২০১৩সালের আধুনিক দুনিয়াতেও যখন নিজ দেশে 'সংখ্যালঘু' শব্দটার বহুল ব্যবহার দেখি, কথিত 'সংখ্যাগুরু' সম্প্রদায়ের একজন হিসেবে অত্যন্ত লজ্জা বোধ করি, 'সংখ্যালঘু' ভাই-বেরাদর-বন্ধু-বান্ধবের সামনে নিজেকে খুব ছোট মনে হয়।
স্বাধীনতার ৪২বছর পরেও আমরা দেশটাকে 'সবার' করতে পারলাম না। এ লজ্জা কোথায় রাখি?
আমি মনে প্রাণেই বিশ্বাস করি এই দেশের ৯০ভাগ মানুষ একেবারেই অসাম্প্রদায়িক, সহনশীল, শান্তিপ্রিয়। ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। যার বড় প্রমান ঈদ, দূর্গাপূজা সহ প্রধান ধর্মীয় উত্সবগুলোর সার্বজনীন হয়ে ওঠা। ঈদ-পূজোয় সাধারন মানুষের স্বতস্ফূর্ত আনন্দ -কোলাহলে আমি সাম্য-শান্তিপ্রিয়তা-সহনশীলতা দেখি , ধর্মের উর্ধে ওঠা মানুষের জয়গান দেখি। কয়েকশত বছর ধরে পাশাপাশি সুখে-দুখে বসবাস করে আসা এই মানুষগুলো যতটা না মুসলিম, হিন্দু, কিংবা বৌদ্ধ, তারচেয়ে বেশী বাঙালী।
মুষ্টিমেয় কিছু লোক ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এই ভূখন্ডে সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিয়েছে যুগে যুগে, ক্ষমতার বাণিজ্যের লাভ-লোকসানের হিসেব মিলাতে তৈরী করেছে 'সংখ্যাগুরু' আর 'সংখ্যালঘু' টার্ম!
রাজনীতিবিদেরা নিজেদের প্রয়োজনে ছাড়ে ধর্মের নৌকা, ধর্মান্ধরা সেই নৌকায় লগি ঠেলে আর পালে বাতাস দেয় কাটতির হিসাব করা মিডিয়া, পিষ্ট হই আমরা সাধারন মানুষ।
বিশ্বাস করুন, ওরা বড়জোড় ১০ভাগ, নিজেদের স্বার্থে ধর্মের ব্যারিকেড তুলে আলাদা করার চেষ্টা করছে আমাদের, পালন করছে সেই 'ডিভাইড এন্ড রুল' নীতি!
সময় এসেছে জেগে ওঠার, আসুন জেগে উঠি আমরা, 'সংখ্যাগুরু' আর 'সংখ্যালঘু'র ভূত ভাগাড়ে ছুঁড়ে ফেলে এক হয়ে বর্জন করি ওদের। গড়ে তুলি স্বপ্নের বাংলাদেশ।
যে বাংলাদেশ হবে সকলের।
আসুন জেগে উঠি।
আমরা যদি না জাগি
কেমনে সকাল হবে?
*'সংখ্যালঘু' শব্দটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানাই। জন্মসূত্রে বেশীরভাগ মানুষ মুসলিম হওয়ায় অন্য ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যালঘু বলে বিবেচিত হবে', দিস শিট ইজ নো মোর।
এই দেশে জন্ম নেওয়া প্রতিটা মানুষ এই দেশের নাগরিক, সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একটা সম্প্রদায় কে সংখ্যালঘু ট্যাগ লাগিয়ে আর যাই হোক সমানাধিকার বাস্তবায়ন হয়না।
দেশ থেকে এই কলংক দূর করা এখন সময়ের দাবী।
আসুন সোচ্চার হই এই দাবিতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


