রানা প্লাজার উল্টোদিকের রাস্তায় বসে আকুল হয়ে কাঁদছিলেন মধ্য বয়সী মহিলাটি। তার চুল এলোমেলো, হাতে হলুদের দাগ, বোঝা যায় রান্না ফেলেই ছুটেছেন রানা প্লাজা ধ্বসে পড়ার খবরে।
ক্ষণে ক্ষণে বুক চাপড়াচ্ছিলেন 'আমার বড় বেটারে...আমার বেটার বৌরে' বলে!
তার বড় বেটা মাত্র একসপ্তাহ আগে টুকটুকে একটা মেয়ে বিয়ে করেছে। দুজন আবার একসাথেই কাজ করে। একসাথেই আটকা পড়েছে, খানিকখন আগেও কথা বলছিলো!!
আজকে কাজে যেতেও চায়নি, সুপারভাইজার ধমকাধমকি করায় গেলো!
আমি জানিনা মহিলাটি তার বড় বেটা আর বেটার বৌ কে ফিরে পেয়েছে কিনা।
জানিনা তার বেটা আর কখনো মায়ের হাতে খেতে পারবে কিনা।
জানিনা সন্তানহারা মায়ের হাহাকার আর অভিশাপ আমাদের ছাড় দেবে কিনা।
আমি কেবল জানি আমাদের রাস্তায় নামতে হবে।
ডেকে নিয়ে মানুষ হত্যার বিচার চাইতে হবে।
যেন আর কোন মাকে এভাবে রাস্তায় বসে বুক চাপড়াতে না হয়!
জেগে উঠুন ভাইয়েরা! জেগে উঠুন প্লিজ!
আমার বা আপনার সিরিয়াল এসে পড়ার আগেই!
গার্মেন্টস শিল্প বাঁচানোর নামে বারবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে অপরাধীদের। আমাদের নপুংসকতার মূল্য জীবন দিয়ে শোধ করছে আমাদের বোনেরা, আমাদের ভাইয়েরা।
অনেক হইছে আর না!
রক্ত চুইষা খাইছে, হজম করতে দিমুনা
যে শিল্প বাঁচাতে নিয়মিত শত জীবন বলি দিতে হয়, সেই শিল্প আমাদের দরকার নাই!
আসুন ডেকে নিয়ে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে আগামী পহেলা মে বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও করি। একটাই দাবি সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ী ভবনমালিক ও পোশাক কারখানার মালিকদের গ্রেফতার।
সবাই যোগ দিন, শেয়ার করুন, বন্ধুদের ইনভাইট করুন।
ইভেন্টের লিংক-
মে দিবসে বিজিএমইএ ভবন ঘেরাওঃ রক্ত চুইষা খাইছে, হজম করতে দিমুনা
আমরা না জাগলে এই অসহায় মানুষ গুলোর হয়ে কে কথা বলবে, বলেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


