অতি রূপবতী তরুণীরা আমাকে কেন যেন পাত্তা দেয়না।
আমাকে পাত্তা দেয় মিডিয়াম টাইপের রূপবতীরা। ইহাদের রুপের গৌরব অপেক্ষাকৃত কম, আবেগের পরিমাণ কিঞ্চিত বেশী। আমার আউলা ঝাউলা টাইপ কাজে এরা বিভ্রান্ত হয় এবং প্রেমে পড়ে। বিভ্রান্তি হচ্ছে মিডিয়াম রূপবতী দের প্রেমে পড়ার প্রথম ধাপ।
অবশ্য রূপার কথা আলাদা। সেই একমাত্র অতি রূপবতী তরুণী, যাকে আমিই পাত্তা দেইনা। দূরে দূরে থাকি। ছয়মাসেও একবার দেখা করিনা। ফোন রিসিভ করে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলি, হিমুভাই ফোন রাইখা বাইরে গেছেগা, পরে ফোন করবেন।
আগে রুপা রাগ করতো, ফোন রাখার আগে দুই এক মিনিট কথা বলতো। এখন কিছুই বলেনা, দীর্ঘশ্বাস ফেলে লাইন কেটে দেয়।
দীর্ঘশ্বাস সম্ভবত বাংলালিংক দামে চলতেছে। ইদানিং সবাই আমাকে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। আমার জীবনটা হয়ে গেছে দীর্ঘশ্বাসময়।
আমি অবশ্য এসবে পাত্তা দেইনা। বাবা তার উপদেশ মালায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বলে গেছেন।
"মনুষ্য প্রজাতির বাক্য ও কর্ম যেন তোমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বিন্দুমাত্র ব্যঘাত ঘটাইতে না পারে। তোমাকে চলিতে হইবে তোমার মতো।"
ইদানিং বাবার কথা ভাবতে ভালো লাগেনা। আসলে ভালো লাগেনা কোন কিছুই।
রাস্তায় হাঁটতে ভালো লাগেনা। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ভালো লাগেনা।
রাতে না ঘুমিয়ে ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগেনা।
ভালো লাগেনা মহাপুরুষ টার্মটাই!
আমার আর মহাপুরুষ হতে ইচ্ছে করেনা। ইচ্ছে করে খুব সাধারণ একটা ছেলে হতে। ইচ্ছে করে রুপাকে নিয়ে রিকশা করে সারা শহর ঘুরতে।
ইচ্ছে করে রুপাকে ফোন করে বলি তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা বড় অর্থহীন মনে হয়, তুমি কি তা বুঝতে পারো?
আমি তা বলতে পারিনা। আমরা সকলেই একটা বৃত্তে বসবাস করি।
ইচ্ছে করলেই সে বৃত্ত ভাঙা যায়না। এমনকি হিমুরাও ভাঙতে পারেনা। সে বৃত্তের নাম মধ্যবিত্ত বৃত্ত।
তাইতো আমি বাবার অপূর্ণ স্বপ্নের আকাশসম বোঝা ঘাড়ে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটি। মহাপুরুষ হবার সাধনা করি।
তবে পারিনা।
মন দিয়ে না চাইলে কোন কিছু হয়?
এমন কথা কেঊ শুনেছে কোনদিন?
*একটা সময় হিমু হতে চেয়েছিলাম খুব করে! এখনো যে হিমু হতে ইচ্ছে করেনা, তা না! যখন করে তখন এসব ছাইপাস লিখি।
মধ্যবিত্ত বৃত্ত টাকে বাঁচাই!
*এই লেখাটার উদ্দেশ্য মূলত হিমুর কাছে কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতির দায় শোধ এবং হিমুকে রেহাই দেওয়া।
আমার সবসময়ই মনে হতো হিমুকে আসলে হিমু হতে বাধ্য করা হয়েছে। হিমালয় কখনোই হিমু হতে চায়নি।
মধ্যবিত্ত জীবনে এমন করেই হিমালয় রা বাবা কিংবা মায়ের অপূর্ণ স্বপ্নের আকাশসম বোঝা বহন করতে গিয়ে একটা হাহাকারময় জীবন যাপন করে।
এই ব্যাপারটা আমাকে সবসময়ই পীড়া দিয়েছে।
হিমুর প্রতি এই তীব্র অনুভূতি থেকেই তাকে আরো একবার ফিরিয়ে আনা।
উদ্দেশ্য হিমুকে দিয়ে এই কথাটা বলানো যে তার আর হিমু হতে ইচ্ছে করেনা।
তার মুক্তি পেতে ইচ্ছে করে।
সেই ইঙ্গিত টাই দিতে চেষ্টা করেছি লেখাটায়।
যাহোক এটা একান্তই ব্যক্তিগত দায়বোধ থেকে লেখা, গল্প লেখার উদ্দেশ্যে নয়।
দায় শোধ হয়েছে। হিমু কে নিয়ে এটাই শেষ লেখা।
হিমু আর কখনোই রাস্তায় নামবেনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


