somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিমু এবং মধ্যবিত্ত বৃত্ত

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অতি রূপবতী তরুণীরা আমাকে কেন যেন পাত্তা দেয়না।
আমাকে পাত্তা দেয় মিডিয়াম টাইপের রূপবতীরা। ইহাদের রুপের গৌরব অপেক্ষাকৃত কম, আবেগের পরিমাণ কিঞ্চিত বেশী। আমার আউলা ঝাউলা টাইপ কাজে এরা বিভ্রান্ত হয় এবং প্রেমে পড়ে। বিভ্রান্তি হচ্ছে মিডিয়াম রূপবতী দের প্রেমে পড়ার প্রথম ধাপ।

অবশ্য রূপার কথা আলাদা। সেই একমাত্র অতি রূপবতী তরুণী, যাকে আমিই পাত্তা দেইনা। দূরে দূরে থাকি। ছয়মাসেও একবার দেখা করিনা। ফোন রিসিভ করে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলি, হিমুভাই ফোন রাইখা বাইরে গেছেগা, পরে ফোন করবেন।
আগে রুপা রাগ করতো, ফোন রাখার আগে দুই এক মিনিট কথা বলতো। এখন কিছুই বলেনা, দীর্ঘশ্বাস ফেলে লাইন কেটে দেয়।
দীর্ঘশ্বাস সম্ভবত বাংলালিংক দামে চলতেছে। ইদানিং সবাই আমাকে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। আমার জীবনটা হয়ে গেছে দীর্ঘশ্বাসময়।
আমি অবশ্য এসবে পাত্তা দেইনা। বাবা তার উপদেশ মালায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বলে গেছেন।
"মনুষ্য প্রজাতির বাক্য ও কর্ম যেন তোমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বিন্দুমাত্র ব্যঘাত ঘটাইতে না পারে। তোমাকে চলিতে হইবে তোমার মতো।"

ইদানিং বাবার কথা ভাবতে ভালো লাগেনা। আসলে ভালো লাগেনা কোন কিছুই।
রাস্তায় হাঁটতে ভালো লাগেনা। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ভালো লাগেনা।
রাতে না ঘুমিয়ে ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগেনা।
ভালো লাগেনা মহাপুরুষ টার্মটাই!
আমার আর মহাপুরুষ হতে ইচ্ছে করেনা। ইচ্ছে করে খুব সাধারণ একটা ছেলে হতে। ইচ্ছে করে রুপাকে নিয়ে রিকশা করে সারা শহর ঘুরতে।
ইচ্ছে করে রুপাকে ফোন করে বলি তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা বড় অর্থহীন মনে হয়, তুমি কি তা বুঝতে পারো?

আমি তা বলতে পারিনা। আমরা সকলেই একটা বৃত্তে বসবাস করি।
ইচ্ছে করলেই সে বৃত্ত ভাঙা যায়না। এমনকি হিমুরাও ভাঙতে পারেনা। সে বৃত্তের নাম মধ্যবিত্ত বৃত্ত।
তাইতো আমি বাবার অপূর্ণ স্বপ্নের আকাশসম বোঝা ঘাড়ে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটি। মহাপুরুষ হবার সাধনা করি।
তবে পারিনা।
মন দিয়ে না চাইলে কোন কিছু হয়?
এমন কথা কেঊ শুনেছে কোনদিন?

*একটা সময় হিমু হতে চেয়েছিলাম খুব করে! এখনো যে হিমু হতে ইচ্ছে করেনা, তা না! যখন করে তখন এসব ছাইপাস লিখি।
মধ্যবিত্ত বৃত্ত টাকে বাঁচাই!

*এই লেখাটার উদ্দেশ্য মূলত হিমুর কাছে কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতির দায় শোধ এবং হিমুকে রেহাই দেওয়া।
আমার সবসময়ই মনে হতো হিমুকে আসলে হিমু হতে বাধ্য করা হয়েছে। হিমালয় কখনোই হিমু হতে চায়নি।
মধ্যবিত্ত জীবনে এমন করেই হিমালয় রা বাবা কিংবা মায়ের অপূর্ণ স্বপ্নের আকাশসম বোঝা বহন করতে গিয়ে একটা হাহাকারময় জীবন যাপন করে।
এই ব্যাপারটা আমাকে সবসময়ই পীড়া দিয়েছে।
হিমুর প্রতি এই তীব্র অনুভূতি থেকেই তাকে আরো একবার ফিরিয়ে আনা।
উদ্দেশ্য হিমুকে দিয়ে এই কথাটা বলানো যে তার আর হিমু হতে ইচ্ছে করেনা।
তার মুক্তি পেতে ইচ্ছে করে।
সেই ইঙ্গিত টাই দিতে চেষ্টা করেছি লেখাটায়।

যাহোক এটা একান্তই ব্যক্তিগত দায়বোধ থেকে লেখা, গল্প লেখার উদ্দেশ্যে নয়।
দায় শোধ হয়েছে। হিমু কে নিয়ে এটাই শেষ লেখা।
হিমু আর কখনোই রাস্তায় নামবেনা।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×