১৬ই অক্টোবর জন্মদিন বলেই কিনা, আম্মু নাকি আমার নাম রাখতে চেয়েছিল রুদ্র। নামটা কি করে বদলে গেল, কে জানে। ভালোই হল হয়ত। আমার সাথে রুদ্র নামটা মানাত না।
রুদ্র, এই জঞ্জালের শহরের তোমাকে দরকার ছিল, আমাকে নয়!
তোমার মত কবিতা লিখতে পারি না। কবিতা তো ছাড়ো, আমি গাঁজাখুরি গল্পও লিখতে পারি না। একটা সময় ছবি আঁকতে ভালো লাগত। এখন পেন্সিল নিয়ে বসতে বিরক্ত লাগে।
কিসের ছবি আঁকব?
কিছু আছে আশেপাশে?
যেদিকে তাকাই, শুধু গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে থাকা ইমারত চোখে পড়ে। ওই ইঁট-কাঠের সমুদ্রে এমনকি সূর্য ডুবলেও যেন আর উঠতে চায় না। শহরের মানুষের ঘুমটাও সহজে ভাঙতে চায় না তাই!
একঘেয়ে সবকিছু! একই জিনিস দেখতে দেখতে ক্লান্ত চোখদুটো বন্ধ হয়েও যেন অন্ধকার খুঁজতে চায়।
তন্দ্রা আসে, চোখদুটো নিজে থেকেই বুঁজে আসে কেন জানি।
এই শহরে জানালায় আর আকাশ থাকেনা। এই শহরের আকাশটাও আজকাল ফাঁকা থাকে না। ছাদের উপরে যেন আরেকটা ছাদ গজিয়েছে। মেঘের ছাদ। ধুলা, ময়লা, বালির ছাদ।
বলো, কিসের ছবি আঁকব?
এই শহরে ছবি আঁকা যায় না। হয়ত কবিতাও লেখা যেত না। যদি যায়, তো কিছু ছন্দ-হীন গৎবাঁধা গল্প লেখা যাবে।
একটা গল্প লিখতে পারতাম যদি, সময়টা কেটে যেত ভালোভাবে।
প্রতিবছর ১৬ অক্টোবর আসে। ২৪ ঘন্টা পর চলেও যায় আবার। জীবন বদলায় না একটুও।
রুদ্র, এই জঞ্জালের শহরের তোমাকে দরকার ছিল, আমায় নয়........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

