somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জোৎস্নার কবি

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে ফিরতে অবনের আজ একটু দেরি হয়ে গেছে। তাই অফিসের গাড়িতে বাড়ি ফিরছে। ক্লান্ত শরীরে গাড়ির জানালায় মাথা ঠেকিয়ে চার পাশের মানুষ জন দেখতে দেখতে যাচ্ছে। আজ তার বাড়ি একটু দূরে হয়ে গেছে, কারণ আগে যে বাসায় সে থাকত এখন সেখানে আর থাকে না। নতুন বাসা নিয়েছে তাই সময় ও বেশি লাগছে তার। হঠৎ রাস্তায় গাড়ি থেমে গেল জ্যাম এর কারণে। এই সময় রাস্তার লাইট ও বন্ধ হয়ে গেল। অবন লক্ষ করলো বাইরে দারুণ আলোয় আলোকিত। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে পূর্ণিমার চাঁদ জ্জ্বল জ্জ্বল করছে। পূর্ণিমা তার খুব ভালো লাগে। প্রতি পূর্ণিমার রাতে সে সারা রাত বাড়ির ছাদে কাটায়। কখনো একা কখনো বন্ধুদের সাথে। তবে আজ তার একাই কাটাতে হবে। নতুন বাসার খবর সবার কাছে এখনও দিতে পারে নি। গাড়িতে বসে সে আগের পূর্ণিমায় কি করেছে ভাবতে থাকল। বাসায় পৌঁছালো ১০.৩০ মিনিটে। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে সে ছাদে চলে গেল। দশতালার ছাদ বেশ উঁচু, কিন্তু পাশের ছাদের থেকে অনেকটায় নিচু। নতুন জায়গা নতুন ছাদ তার বেশ ভালই লাগছে। চাঁদটাকেও তার আজ নতুন মনে হচ্ছে। মনে মনে অনেক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে যে আগামী পূর্ণিমায় সে কি কি করবে। মাঝ রাতের পরে সে যখন রুমে ফিরে আসবে ঠিক তখন সে খেয়াল করল দূরে আরেকটা দশতালার ছাদে কে যেন কিছু পড়ছে বা বলছে। পরিষ্কার ভাবে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। অবন অনেক চেষ্টা করল শোনার জন্য সবশেষে তার মনে হলো কেউ কবিতা পড়ছে চাঁদের দিকে তাকিয়ে। অনেক ক্ষণ দাঁড়িও সে তার মুখ দেখতে পেল না। তবে তার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। সে বুঝল্ একটা মেয়ে সেখানে কবিতা পড়ছে। কিন্তু দেখতে পেল না তাকে। এক সময় মেয়েটিও যেন হারিয়ে গেল চাঁদের আলোর ছটায়। অবনের মনে প্রাণে লেগে গেল সে আলোর ছটা। মনের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুর পাক খেতে থাকল। পরদিন আবার সে মেয়েটাকে দেখতে পেল। কিন্তু তার কণ্ঠের আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই সে শুনতে বা দেখতে পেল না। ঠিক একই ঘটনা ঘটতে থাকল বার বার। এভাবেই মাসের পর মাস কেটে গেল।প্রতি পূর্ণিমাতেই তাদের দেখা হয়।জোৎস্না ভেজা মেয়েকে দেখার আকুলতা তার বাড়তেই থাকে তার। কিন্তু তার দেখা পায় না। তার একটায় চাওয়া তার জোৎস্নার কবিকে দেখবে।এর পরও সে অপেক্ষায় আছে অপেক্ষায় থাকে প্রতি পূর্ণিমায় জোৎস্নার ছটায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এরা কারা, কী এদের পরিচয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:৪৮


যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঠিক তাই ঘটছে। ‘আজাদ পার্টি’ নামের একটি নতুন ভূঁইফোড় রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে গতকাল ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে যে মিছিল এবং ঘেরাও কর্মসূচি করা হলো, তা কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×