somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেদিন আমি আমার ইজ্জত হারিয়েছিলাম X(X(X(X(

১২ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ কয়বার ইজ্জত হারাতে পারে ? আর মানুষের ইজ্জত আসলে কোনটা ? যাই হোক, আমি আমার এই সুদীর্ঘ জীবনে ইজ্জত কয়েকবার হারিয়েছি !!! আজকে আবার ইজ্জত প্রায় হারিয়ে ফেলিছিলাম। কাহিনী শুনেন।

আমার বয়স তখন ৫/৬ বছর। নিজের জামাকাপড় নিজেই পড়ি ! একবার আমার জ্বর হওয়াতে আম্মু আমাকে নিয়ে গেলো ডাঃ বাকির কাছে। উনি প্রথমেই আমাকে যা বললেন “আঙ্কেল, তোমার হাফপ্যান্টের চেইন খোলা !”X((X((
আমি তড়িৎ গতিতে আমার ইজ্জত সামলানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু ততক্ষনে অনেক বিলম্ব হয়ে গেছে। চেম্বারে থাকা তার এক সহকারী শুনে দাঁত কেলিয়ে হাসতে লাগলো। আম্মুও হাসতে লাগলো ! ভাবখানা এমন যে আমি বাচ্চা বলে আমার কোনও ইজ্জত নাই !X(X( এর পর থেকে আমি আমার প্প্যান্টের চেইন কিংবা বোতাম বারবার চেক করি। রাস্তায় থাকলে আরও বেশি করি। মেয়েরা থাকলে আরও বেশি করি। বলা যায় না, কখন ইজ্জত পাংচার হয়ে যায়। তবে অনেক সময় মেয়েরা লজ্জা পায়। বিশ্বাস করেন ভাই, কোনও খারাপ ইঙ্গিত না এটা। আমার নিজের নিরাপত্তার খাতিরে করতে হয়।;););)

গতবছর আমারা কয়েক বন্ধু বান্ধবি মিলে বান্দরবন ঘুরতে গেলাম। ;);););)হোটেলে বসে আক রুমে আড্ডা দিচ্ছি (বিঃদ্রঃ- ছেলে মেয়েদের জন্য আলাদা রুম ছিল:((:(()। আমি থ্রি কোয়ার্টার পরে পদ্মাসনে বসে আড্ডা দিচ্ছি খাটের উপর। হঠাৎ এক বান্ধবী আমার দিকে তাকিয়ে হেসে আঙ্গুল তুলল । আমার দৃষ্টি তার আঙ্গুল অনুসরণ করে আমারই বিশেষ জায়গায় এসে স্থির হল !সেখানে কাপড়ের জায়গায় বিশাল এক গর্ত। আমি লাফ দিয়ে খাট থেকে নেমে হামাগুড়ি দিয়ে আরেক রুমে গেলাম। ততক্ষনে সবাই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছেX(X(X(। আমি প্যান্ট পাল্টে এসে দেখি সবাই আমার দিকে তাকায় আর খালি হাসে। ভাইরে , কষ্টে মইরা গেলাম। তবে ইজ্জত পুরা যায় নাই। ভাগ্যিস নিচে প্রতিরক্ষা বর্ম ছিল।

আজ বিকালে কলেজ মাঠে ফুটবল খেলতে গেলাম। বন্ধুরা তখন বলছিল যে আমার থ্রি কোয়ার্টার নাকি সুন্দর। আমি দাঁত বের করে বললাম, কক্সবাজার থেকে কেনা। কিন্তু হাঁটতে গিয়ে মনে হল সেলাই বেশি একটা সুবিধার না। যাই হোক খেলা শেষ হল। আমরা মাঠে গোল হয়ে বসলাম। এবার আমি নিজেই খেয়াল করলাম যে নিচে বিশাল না, মহাবিশাল গ্যাপ। তাড়াতাড়ি উঠে গেলাম। ডন ভাই বলল, “কিরে কই যাস”
“জরুরী ফোন আসছে, মেসে যাই”
“তুই না ফোন আনস নাই?” কামাল ধরে ফেললো।
আমি কোনও মতে ভেগে গেটে গেলাম। ওইখানে গিয়ে চেক করে দেখি কিছুই নাই। এই জিনিস পরে গেলে যেই, না গেলেও একই। সামনে উপরের বর্ডার থেকে ৩ ইঞ্চি নিচ থেকে শুরু করে পেছনে উপরের বর্ডারের ৪ ইঞ্চি নিচ পর্যন্ত ছেঁড়া। এই অবস্থায় রিক্সা নেয়া সম্ভব না।নিলে বরং বেকায়দা। তাই হেটে কলেজ থেকে মেসে রওনা দিলাম। দুই পা এমনভাবে একসাথে লাগিয়ে দ্রুত হাঁটতে লাগলাম যেন কেউ প্রথমবার না বুঝে। লেডিস ক্লাবের সামনে যেতে দেখি সামনে একটু দূরে একটা মেয়ে দাঁত বের করে হাসছে।:((:((:(( আমি তো শেষ। কাছাকাছি হতে দেখি আমাদের ক্লাসের নেপালি এক মেয়ে। হাই জানিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। আরেকটু সামনে দেখি এক জুনিয়র মেয়ে আর তার বান্ধবী। এ আবার আমার ক্লাসমেটের জি এফ। তাড়াতাড়ি চলে এলাম। সর্বশেষ বিপদ ছিল মেসের নিচের গলির পোলাপান। ওরা বিকালে গলিতে ক্রিকেট খেলে। খেলা মনে হয় তুমুল পর্যায়ে ছিল। নাহয় এত মারাত্মক একটা জিনিস মিস করার কথা না। অথবা দাড়িওয়ালা মুরুব্বি দেখে কিছু বলে নাই। সিঁড়িতে উঠে মনে মনে আল্লাহকে ধইন্না দিলাম।আর থ্রি কোয়ার্টারের ইলাস্টিকের ফিতা টানতে টানতে ৫ তলায় উঠে গেলাম।:):):):):)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৩:৪৩
১৫টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাপলা বা শালুকের পরিচিতি, পুষ্টিগুন ও মানব শরীরের উপকারীতা।

লিখেছেন রবিন.হুড, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


শাপলা অতি পরিচিত একটি নাম তাই না! এটি আসলে একটি জলজ উদ্ভিদ। যাকে আমাদের দেশের জাতীয় ফুল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটি শ্রীলংকারও জাতীয় ফুল তবে নীল শাপলা সেখানকার জাতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×