
আপনাদের বলছি খুব ভালো করে শুনুন। এই দেশে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক কারা, জানা আছে কি? তারা হলেন ব্যবসায়ী যারা আবার বেশির ভাগ মন্ত্রী এমপি অথবা কোনো না কোনো ভাবে সমাজের রাঘব বোয়ালদের নিকট আত্মীয়। যখন সরকার বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কে ভ্যাট দিতে বলেছেন তখন তারা তা দিবেন কিন্তু তা কিভাবে দিবেন ? তারা তা দিবে, সুকৌশলে শিক্ষাদান ফি বাড়িয়ে অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফি নাম দিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকেই আদায় করবে। যার অর্থ হলো যা লাউ তাই কদু। এবার আপনাদের প্রশ্ন আমি আগাম কি করে জানলাম, তাই না ? আচ্ছা তাই বলছি আমাদের দেশে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন নামে একটা প্রতিষ্ঠান আছে যারা কোনো সরকারের আমলেই শিক্ষাদান ফি নিয়ন্ত্রণ করেনি কিংবা সত্যিকার অর্থে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মানও নিয়ন্ত্রণ করেনি। দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাকে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় করার অনুমতি দিয়েছে বর্তমান এবং আগের সব সরকার কারণ এই খাতে ব্যবসা বেশ জমজমাট যাকে বলে কাঁচা পয়সা।
আসল কথায় আসা যাক। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় লোকের ছেলে মেয়েরা পড়েন তাই ভ্যাট ধরতে হবে, তা কি ঠিক? তাদের বাবারা প্রতি বছর কর দিচ্ছে তাহলে শিক্ষার মত মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে আবার ভ্যাট কতটা যুক্তিযুক্ত ? আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই যে বড়লোক তা কিন্তু সঠিক নয়। এখানে মধ্যবিত্ত এমনকি নিম্নবিত্ত মেধাবী ছাত্ররাও পড়ে। তারা ভালো ফলাফলের উপরে বিশেষ ছাড় কিংবা স্কলারশিপও পেয়ে থাকে। আবার অনেক ছাত্ররা তো অসহায় তাদের পড়তে হবে কারণ তাদের সুযোগ হয়নি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাই বাবার জায়গা কিংবা শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করেও তারা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এর দ্বারস্থ হয়। কারণ আর কিছু নয় সরকার সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন দিতে পারে না। আর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের রাজনীতি আজ কতটা খারাপ পর্যায়ে গেছে তাতো সবাই জানে। এইসব দেখে কোনো অভিভাবক আজ শংকা মুক্ত নয়।
আমাদের মন্ত্রী এমপিরা বিনা শুল্কে গাড়ি পান। যে দেশের মানুষ দু' বেলা দু' মুঠো ভাতের জন্য আজ হাহাকার করে সেই দেশের মন্ত্রী এমপিদের বিলাসিতা মানায় না ! যারা কালো টাকার মালিক তাদের জন্যে কি ব্যবস্থা করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ? অর্থমন্ত্রী সাহেব আপনি তো বলেছেন চার হাজার টাকা কিছু নয় কারণ শিল্পপতিরা তো আপনাদের খুশি করতে পারে, তাই না ? তাই বলছি যেখানে সমস্যা সেখানে হাত দিতে হবে তবেই সমাধান মিলবে। মনে রাখবেন সবার আগে দেশ এবং জাতীয় স্বার্থ। যদি ভ্যাট ধরতে হয় তাহলে তা উপযুক্ত জায়গায় ধরুন। মৌলিক অধিকারে নয়।
তাই আসুন সবাই দেশকে ভালবাসি দেশের জন্যে এক হই। তবেই আমরা গুটি কয়েক লুটেরাদের প্রতিরোধ করতে সক্ষম হব। তবেই আমরা জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাড়াতে পারব। জয় হোক বাংলার সাধারণ মানুষের যারা শোষণ বঞ্চনার শিকার। শুভকামনা সকলের জন্য।
৫.০০ বিকাল, ১১.০৯.২০১৫, ওজন পার্ক, নিউ ইয়র্ক।
## ছবি গুগলি
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ভোর ৫:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



