somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপসহীনতার নাম খালেদা জিয়া: যন্ত্রণার বিনিময়ে গণতন্ত্রের প্রাচীর

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে একাত্তরের বিভীষিকায় বন্দিত্ব, অল্প বয়সেই বিধবা হওয়া—বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের শুরুটাই ছিল যন্ত্রণার অধ্যায়। এরপর ইতিহাস যেন তাঁকে একের পর এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এরশাদের শাসনামলে তিনবার কারাবরণ, পরবর্তীতে অবমাননাকর বন্দিত্ব, মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে মাত্র ছয় ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি—যেখানে আপনজনের সঙ্গে শোক পালন করার সুযোগও ছিল না। দুই সন্তানকে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে দেখেও তিনি আপস করেননি। শির রেখেছেন চিরউন্নত—এটাই তাঁর জীবনব্রত।

চাইলেই তিনি ভিন্ন জীবন বেছে নিতে পারতেন। একটু আপস, সামান্য সমঝোতা—আরামদায়ক জীবন তাঁর নাগালের বাইরে ছিল না। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছেন যন্ত্রণার পথ, দেশ ও মানুষের স্বার্থে। বিনিময়ে রাষ্ট্র তাঁকে কিছুই দিতে পারেনি; আমরাও পারিনি। তবু তাঁর সুপ্রিম ডিগনিটি ও সুদৃঢ় ব্যক্তিত্বের কাছে একে একে হার মেনেছে অপমান, অপদস্ততা, জেল-জুলুমের সব আয়োজন।

একসময় তিনি আমার রাজনৈতিক পছন্দের তালিকায় ছিলেন না। কিন্তু ২০১৪–পরবর্তী বাংলাদেশের বাস্তবতা, রাষ্ট্রের ক্রমাগত “বাকশাল ২.০”-এর দিকে গড়িয়ে যাওয়া ইতিহাসকে নতুন করে পড়তে বাধ্য করেছে। সেই পুনর্মূল্যায়নে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—বাংলাদেশের তথাকথিত সেকুলার বয়ানের সবচেয়ে বড় ভিক্টিমদের একজন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।

জিয়াউর রহমানের পর তিনি শুধু একটি দলের নেতৃত্ব দেননি; তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক ধরনের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। তাঁর দৃঢ়তা না থাকলে এরশাদবিরোধী আন্দোলন, নব্বইয়ের গণতান্ত্রিক উত্তরণ কিংবা ১৯৯১–পরবর্তী ক্ষমতার ভারসাম্য ভিন্ন পথে যেত। বামপন্থী টোটাল স্টেটের স্বপ্ন বা একদলীয় শাসনের পুনরাবৃত্তি হয়তো আগেই বাস্তব হতো—খালেদা জিয়া ছিলেন সেই সম্ভাবনার সামনে শক্ত দেয়াল।

তিনি নিখুঁত ছিলেন না। ভুল করেছেন, সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু তিনি কখনো গণহত্যাকে বৈধতা দেননি, “আমরা বনাম তারা” দিয়ে দেশকে ছিন্নভিন্ন করেননি। জনগণের চাপ ও জনমতের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল থাকা—এটাই ছিল তাঁর বড় রাজনৈতিক পার্থক্য।

আজ তাঁর চলে যাওয়ার সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের সংকোচনের সমান্তরালতা অস্বীকার করা কঠিন। খালেদার উত্থান ছিল বাংলাদেশের উত্থান; তাঁর পতন ছিল মানুষের অধিকার হারানোর ইতিহাস। তিনি চলে গেছেন। কিন্তু ইতিহাস বলবে—এই ভূখণ্ডকে টোটালিটেরিয়ান রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া থেকে যাঁরা ঠেকিয়েছেন, তাঁদের সারিতে বেগম খালেদা জিয়ার নাম অনিবার্য। আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুন।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:০৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল, ড. ইউনূস, আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তি ও এলিট তৈরির কারখানা - আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ট্রাম্পের সাথে করমর্দনের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ছবিটি ঘিরে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। বছরের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে চুক্তিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা গান: অতীত ও বর্তমান- হৃদয়ে টিকে থাকা সুরের খোঁজে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৩২



বাংলা গান: অতীত ও বর্তমান- হৃদয়ে টিকে থাকা সুরের খোঁজে

রেডিওর ক্র্যাকল শব্দ ভেদ করে ভেসে আসা "আমার সোনার বাংলা", কিংবা কোনো বর্ষার সন্ধ্যায় কাজী নজরুল ইসলামের "কারার ঐ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিউস vs মুসা (আ.)

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



গ্রিক পুরাণে (Greek Mythology) কোনো একজন ঈশ্বর ছিল না , বরং অসংখ্য দেবদেবী ছিল। তবে জিউস (Zeus) হলেন গ্রিক পুরাণের প্রধান দেবতা , সমস্ত দেবদেবীর রাজা আকাশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাক স্পর্শ (এটাকে সুর করে গান করার ইচ্ছে আছে)

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

কুয়াশার ভেতর ফিরে আসি চেনা সেই শহরের পথে,
বিবর্ণ আলো ঘুমিয়ে থাকে পুরোনো কোনো জানালাতে।
একটা নাম আজও কেন নিঃশব্দে ডাকে......
ধুলো জমা সেই পথটাতে পায়ের শব্দ থেমে যায়,
দেয়ালজুড়ে মুছে যাওয়া কত স্মৃতিরেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি রাজধানী ঢাকাকে মেরে ফেলছি ?

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৯

ঢাকাকে সব কিছুর কেন্দ্র বানিয়ে ঢাকার মাথায় আমরা যে দুর্বহ বোঝা তুলে দিচ্ছি তার ভার কি ঢাকা বইতে পারবে? আমরা যদি খুব চেনা কিছু দেশের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×