somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাকিবের জীবনেরএকটি অণু গল্প

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মানুষের জীবনটা ছোটো হলেও যে কয়টি পর্বে বিভক্ত তার প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা ভাবে দেখলে অনেক লম্বাই মনে হয়। অন্তত এই মুহুর্তে তেমনটিই মনে করছে রাকিব। এটা তার ছোটো নাম, পুরোটা রাকিবুল হাসান। শৈশব, কৈশোর, যৌবন, প্রথম কর্মজীবন,বিয়ে,তারপর..., তার পর করতে করতে এক সময় তার আর পর নেই। এই সব নানান বিষয় নিয়ে ভাবতে ভাবতে পার্কের সরু রাস্তা ধরে প্রতিদিনের মত মর্নিং-ওয়াক করতে করতে চিন্তার গভীরে হারিয়ে যাচ্ছিল সে। আজ মনটা তার খুব বিষণ্ণ। গতরাতে ছেলের সাথে একটু, নাহ একটু না ভালই রাগারাগী হয়েছে।নিজেকে খুব অপমানিত বোধ করছে, বিশেষ করে ড্রাইভারের সামনে উঁচুস্বরে সরাসরি কথার প্রত্যাখান, যা চরম বেয়াদবি বলেই রাকিবের কাছে মনে হয়। আর এটা আজই প্রথম নয়। ছেলের বয়সটা যদি টিন-এজ হতো এতটা লাগতো না। কিন্ত সেতো বিবাহিত যুবক। দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতির শিকার। তার উপর হয়ত খুব স্ট্রেসে আছে। রাকিব মনটাকে সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করতে করতে তার নিজের এই বয়সের কথাগুলো স্মৃতি থেকে টেনে আনতে চেষ্টা চালালো। “নাহ, আমি তো ওই বয়সে ছেলের চেয়ে বেশিই করেছিলাম! ”হটাৎ তার বাবার কথা মনে আসতেই চোখটা ভিজে গেল। অনেক কঠোর ব্যবহার করেছে রাকিব তার বাবার সাথে। তখন চিন্তা করার সুযোগ হয়নাই কিংবা তার বাবার কি প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তা দেখারও সময় ছিল না। এখন স্মৃতির পাতায় যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে তার বাবার অসহায়,অন্ধকার গ্লানি মাখানো মুখটা। ঠিক কল্পনা করতে পারছে তার বাবা তখন কি ভাবতো, কি করত। পাশে বসে মায়ের বলা রুটিন সান্ত্বনা বাক্যগুলো শুনে যেত যেমনটি রাকিবের স্ত্রী এখন করে। কিন্তু স্মৃতির কোথাও পেলোনা তার বাবা তাকে কঠিন ভাষা প্রয়োগ করে তিরস্কার করেছে। শুধু মনে আসছে তার কথাগুলো শুনে একদম চুপ থেকে আস্তে করে মাথাটা নিচু করে ফেলেছে। তার পরবর্তী অবস্থা রাকিবের দেখার সুযোগ কখনো হয় নাই কারণ ততক্ষণে সে স্থান ত্যাগ করত। রাকিবের ভেজা চোখ আরো খানিক্ টা ভিজে উঠল।
ভাবতে ভাবতে তার মনেই নেই প্রায় ঘণ্টা খানেক ধরে সে হাটছে। হাটার কথা ৪৫ মিনিট। রাকিবের চিন্তায় ছিল ছেলেকে কঠিন ভাষায় কিছু বলবে। বাসায় ফিরতে ফিরতে ভাবলো, ছেলের এই ব্যবহার তো তার প্রাপ্য।

ছবি সুত্র নেট ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৪
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা ছিলো সোনার কণ‍্যা, মেঘ বরন কেশ!!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:১৩



শাওন প্রশ্ন করেছিলে ৭৮ বছর বয়স্ক একজন মহিলার। অন্তর্বাস উচিয়ে যখন অন্তর্জালে দাঁত মুখ খিচিয়ে উল্লসিত বহু পোস্টে ভেসে যায় ।কিংবা দেয়ালে সরাসরি দি লিখে প্রচার করছিলো তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

×