somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুন
The best and most beautiful things in the world cannot be seen or even touched - they must be felt with the heart---Helen Keller

সুকান্তের ঝলসানো রুটি আর স্টার প্লাসের পোড়া রুটি

১৬ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এই উপমহাদেশের বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা যুদ্ধের আপোসহীন এক সংগ্রামী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য।কলকাতার এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া সুকান্ত মাত্র ২১ বছর বয়সে যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করার আগেই বেশ কিছু কবিতা লিখেছিলেন যার সবই ছিল অসহায়-নিপীড়িত, সর্বহারা মানুষের সুখ, দুঃখ নিয়ে। কবি সুকান্তের কথা ভাবলেই আমাদের মনে পড়ে তার বিখ্যাত কবিতা যেখানে পুর্নিমার চাঁদকে তিনি ঝলসানো রুটি বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাবৎ জাহানের অসংখ্য কবি সাহিত্যিক যে চাঁদকে নিয়ে যুগে যুগে নানা রকম রোমান্টিক গল্প, কবিতা লিখে গিয়েছেন সেখানে বিপ্লবী কবি সুকান্তের কাছে এই চাঁদ কোন রোমান্টিক রূপে ধরা দেয় নি, তার কাছে সে নিছকই ছিল এক ঝলসানো রুটি।

সুদুর গ্রাম থেকে আসা কিশোরী জরিনা ঢাকায় এসেছে নিজের ওঁ তার পরিবারের ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে পরিচারিকা হিসেবে। অভাব কাকে বলে সে এই এতটুকু বয়সেই দেখেছে। এক বেলা এক মুঠো নুন ভাত খেলেও পরের বেলা কি খাবে তার কোন সংস্থান নেই। ভালো করে পেট পুরে খেতে পারবে এই আশ্বাসেই তার ঢাকায় আসা। কিন্ত বাড়ীর জন্য, মায়ের জন্য, ছোট ভাইটার জন্য মন কেমন করে সারাদিন। অন্যান্য অনেক বাসার খালাম্মার মত তার খালাম্মা অত খারাপ না যেমন সে শুনেছে তাদের গ্রামের দু একজনের কাছে।



সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে মাগরেবের আযান পরে, নামাজের পর কাজ থাকে না তেমন কারোরই। জরিনাকে নিয়ে টিভির সামনে বসে খালাম্মা ভাবে বোকা বাক্স দেখে যদি মেয়েটার মন ভালো হয়। একে একে শুরু হয় তার পছন্দের বিখ্যাত সব হিন্দী সিরিয়াল। সেখানে দেখায় আলিশান এক বাংলো বাড়ীর আলিশান বসার ঘরে বসে সবাই কথা বলছে, কিন্ত জরিনা তাদের কথা বোঝে না। সে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে পাত্র পাত্রীদের জরি চুমকি বসানো ঝলমলে শাড়ী আর চোখ ধাধানো গয়নার দিকে। বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে সে ভাবে এটাই কি তাহলে সেই বেহেশত যেই বেহেশতের কথা মানুষ বলে ! এবার সেই বেহেশতের লোকজন খেতে বসলো, মেয়েটি তার দারিদ্র পীড়িত কল্পনায় ভাবতে থাকে এখন নিশ্চয় সবাই এমন কিছু খাবে যার নামই সে জানে না, চোখে দেখাতো দুরের কথা। খাবার পরিবেশিত হলো আর সেই খাবার দেখে মাটিতে বসে থাকা মেয়েটি আচমকা মুখ ঘুরিয়ে আর্ত স্বরে তার খালাম্মাকে প্রশ্ন করে,

“খালাম্মা,ও খালাম্মা হেরা এত্ত সুন্দর সুন্দর কাপড় আর গয়না পইড়া ঘরে বইয়া থাইক্কা খালি পোড়া রুডি আর পোড়া ভাজি খায় ক্যা”!

আমাদের অনেকেরই কখনো খাবারের চিন্তা করতে হয় না যে কাল কি খাবো, পরশু কি খাবো ? তাই আমরা সিরিয়ালের চরিত্রদের খাবারের থালার দিকে কখনো ভালো করে তাকিয়ে দেখিনা তারা কি খায় না খায়। আমাদের চোখ থাকে ওদের শাড়ি গয়নার দিকে। কিন্ত ক্ষুধার জ্বালায় গ্রাম ছেড়ে আসা মেয়েটির আলো ঝলমল রোশনাই ঘর আর হীর- জহরত, জরি-চুমকির ফাক গলে ঠিকই নজরে পরে তাদের পোড়া রুটির উপর। সেই সাথে তার স্বপ্নওঁ যেন চুর চুর করে ভেঙ্গে পরে এক লহমায় ।

ছবি নেট
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০২০ দুপুর ১২:৩১
৪৮টি মন্তব্য ৪৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×