
এই উপমহাদেশের বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা যুদ্ধের আপোসহীন এক সংগ্রামী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য।কলকাতার এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া সুকান্ত মাত্র ২১ বছর বয়সে যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করার আগেই বেশ কিছু কবিতা লিখেছিলেন যার সবই ছিল অসহায়-নিপীড়িত, সর্বহারা মানুষের সুখ, দুঃখ নিয়ে। কবি সুকান্তের কথা ভাবলেই আমাদের মনে পড়ে তার বিখ্যাত কবিতা যেখানে পুর্নিমার চাঁদকে তিনি ঝলসানো রুটি বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাবৎ জাহানের অসংখ্য কবি সাহিত্যিক যে চাঁদকে নিয়ে যুগে যুগে নানা রকম রোমান্টিক গল্প, কবিতা লিখে গিয়েছেন সেখানে বিপ্লবী কবি সুকান্তের কাছে এই চাঁদ কোন রোমান্টিক রূপে ধরা দেয় নি, তার কাছে সে নিছকই ছিল এক ঝলসানো রুটি।
সুদুর গ্রাম থেকে আসা কিশোরী জরিনা ঢাকায় এসেছে নিজের ওঁ তার পরিবারের ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে পরিচারিকা হিসেবে। অভাব কাকে বলে সে এই এতটুকু বয়সেই দেখেছে। এক বেলা এক মুঠো নুন ভাত খেলেও পরের বেলা কি খাবে তার কোন সংস্থান নেই। ভালো করে পেট পুরে খেতে পারবে এই আশ্বাসেই তার ঢাকায় আসা। কিন্ত বাড়ীর জন্য, মায়ের জন্য, ছোট ভাইটার জন্য মন কেমন করে সারাদিন। অন্যান্য অনেক বাসার খালাম্মার মত তার খালাম্মা অত খারাপ না যেমন সে শুনেছে তাদের গ্রামের দু একজনের কাছে।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে মাগরেবের আযান পরে, নামাজের পর কাজ থাকে না তেমন কারোরই। জরিনাকে নিয়ে টিভির সামনে বসে খালাম্মা ভাবে বোকা বাক্স দেখে যদি মেয়েটার মন ভালো হয়। একে একে শুরু হয় তার পছন্দের বিখ্যাত সব হিন্দী সিরিয়াল। সেখানে দেখায় আলিশান এক বাংলো বাড়ীর আলিশান বসার ঘরে বসে সবাই কথা বলছে, কিন্ত জরিনা তাদের কথা বোঝে না। সে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে পাত্র পাত্রীদের জরি চুমকি বসানো ঝলমলে শাড়ী আর চোখ ধাধানো গয়নার দিকে। বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে সে ভাবে এটাই কি তাহলে সেই বেহেশত যেই বেহেশতের কথা মানুষ বলে ! এবার সেই বেহেশতের লোকজন খেতে বসলো, মেয়েটি তার দারিদ্র পীড়িত কল্পনায় ভাবতে থাকে এখন নিশ্চয় সবাই এমন কিছু খাবে যার নামই সে জানে না, চোখে দেখাতো দুরের কথা। খাবার পরিবেশিত হলো আর সেই খাবার দেখে মাটিতে বসে থাকা মেয়েটি আচমকা মুখ ঘুরিয়ে আর্ত স্বরে তার খালাম্মাকে প্রশ্ন করে,
“খালাম্মা,ও খালাম্মা হেরা এত্ত সুন্দর সুন্দর কাপড় আর গয়না পইড়া ঘরে বইয়া থাইক্কা খালি পোড়া রুডি আর পোড়া ভাজি খায় ক্যা”!
আমাদের অনেকেরই কখনো খাবারের চিন্তা করতে হয় না যে কাল কি খাবো, পরশু কি খাবো ? তাই আমরা সিরিয়ালের চরিত্রদের খাবারের থালার দিকে কখনো ভালো করে তাকিয়ে দেখিনা তারা কি খায় না খায়। আমাদের চোখ থাকে ওদের শাড়ি গয়নার দিকে। কিন্ত ক্ষুধার জ্বালায় গ্রাম ছেড়ে আসা মেয়েটির আলো ঝলমল রোশনাই ঘর আর হীর- জহরত, জরি-চুমকির ফাক গলে ঠিকই নজরে পরে তাদের পোড়া রুটির উপর। সেই সাথে তার স্বপ্নওঁ যেন চুর চুর করে ভেঙ্গে পরে এক লহমায় ।
ছবি নেট
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০২০ দুপুর ১২:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




