এক টুকরো স্মৃতি-১ পড়তে এখানে ক্লিক করুনঃ এক টুকরো স্মৃতি-১
প্রতিমা বন্দোপাধ্যায় এর অনুপম গায়কীতে এই অনবদ্য গানটি প্রথম শুনি যখন নবম-দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। প্রেমহীন জীবন, কিন্তু প্রেমিক মন। ঐ ধূসর জীবনেও গানের কথাগুলো মনে রেখাপাত করে যায়। বন্ধু ফাহিয়ান মাঝে মাঝে গলা ছেড়ে গানটি গাইতো, তবে চির উচ্ছ্বল এই বন্ধুর গানের কথা নিয়ে কোন ভাবনা ছিল বলে মনে হয়না। আমি গানের কথায় ছবি দেখতে পেতাম, মনে মনে ছবি আঁকতাম। “জীবনের রঙ বদলে যায় রাতারাতি” – গল্পে গল্পে ইউরোপ আমেরিকায় হেমন্ত ও বসন্তের সমাগমে প্রকৃ্তির রঙ বদলানোর কথা জেনেছিলাম, এ গানের কথা শুনে নিজের জীবনের রঙ বদলানোর স্বপ্ন দেখতাম। “হৃদয় হরিণ, সারা রাত যে ছুটোছুটি, ছুটোছুটি” – চঞ্চল মনের কি অপূর্ব বর্ণনা! “সময় এখন রঙিন আলোকে মাখামাখি, মাখামাখি”- গানটা শোনার সময় এমনি নানা বিচিত্র রঙের আলো আমার মনে ছুটোছুটি করতো।
তখন আকাশবাণী কোলকাতা থেকে আমাদের সময় দুপুর আড়াইটায় সপ্তাহে চারদিন “গীতিকা” নামে আধুনিক গানের একটা অনুষ্ঠান প্রচারিত হতো। অনুষ্ঠানটার প্রতি মুখিয়ে থাকতাম। এছাড়া রাত দশটায় প্রচারিত হতো ‘অনুরোধের আসর’। আকাশবাণী কার্সিয়াং থেকে সন্ধ্যে সাড়ে ছয়টায়ও বাংলা গানের অনুরোধের আসর প্রচারিত হতো। তখন আমাদের গান শোনার একমাত্র মাধ্যম ছিলো রেডিও। কমন রুমে একটা রেডিওর চারপাশে বসে আমরা কয়েকজন গানপিয়াসী বন্ধু এসব অনুষ্ঠান শুনতাম। লেট সিক্সটিজ এবং আর্লী সেভেনটিজ এর বাংলা ইংরেজী সব রোমান্টিক গানই আমাদের কন্ঠে বেসুরো গলায় বাজতো।
স্বকন্ঠের সুর দিয়ে যারা অন্যের মনে প্লাবন আনতে পারেন, তারা নিশ্চয়ই স্রষ্টার বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১৬ রাত ১২:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



