somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অকারণে এলোমেলো...

২৬ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অকারণে এলোমেলো...

গত কয়েকদিনে বেশ ক’জন প্রাক্তন সতীর্থ, জ্যেষ্ঠ্য-কনিষ্ঠ বন্ধু ও বন্ধুপত্নীদের গুরতর অসুস্থ হওয়া এবং পরপারে চলে যাবার মর্মান্তিক দুঃসংবাদে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে আছে। অনিবার্য মৃত্যু সম্পর্কে পবিত্র ক্বুর’আনে বহুবার আমাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছেঃ “প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যু আস্বাদন করতে হবে” । (সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ১৮৫); “তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই। যদি তোমরা সুদৃঢ় দূর্গের ভেতরেও অবস্থান কর, তবুও”। (সূরা নিসা, আয়াত নং ৭৮); "প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে৷ আর আমি ভালো ও মন্দ অবস্থার মধ্যে ফেলে তোমাদের সবাইকে পরীক্ষা করছি, শেষ পর্যন্ত তোমাদের আমার দিকে ফিরে আসতে হবে৷" (সূরা আম্বিয়াঃ ৩৫)। এ ছাড়াও বড় বড় মুনি, ঋষি, কবি, দার্শনিকেরা নানাভাবে আমাদেরকে মৃত্যুর অনিবার্যতার কথা বলে গেছেন। যেমন মাইকেল মধুসূদন দত্ত বলেছেনঃ “জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে, চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?”

পরিবারের যে কোন একজন সদস্য হাসপাতালে শয্যাশায়ী হলে সে পরিবারে বিষাদ ও বিড়ম্বনা দুটোই ক্রমান্বয়ে শেকড় গাড়তে শুরু করে। নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ডাক্তার সাহেব যখন গম্ভীর মুখে কোন দুরারোগ্য ব্যাধির ঘোষণা দিয়ে বসেন, তখন সে পরিবারের উপর আকাশ ভেংগে পড়ে। আমার চেনা শোনা কয়েকটি পরিবার এখন এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সদা হাসিখুশী এই মানুষগুলোর মুখে আকস্মিক নেমে আসা বিষাদের ছায়া দেখে খুবই ব্যথিত বোধ করি, কিন্তু তাদেরকে কোন সান্তনা দেয়ার ভাষা আমি কখনো রিহার্সেল করেও রপ্ত করতে পারিনি। আমার একমাত্র সম্বল তাদের জন্য জন্ম মৃত্যুর একচ্ছত্র অধীশ্বরের নিকট নীরবে দরখাস্ত পেশ করা, আমি তাই সর্বান্তঃকরণে উজার করে দেই। ইদানীং নিজেকে তেমনই কোন বিষাদগ্রস্ত পরিবারের একজন হিসেবে ভাবার প্রবণতা ঘুরে ফিরে আমার মাথায় আসছে। আমি নিজে কখনো যদি এমন একটা বিষাদের কারণ হয়ে দাঁড়াই, তবে পরিস্থিতি কেমন হবে সে কথা ভাবতে গেলে গা কাঁটা দিয়ে ওঠে। শিরদাঁড়া দিয়ে যেন একটা হিমশীতল স্রোত ওঠানামা করে। নিজের ব্যথা বেদনার জন্য নয়, প্রিয়জনদের আমি কতটা দুশ্চিন্তা আর মনোস্তাপের মধ্যে ফেলবো, সেকথা ভেবে।

ডাক্তাররা যতই কঠিন হৃদয়ের লোক হন না কেন, আমি অনুভব করি কোন রোগীকে দুরারোগ্য রোগের দুঃসংবাদ দিতে তাদেরও অনেক খারাপ লাগে। আমার এক ডাক্তার বন্ধু আমাকে বলেছেন, তার এ কাজটা করতে খুব খারাপ লাগে, এটা যেন মৃত্যু পরোয়ানা স্বাক্ষর করার সামিল। আমার কারণে কোন ডাক্তারকে এমন একটা ঘোষণা দিতে হবে আমারই প্রিয়জনদের কাছে, এটা ভেবেই আমি কল্পনায় সেই অজানা ডাক্তারের কাছে বিব্রত বোধ করি, আর প্রিয়জনদের কল্পিত মলিন মুখগুলোর কাছে অপরাধী হিসেবে তীব্র মর্মপীড়া অনুভব করি। আমার কী হবে সেটা পরের কথা, কিন্তু তাদের কতটা দুঃসহ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতে হবে, সেটা ভেবেই অস্থির হয়ে যাই। আমাকে ভালবাসার জন্য যেন তাদের কাউকে চড়া মূল্য দিতে না হয়, সেটাই আমার আন্তরিক কামনা। ওরা আমাকে কখনো ব্যথিত করে নাই, আমিও যেন চলে যাবার আগে ওদের কাউকে কোন মানসিক দুশ্চিন্তা, অবসাদ কিংবা বেদনা দিয়ে না যাই। যে অনিবার্যতা অবশ্যম্ভাবী, তাকে হাসিমুখে বরণ করে নেয়ার সাহস আমাকে তিনিই যোগাবেন, যাঁর উপর আমার অন্তহীন আস্থা। তবে সেটা যেন হয় শুধু আমার আর তাঁর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে, তাঁর দয়ার মাঝে থেকেই যেন আমার অন্তিম যাত্রা শুরু ও শেষ করতে পারি, প্রতিটি রূহের চিরবন্ধু সেই দয়ালু ও মেহেরবান প্রতিপালকের কাছে এটাই আমার নিত্য প্রার্থনা। প্রার্থনা কবুলের মালিকও একমাত্র তিনিই।

পরিশেষে, আবার আমার সেই পীড়িত ও প্রয়াত বন্ধু, বন্ধুপত্নী ও প্রাক্তন সতীর্থ-সহকর্মীদের কথায় ফিরে আসছি। আমরা পীড়িত হলে যিনি আমাদেরকে আরোগ্যদান করেন, সেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর নিকট একান্ত প্রার্থনা, তিনি যেন পীড়িতদের সম্পূর্ণ আরোগ্য দান করে তাদেরকে স্বগৃহে প্রিয়জনদের কাছে ফিরিয়ে দেন। আর যারা প্রয়াত হয়েছেন, তাদেরকে যেন তিনি তাঁর অপার ক্ষমায় বিপদমুক্ত করে দেন, শান্তিপূর্ণ ক্ববর দান করেন এবং শেষ বিচারের দিনে জান্নাতের সম্মানিত অধিবাসীদের সাথে একই কাতারভুক্ত করে নেন! তাদের পরিবার পরিজনদের সহায় হয়ে তিনি যেন তাদেরকেও দুনিয়ার বালা মুসিবত থেকে সুরক্ষা করেন!

ঢাকা
২৫ অগাস্ট ২০১৫
স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:০২
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - 'সত্য বলার সনদ'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮



রাত দুটায় রাকিবের ফোন বেজে উঠলো।

—ভাই, আপনার মুক্তিযোদ্ধা সনদটা কোথায়?

—কেন?

—একজন আমেরিকা-প্রবাসী ব্লগার বলেছেন, আপনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

রাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
—আমার সনদ তো আলমারিতে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ রক্ত ঋণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪




আমাদের পরিবারে সাব্বির নামটা উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ । সাব্বির ভাইয়া আব্বুর প্রথম সংসারের একমাত্র সন্তান আর আমরা দুই ভাই -বোন তার দ্বিতীয় সংসারের।
সাব্বির ভাইয়ার মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: আহ প্রিয়তমা, মিলনের গল্প জানো না

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×