somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল বিদা, শাহরু রামাদান!

১৫ ই জুন, ২০১৮ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আলহামদুলিল্লাহ! মাসজিদে এশার নামায পড়ে বাসায় ফিরে এলাম। কিন্তু মনটা যেন পড়ে আছে সেখানেই। আজ মাত্র ২৫ মিনিটেই নামায শেষ। ইমাম সাহেব ঘোষণা দিলেন আগামী কাল ঈদের প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল আটটায়। পরেরটা নয়টায়। অন্যান্য দিনের মত আগামীকাল ফজরের জামাত শুরু হবে ০৪-১০ এ নয়, ০৪-৪০ এ। অর্থাৎ দৈনিক রুটিনে পরিবর্তন আসবে। রমজানের শুরুতে প্রথম ৬ দিন দেড় পারা করে পবিত্র ক্বোরান থেকে তিলাওয়াত হতো, সময় লাগতো পৌনে দু’ঘন্টার মত। তারপর থেকে ২৭ রমজান পর্যন্ত এক পারা করে পড়া হতো, সময় লাগতো দেড় ঘন্টা। দু’জন হাফেজ সাহেবেরই উচ্চারণ পরিষ্কার ছিল, তাই সময় একটু বেশীই লাগতো। তাও ভালো, তুফান মেইল চালিয়ে তারা তাদের তিলাওয়াতকে দুর্বোধ্য করে তুলেন নাই। আমি তাদের তিলাওয়াত মোটামুটি অনুসরণ করতে পারতাম। ২৭ রমজানের পর থেকে সুরা ক্বিরাত দ্বারা নামায পড়ানো হতো, সময় লাগতো এক ঘন্টা পাঁচ মিনিট। এখন মাত্র ২৫ মিনিট। বাসায় ফিরে এসে ডিনার করে উঠেও মনে হচ্ছে, কালকে এরকম সময়ে হয়তো তারাবীর ১৬ রাকাতে ছিলাম।

মোক্তাদি হিসেবে এক, দেড় কিংবা পৌনে দু’ঘন্টা সময় ইমামের তিলাওয়াতের প্রতি মনোনিবেশ করে থাকা নিঃসন্দেহে একটা কঠিন কাজ। তবে যারা প্রকৃত দ্বীনদার, তাদের জন্য হয়তো ততটা কঠিন নয়। কিন্তু আমি তো একজন অতি সাধারণ মুসল্লি, অনেকদিন ধরে চর্চার ফলে এখন তবু পবিত্র ক্বোরানে যেখানে যেখানে আল্লাহ রাব্বুল ‘আ-লামীন আমাদেরকে প্রার্থনার কথা শিখিয়ে দিয়েছেন, সেগুলো কিছুটা ধরতে পারি। যেখানে যেখানে শাস্তির কথা বলেছেন, সেগুলোও কিছুটা ধরতে পারি। এ ছাড়া হাফেজ সাহেবের কন্ঠস্বর এর তারতম্যের মাধ্যমেও কিছুটা আঁচ করতে পারি। যখন পারি, তখন কখনো কখনো অন্তরাত্মা শিউরে ওঠে, কখনো কখনো চোখ হয়ে ওঠে অশ্রুসিক্ত। বাকী সময়টাতে মনটা মাঝে মাঝে ভোকাট্টা ঘুড়ির মত আপন খেয়ালে কল্পনার আকাশে ঘুরে বেড়ায়। তবে সৌভাগ্যের কথা যে বেশীক্ষণ ধরে ওভাবে ওড়ার উপায় নেই। রুকু, সিজদা, বৈঠক, ইত্যাদির আহ্বানে সম্বিৎ ফিরে আসে। তখন মনে খটকা লাগে, আমি কি শুধুই আচারানুষ্ঠান পালন করছি, নাকি একাগ্রমনে এবাদত করছি? ফিরে আসি স্রষ্টার কাছে, পুনরায় মা’ফ চাওয়া, পুনরায় একাগ্র হওয়ার চেষ্টা করা, পুনরায় ভুল করা। সবশেষে মুনাজাতের সময় একে একে সবার কথা মনে করে তাদের ইহলৌকিক এবং পারলৌকিক কল্যাণ কামনা করা।

বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আগামীকাল থেকে এ রুটিনে ছেদ পড়বে। মাসজিদে কাটানো সময়ের স্থায়ীত্ব তুলনামূলকভাবে অনেক কমে যাবে। এই একটা মাস যে কল্যাণের আশায় ডুবে ছিলাম, সে আশার তীব্রতা কমে আসবে। এ একটা মাস জুড়ে মনের মাঝে যেমন একটা বিশুদ্ধতা নিজস্ব ভাবনায় অনুভব করতাম, সেটাও ধীরে ধীরে তিরোহিত হবে। এটা ভেবেই মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কত সুন্দর একটা মাস অতিবাহিত করলাম! দেহ মন কত সুন্দরভাবে একটা রুটিন মেনে চলতো। স্রষ্টার একটা অনির্বচনীয় আনুকূল্য সবসময় ভেতরে ভেতরে অনুভব করতাম, সেটা ধীরে ধীরে অপসৃয়মান হতে থাকবে। আগামী রমজান আমরা কে কে পাবো আর কে কে পাবোনা, তার হিসেব তো একমাত্র স্রষ্টার কাছেই রয়েছে। প্রতিবছর একটা মাস আমরা আত্মশুদ্ধির একটা সুযোগ লাভ করি। সেটার সদ্ব্যবহার কেউ করতে পারি, কেউ পারিনা। নিশ্চিত নই, আমি নিজে কতটুকু পারলাম। তাই ব্যথা ভারাক্রান্ত মনেই রমজানের এই শেষ রাতে রমজানকে বিদায় জানাচ্ছি- আল বিদা, শাহরু রামাদান! পুনরায় যেন তোমার দেখা পাই। ততদিন পর্যন্ত অন্তরের অন্তঃস্থলেই যেন থাকে তোমার কল্যাণময় স্মৃতি!



ঢাকা
১৫ জুন ২০১৮
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০১৮ রাত ১১:২৮
১৯টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক সংকট: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২

প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর। এই স্তরেই শিশুর ভাষা, গণিত, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, সামাজিকতা ও জীবনদক্ষতার ভিত নির্মিত হয়। যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা যত শক্তিশালী, সেই দেশের অর্থনীতি, সামাজিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×