অস্ট্রেলিয়ায় কভিড-১৯ এর আক্রমণ এখনো সহনীয় পর্যায়ের শেষ মাত্রায় রয়েছে। ১৫ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৯, তন্মধ্যে ২৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরেছেন এবং ৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। সবচেয়ে বেশী সংখ্যক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশে, ১১১ জন। তার পরেই রয়েছে আমাদের (অর্থাৎ আমি যে প্রদেশে বর্তমানে অবস্থান করছি) ভিক্টোরিয়া প্রদেশ, ৪৯ জন এবং তার পরে কুইন্সল্যান্ড, ৪৭ জন। সমগ্র বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫৪৫০০, মৃতের সংখ্যা ৫৭০০।
ইতোমধ্যে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে পরিস্থিতির সঠিক চিত্র তুলে ধরেছেন, তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন এবং দেশবাসীর প্রতি সামাজিক সমাবেশ সাময়িকভাবে বর্জন করার আবেদন জানিয়েছেন। কিছু জরুরী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপরেও তিনি আলোকপাত করেছেন। কয়েকটি দেশের সাথে সাধারণ জনগণের এবং যাত্রীবাহী বিমানের যাতায়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অস্ট্রেলীয় স্বাস্থ্য দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কভিড-১৯ সম্পর্কিত ওয়েবসাইটের তথ্যসমূহ হালনাগাদ করে যাচ্ছে, যেখানে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের এবং বহির্দেশীয় নাগরিকদের জানা প্রয়োজন এমন সব তথ্য সন্নিবেশ করা হচ্ছে। যেমন জনসমাবেশ সম্পর্কিত তথ্য, সবচেয়ে বেশী হুমকির সম্মুখীন (Vulnerable Group) মানুষদের জন্য তথ্য, পর্যটকদের জন্য তথ্য, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য তথ্য, সরকারের নেয়া পদক্ষেপসমূহের তথ্য, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাপ্ত, প্রাপ্য এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ এর চাহিদা সম্পর্কিত তথ্য, ইত্যাদি। প্রতিদিন অন্ততঃ একবার করে এ ওয়েবসাইটটির উপর চোখ বুলালে কারো আর অজানা কিছু থাকে না।
মেলবোর্নের স্কুলগুলো এখনো বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি, তবে খুব শীঘ্রই হবে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সরকারী ও বেসরকারী সব অফিসগুলোতে অন্তর্জাল যোগাযোগের মাধ্যমে ঘরে বসে কাজ করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং এতদুদ্দ্যেশ্যে সবাইকে তাদের সেলফোনে ও ল্যাপটপে প্রয়োজনীয় এ্যাপস ডাউনলোড করে রাখার জন্য বলা হয়েছে। ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোর সামনে পাহারা মোতায়েন করা হয়েছে যেন একসাথে বেশি লোকজন ভেতরে প্রবেশ করে ভিড় করতে না পারে। তবে স্টোরের তাকগুলো নিমেষেই খালি হয়ে যাচ্ছে, মানুষের প্যানিক বায়িং এর কারণে। মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার এখনো দোকান থেকে উধাও, আমি চেষ্টা করেও কোথাও খুঁজে পাইনি। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে পাবার সম্ভাবনাও কম বলে মনে হচ্ছে। রাস্তা ঘাট, ট্রেন বাস এখনো খালি হয়নি, তবে ভিড় ভাট্টা অনেক কমেছে। আমার কাছে যেটি সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে তা হলো, এখন এখানে যে জিনিসটির চাহিদা সবচেয়ে বেশী প্রকট এবং সংকটজনক পর্যায়ে রয়েছে তা চাল ডাল জাতীয় কোন খাদ্য দ্রব্য নয়, কোন ঔষধপত্র নয়, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা মাস্ক চেয়ে না পেলে মানুষ ততটা ক্ষুব্ধ হচ্ছে না, যতটা হচ্ছে টয়লেট টিস্যু পেপার না পেয়ে! আর তা পাওয়া মাত্রই ছুটে যাচ্ছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামগ্রী করায়ত্তের জন্য। তাদেরকে নিবৃত করতে দোকানী ও নিরাপত্তারক্ষীদের রীতিমত হিমসিম খেতে হচ্ছে!!!
মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
১৬ মার্চ ২০২০, সকাল দশটা।
শব্দসংখ্যাঃ ৪০২
সর্বশেষ আপডেটঃ ২০ মার্চ ২০২০
এই পোস্টটা লিখার ৫ দিন পর, আজ ২০ মার্চ ২০২০ তারিখ সকাল ০৬৩০ ঘটিকা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় কভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৭০৯, তন্মধ্যে ৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৪ জন। সবচেয়ে বেশী সংখ্যক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশে, ৩০৭ জন। তার পরেই রয়েছে আমাদের (অর্থাৎ আমি যে প্রদেশে বর্তমানে অবস্থান করছি) ভিক্টোরিয়া প্রদেশ, ১৫০ জন এবং তার পরে কুইন্সল্যান্ড, ১৪৪ জন। সমগ্র বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ২২৬৮০০, মৃতের সংখ্যা ৯৫০০। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমার স্বদেশ প্রত্যাবরতন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সবাই দোয়া করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


