somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রত্যুষের নান্দনিক সৌন্দর্য

০১ লা মে, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আমার শয্যাপাশে দখিনের জানালা। রাতে যখন সব আলো নিভিয়ে শয্যা গ্রহণ করি, তার আগে আমি জানালার পর্দা সরিয়ে দেই। বাহিরে মিশমিশে কালো আঁধার থাকলেও, জানালা গলিয়ে আমি দৃষ্টি মেলে দেই সেই কালো আকাশের দিকেই; কালোর মধ্যেই অনেক কিছু দেখতে পাই। আর রাতটা যদি জ্যোৎস্নাস্নাত হয়, তাহলে তো কোন কথাই নেই। আমি এখন যেখানে আছি, সেখানে শীত আসবো আসবো করছে। রাতে তাপমাত্রা ১৩-১৪ সেলসিয়াসের মত থাকে। বাহিরে মৃদুমন্দ বাতাসও বয়। আমি কম্বলের নীচে উষ্ণ হতে থাকি, বাহিরে গাছপালা একসাথে জ্যোৎস্না ও শিশিরস্নাত হতে থাকে। জ্যোৎস্না রাতে আমি আন্দোলিত গাছপালা আর জ্যোৎস্নার মাঝে সখ্য গড়ে ওঠা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে যাই। শেষরাতে সেহরীর পর ফযরের নামায পড়ে একটু ফেসবুকিং করতে করতে যখন পুনরায় ঘুমুতে যাই, তখন শুয়ে শুয়ে আবার জানালা গলিয়ে তাকিয়ে দেখি আকাশটা ক্রমে ক্রমে ফর্সা হয়ে উঠছে। প্রথমে ছোট্ট একটা পাখির একটা বা দুটো ডাক শুনতে পাই। কল্পনা করি, পাখিটা একটা শিশু পাখি। সে যেন উসখুস করতে করতে তার মাকে বলছে, “আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে?” এর একটু পরে তার কল্পিত মায়ের কণ্ঠও শুনতে পারি। এবং তার পরে.... সমস্বরে কিচির মিচির। প্রথম আলোর ছটা তরুশাখায় চুম দিয়ে যাবার সাথে সাথেই ওরা আকাশে ডানা মেলে দেয়। কোথায় যাবে, কী খাবে, তার কোন রুটিন বাঁধা নেই। প্রকৃতি মাতাই ওদেরকে দিক নির্দেশনা দিয়ে এদিকে সেদিকে নিয়ে যায়, আবার দিনশেষে আপন নীড়ে ফিরিয়ে আনে।

প্রকৃতি প্রতিদিন কি অপার্থিব সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি সকাল আমাদেরকে উপহার দেয়, অথচ আমরা অধিকাংশ সময়েই প্রত্যুষের সেই শুভক্ষণটি ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেই!

ছবিটি আমার আইফোন-৭ এ আজকেরই তোলা।

মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
০১ মে ২০২২
শব্দসংখ্যাঃ ২৪৩
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৫৫
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×