সব ধর্ম পরলোক নির্ভর। ভুত প্রেত জীন পরী বেহেস্ত নরক পাপ পূণ্য ইত্যাদি নিয়ে তার কাজ কারবার। ফলে খুব প্রতিভাবান মনুষ্য ছাড়া এতে কোনো সিদ্ধি লাভ হয়না। আর প্রতিভা'ত আর যে সে ব্যাপার নয় যে চাইলেই পাওয়া যায়। পরলোক আর প্রতিভা এই দুটো ব্যাপারেই সাধারণ মানুষের ভয় ভক্তি। আর ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রস্তরটিও এখানেই স্থাপিত।
যুগে যুগে ধর্মের দার্শণিক ভিত্তি তৈরির চেষ্টা হয়েছে। আর এই চেষ্টার উদ্দেশ্য হল সমীহ তথা ভয়ভীতি আদায়ের এক ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখা। মানুষের সভ্যতার বোধহয় সবচেয়ে পরাক্রমী আকাঙ্খাটির নাম ক্ষমতা। ধর্মের বেড়ে ওঠা এই ক্ষমতাকে কেন্দ্র করেই।
বস্তুবাদীদের যেহেতু কোনো পরলোক নেই, যা আছে সব এই ইহলোকেই, তাই তারা ধর্মে খাপ খায়না । কিন্তু সুদীর্ঘকালের চর্চার ফসল যে ধর্মীয় সংস্কৃতি, যা অনেকটা ফুল ফুলের রেণু , সুগন্ধ অথবা সৌন্দর্যএর মত মানুষকৃত এক নির্মাণ--তাকে পুরোপুরি অসবীকার করতে পারেনি।
আমাদের উপমহাদেশে ধর্মের বাজার সবসময়ই ভাল। এখানে মানুষের মান প্রাণ খুব সুলভ। ক্ষমতায়নের জন্য অব্যর্থ । পরলোকপ্রিয় এই ধর্ম পরলোকভীত মানুষের ইহলোকের সমস্যাকে অমীমাংসীত রেখে জীবনকে যতটা জটিল করা যায় করে চলে। এখানে অন্য অনেক ধর্ম বিরাজমান হওয়া সত্তেও মানুষ বিবদমান দুটি ধর্মকেই বেছে নিয়েছে হিন্দুধর্ম ও ইসলামধর্ম ।
অসবীকারের উপায় নেই যে হিন্দু ধর্ম সর্বাংশে এই উপমহাদেশীয় এবং ইসলাম ধর্ম বহিরাগত। হিন্দু ধর্মের আন্তর্জাতিক আহবান তেমন কিছু নেই । কিন্তু ইসলাম ধর্মের একটা আন্তর্জাতিক আহবান আছে।
হিন্দু ধর্ম বর্ণবাদী । ফলে ঐক্যের প্রশ্নে দুর্বল । আচার আচরণের নানান বিধি বিধান থাকলেও এই ধর্ম কখনই রেজিমেন্টেড হয়ে উঠতে পারেনি। বরং বিভিন্ন যুগে যুগে নানান সংস্কারের হাত ধরে এই ধর্ম অনেকটাই উদারপন্থী--অবশ্যই উপমহাদেশের কিছু কিছু জায়গায়। সর্বত্র নয় । পাশাপাশি দিনে দিনে ইসলাম ধর্ম হয়ে পড়েছে কমান্ড নির্ভর। কঠিন আচার আচরণের নিগড়ে বাঁধা এই ধর্ম তার প্রভাব রক্ষার্থে প্রয়োজনে সশস্ত্র হস্তক্ষেপও অনুমোদন করে। ফলে পরলোকবাদী সব ধর্মের মধ্যে ক্ষমতার মই হিসাবে ইসলাম অধিকতর কার্যকরী ব'লে অনেকে মনে করে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৫:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


