তারকাদের রঙিন জগতের দিকে তাকিয়ে মনে হয় তাঁরা কতো সুখে আছেন। ছবির মতো জীবন। সে রকম স্বপ্নিল জীবনের প্রতি আমাদের মোহ জাগে। তাদের প্রতি ঈর্ষাও জাগে। সন্দেহ নেই তারকারা তাঁদের তারকাজীবনের খ্যাতি, ভক্তদের ভালোবাসা, সাংবাদিকদের আনাগোনা উপভোগও করেন।
কিন্তু ভিন্ন বাস্তবতাও আছে। কখনো সাংবাদিকরা কোন গোপন খবর জেনে গেলে তারকারা সাংবাদিক-ভীতির শিকার হন। তখন সাংবাদিকের হাত থেকে বাঁচার জন্য নানা ফন্দি-ফিকির করতে থাকেন।
এটুকু ছাড়াও তারকারা এক কঠিন সংগ্রামমুখর জীবন যাপন করেন। টিকে থাকার জন্য তাঁদের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়। মাঝে মাঝে হন ষড়যন্ত্রের শিকার। নিষ্ঠুর সব ষড়যন্ত্র।
তারকা হবার স্বপ্নে বিভোর অবস্থায় তাঁরা যাদের সহযোগিতা নেন সেই সহযোগী বন্ধুরাও কেউ কেউ তাঁদের ফাঁদে ফেলে নানাভাবে শোষনও করেন। এ ফাঁদ থেকে রেহাই পাওয়াও কঠিন। কারণ কিছু গডফাদার ধরণের লোক তারকাজগতে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে থাকেন। সে সব গডফাদারদের বিরাগভাজন হলে তারকাজীবনের ইতি ঘটে যায়। মাঝে মাঝে জীবনেরও ইতি ঘটে।
তারকাদের জীবনের আরেক কঠিন দিক হচ্ছে অন্তহীন ব্যস্ততা। কাজের কোন ঠিকঠিকানা নেই। খাওয়া ঘুমের ঠিক থাকে না। পরিবারের সাথে তৈরি হয় দূরত্ব। কারণ তাঁরা পরিবারকে সময় দিতে পারেন না। করতে হয় অমানবিক পরিশ্রম। কোন অজুহাত চলে না। বহুআগে একটি বিনোদন ম্যাগাজিনে পড়েছি শাহ রুখ খান সেটেই একটি টেবিলের ওপর ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। যে সাংবাদিককে তিনি ইন্টারভিউর সময় দিয়েছিলেন সে সাংবাদিক তাঁকে ঘুম থেকে তুলে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। কারণ দেরি করলে আবার শুটিং শুরু হবে। শাহ রুখ কথা বলতে পারবেন না। এমনই কঠিন তারকাজীবন। গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া হয়ে নানা স্ক্যান্ডাল তাঁদের জীবনকে বিষিয়ে তোলে।
কেউ যখন নাম করে ফেলেন তখন তার সে সুনামকে পুঁজি করে ব্যবসা করার জন্য কাজের ধুম পড়ে যায়। তাঁর সব প্রাণশক্তি চিবিয়ে বের করে নেয়া হয়। আবার জনপ্রিয়তার টান পড়লে একে একে সবাই কেটে পড়তে দেরি করেন না। এ এক নিষ্ঠুুর একাকিত্ব।
তারকারা প্রতারণারও শিকার হন। কাজ তুলে দেবার পর দেখা যায় টাকা ঠিক মতো দেয়া হয়নি। সে টাকার জন্য ঘুরতে হয়। বেশি কিছু বলাও যায় না। কে আবার কখন নাখোশ হয়ে কেরিয়ারের গোড়ায় ধরে টান মারেন। ফলে কেউ কেউ সে টাকাই আর পান না। তারকা জীবনের সূচনায় আর শেষ দিকে এই বিপদ বেশি দেখা দেয়। অন্য কোনভাবে সমস্যায় পড়লে সুপারহিট তারকাও এরকম বিপদে পড়েন।
আরেক বিপদ গায়কদের । অনুষ্ঠানের আগে তোয়াজের শেষ নেই। গান গাওয়া হয়ে গেলে শিল্পীকে কেউ আর চেনে না। কখনো কখনো বাড়ি ফিরতে হয় নিজ খরচে, নিজের উদ্যোগে।
ভক্তদের আচরনেও নিষ্ঠুরতা দেখা যায়। তারকাকে এক নজর দেখার জন্য, একটা অটোগ্রাফের জন্য, একবার হাত মেলাবার জন্য এমন হুড়োহুড়ি পড়ে যে তারকার জীবন বাঁচানো কঠিন হয়। বিটলসের শিল্পীদের জন্য, মাইকেল জ্যাকসনের নিরাপত্তার জন্য সেনা মোতায়েনের নজিরও আছে। ভক্তদের নিষ্ঠুরতা নতুন নয়। মান্না দে'র একটি বিখ্যাত গান আছে- 'সে আমার ছোট বোন, বড়ো আদরের ছোট বোন'। সে গানেই আছে তাঁর ছোট বোনের গানের খ্যাতি কিভাবে তার বোনের মৃত্যু ডেকে এনেছিলো।
এ সব নিষ্ঠুরতার বেদনা সহ্য করে যে সব তারকা আমাদের আনন্দ দিচ্ছেন তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


