somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তারকাজীবনের বেদনা

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তারকাদের রঙিন জগতের দিকে তাকিয়ে মনে হয় তাঁরা কতো সুখে আছেন। ছবির মতো জীবন। সে রকম স্বপ্নিল জীবনের প্রতি আমাদের মোহ জাগে। তাদের প্রতি ঈর্ষাও জাগে। সন্দেহ নেই তারকারা তাঁদের তারকাজীবনের খ্যাতি, ভক্তদের ভালোবাসা, সাংবাদিকদের আনাগোনা উপভোগও করেন।

কিন্তু ভিন্ন বাস্তবতাও আছে। কখনো সাংবাদিকরা কোন গোপন খবর জেনে গেলে তারকারা সাংবাদিক-ভীতির শিকার হন। তখন সাংবাদিকের হাত থেকে বাঁচার জন্য নানা ফন্দি-ফিকির করতে থাকেন।

এটুকু ছাড়াও তারকারা এক কঠিন সংগ্রামমুখর জীবন যাপন করেন। টিকে থাকার জন্য তাঁদের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়। মাঝে মাঝে হন ষড়যন্ত্রের শিকার। নিষ্ঠুর সব ষড়যন্ত্র।

তারকা হবার স্বপ্নে বিভোর অবস্থায় তাঁরা যাদের সহযোগিতা নেন সেই সহযোগী বন্ধুরাও কেউ কেউ তাঁদের ফাঁদে ফেলে নানাভাবে শোষনও করেন। এ ফাঁদ থেকে রেহাই পাওয়াও কঠিন। কারণ কিছু গডফাদার ধরণের লোক তারকাজগতে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে থাকেন। সে সব গডফাদারদের বিরাগভাজন হলে তারকাজীবনের ইতি ঘটে যায়। মাঝে মাঝে জীবনেরও ইতি ঘটে।

তারকাদের জীবনের আরেক কঠিন দিক হচ্ছে অন্তহীন ব্যস্ততা। কাজের কোন ঠিকঠিকানা নেই। খাওয়া ঘুমের ঠিক থাকে না। পরিবারের সাথে তৈরি হয় দূরত্ব। কারণ তাঁরা পরিবারকে সময় দিতে পারেন না। করতে হয় অমানবিক পরিশ্রম। কোন অজুহাত চলে না। বহুআগে একটি বিনোদন ম্যাগাজিনে পড়েছি শাহ রুখ খান সেটেই একটি টেবিলের ওপর ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। যে সাংবাদিককে তিনি ইন্টারভিউর সময় দিয়েছিলেন সে সাংবাদিক তাঁকে ঘুম থেকে তুলে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। কারণ দেরি করলে আবার শুটিং শুরু হবে। শাহ রুখ কথা বলতে পারবেন না। এমনই কঠিন তারকাজীবন। গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া হয়ে নানা স্ক্যান্ডাল তাঁদের জীবনকে বিষিয়ে তোলে।

কেউ যখন নাম করে ফেলেন তখন তার সে সুনামকে পুঁজি করে ব্যবসা করার জন্য কাজের ধুম পড়ে যায়। তাঁর সব প্রাণশক্তি চিবিয়ে বের করে নেয়া হয়। আবার জনপ্রিয়তার টান পড়লে একে একে সবাই কেটে পড়তে দেরি করেন না। এ এক নিষ্ঠুুর একাকিত্ব।

তারকারা প্রতারণারও শিকার হন। কাজ তুলে দেবার পর দেখা যায় টাকা ঠিক মতো দেয়া হয়নি। সে টাকার জন্য ঘুরতে হয়। বেশি কিছু বলাও যায় না। কে আবার কখন নাখোশ হয়ে কেরিয়ারের গোড়ায় ধরে টান মারেন। ফলে কেউ কেউ সে টাকাই আর পান না। তারকা জীবনের সূচনায় আর শেষ দিকে এই বিপদ বেশি দেখা দেয়। অন্য কোনভাবে সমস্যায় পড়লে সুপারহিট তারকাও এরকম বিপদে পড়েন।

আরেক বিপদ গায়কদের । অনুষ্ঠানের আগে তোয়াজের শেষ নেই। গান গাওয়া হয়ে গেলে শিল্পীকে কেউ আর চেনে না। কখনো কখনো বাড়ি ফিরতে হয় নিজ খরচে, নিজের উদ্যোগে।

ভক্তদের আচরনেও নিষ্ঠুরতা দেখা যায়। তারকাকে এক নজর দেখার জন্য, একটা অটোগ্রাফের জন্য, একবার হাত মেলাবার জন্য এমন হুড়োহুড়ি পড়ে যে তারকার জীবন বাঁচানো কঠিন হয়। বিটলসের শিল্পীদের জন্য, মাইকেল জ্যাকসনের নিরাপত্তার জন্য সেনা মোতায়েনের নজিরও আছে। ভক্তদের নিষ্ঠুরতা নতুন নয়। মান্না দে'র একটি বিখ্যাত গান আছে- 'সে আমার ছোট বোন, বড়ো আদরের ছোট বোন'। সে গানেই আছে তাঁর ছোট বোনের গানের খ্যাতি কিভাবে তার বোনের মৃত্যু ডেকে এনেছিলো।

এ সব নিষ্ঠুরতার বেদনা সহ্য করে যে সব তারকা আমাদের আনন্দ দিচ্ছেন তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×