somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আরণ্যকের সাহিত্য চর্চা ও প্রেম

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আরণ্যক সাহিত্য চর্চা করবে। কিন্তু তার ভাষা প্রকাশের পূর্ণতা নেই। আচ্ছা ভাষা প্রকাশের জন্যে কি প্রেম করতে হয়। আচ্ছা আরণ্যক যদি কখনো প্রেম করে তাহলে প্রিয়সীকে সে কি দিয়ে অভিনন্দন জানাবে? আরণ্যক ভদ্র ।বিনয়ী। এটা কি তার প্রিয়সীর জন্যে যথেষ্ঠ নয়? আরণ্যকের ইচ্ছে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি সুন্দর মেয়ের প্রেমে দোল খেতে।আচ্ছা আরণ্যককে যদি এখন ক্যাম্পাসে সুন্দরী একটি মেয়ে বলে আরণ্যক তোমাকে আমি খুব ভালোবাসি। আমি তোমার প্রেমে পড়েছি। মনে করা যাক সে হীমার চেয়েও বেশী সুন্দর মেয়ে । তাহলে কি হবে? আরণ্যক কি তা বিশ্বাস করতে পারবে? হে পারবে। কারণ আরণ্যক জানে বিশ্বজগতে অনেক কিছুই সম্ভব। আবার অনেক কিছুই অসম্ভব। আরণ্যক ঐ মেয়েটিকে কি কলবে? হে কি বলবে তা জানা হয়ে গেছে। সে তখন ঐ মেয়েটিকে যেকোন উপায়ে বোঝাবে তার দ্বারা প্রেম করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন কারণ দেখানো শুরু করবে।কিন্তু আরণ্যক কখনো আসল কারণ বলবে না। কারণ আরণ্যক নিজেকে সুন্দরী মেয়ের অযোগ্য মনে করে। আবার অসুন্দরী মেয়েদেরকে জীবন সঙ্গী বা প্রিয়সী হিসেবে একেবারে ভাবতে পারেনি। আচ্ছা আরণ্যক কি তাহলে দেহ নির্ভর? নারী দেহতে ও খুব পূজা করে। সে প্রসঙ্গে একটু পরে আসি।
আরণ্যক মনে মনে নিজেকে ধন্য মনে করবে। সে মনে মনে মেয়েটিকে বলবে -হে মেয়ে আমাকে ঘৃণা করে একটি ধুলিও আমার গায়ে পড়েনি। কখনো আমার গায়ে একটি প্রজাপতি বা ফড়িং বসেনি। আমি হলাম অপ্রয়োজনীয় দূর্বা ঘাস। আমার কাছে এসো না। কোন এক সময় কোন একটি মেয়ে আমার একটু প্রশংসা করেছিল , তাতে আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। আমি আর সেই মেয়ে ধারে কাছে যায়নি। তাহলে কি নারী কাতররা এরকম হয়? আরণ্যক কি নারী কাতর?
আচ্ছা নারীরা কি দিয়ে তৈরি? সুন্দরী মেয়েরা এত সুন্দর হয় কেন? সুন্দর্যইকি সম্ভব? হিমা এত সুন্দর কেন? হিমার চেয়েও সুন্দরী অনেক মেয়েতো আছে? তাহলে হিমাকে এত সুন্দর লাগে কেন? হিমা কি অন্য মেয়েদের মত নয়? আচ্ছা হিমাকে নিয়ে একটি সুন্দর বড় কবিতা লিখলে হয়। হে আরণ্যক লিখতে বসে গেল। আশেপাশে কেউ নেইতো। না কেউ নেই। না হিমার সুন্দর্য ও হিমার প্রতি ভালোবাসা কোন কবিতায় লেখা সম্ভব নয়। সে যদি বড় সাহিত্যিক হয় তবুও সম্ভব নয়। বিন্দুমাত্র সম্ভব নয়। আচ্ছা প্রতিটি পুরুষ ‍কি আরণ্যকের মত হয়?
হতে পারে। আরণ্যক ভাবে। নাওতো হতে পারে। আচ্ছা হিমাকে নিয়ে কবিতা লিখলে হিমাকে ছোট করা হবে। হিমা অনেক বড়। আচ্ছা কাউকে বড় ভাবা এটা কি ভদ্রতা? নিজেকে ছোট ভাবা একা কি ভদ্রতা? আরণ্যক কলা ভবনের ক্যাম্পাসে হাটে আর ভাবে।
আচ্ছা মন আগে ? ধর্ম আগে? ইচ্ছা আগে? নাকি বিবেক আগে? আরণ্যক কোনটাকেই তো বাঁধতে পারল না।
আরণ্যক চলছে আর ভাবছে। পাশ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাচ্ছে।কেউ তার সাথে কথা বলবে না। তাকে চিনলেও তার সাথে কথা বলবে না। কারণ আরণ্যককে সেরকম করে করে কেউ ভাবতে পারেনি। আরণ্যকের সাথে কথা বলে কেউ সময় নষ্ট করবে না। আরণ্যক হাটছে । তার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন আলাদা।গায়ের ঘাম ও পায়ের ব্যথা আরণ্যকের সাথে কথা বলে। আরণ্যককে তার হাটুতে বলেছে, গায়ের ঘামে বলেছে তুমি একদিন অনেক বড় হবে আরণ্যক । কিন্তু কোথায় বড় হওয়া? বড়তো সে হতে পারলো না? আর কতদূর গেলে সে হিমাকে পাবে? সুন্দরী মেয়েদের অনেক প্রশংসা পাবে?
আচ্ছা নারীর শরীর নিয়ে একটু গবেষণা করলে হত না । একটা নারীর সুন্দর হাত দুটি কেটে দেখলে কি পাওয়া যাবে। বুকের স্তন দুটি কাটলে কি পাওয়া যাবে? রক্ত ও মাংস । হিমাওতো তাই। আরণ্যকের কারোর সাথে কথা বলার সময় নেই ।তার ভাবনারও শেষ হল না। এত ভেবেও হিমাকে সে ছোট চোখে ভবেতে পারল না। সাহিত্য চর্চাও করা হল না। আরণ্যক বুকে একটা টানা শ্বাস খেলা করছে। মনে হচ্ছে সমস্ত পৃথিবীর মাঝে সেই সব থেকে ছোট।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:৪৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সরকার বদলায়, স্বাধীনতার ঘোষকও বদলায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০৫


বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৫ বছর আগে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশে অনেক কিছু হয়েছে। সরকার এসেছে, সরকার গেছে, সামরিক শাসন এসেছে, গণতন্ত্র এসেছে, আবার গণতন্ত্রও চলে গেছে। কিন্তু একটা কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৫ ফুলদল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:২৭

প্রকৃতি যখন যন্ত্রণার ভারে নুয়ে পড়ে, সূর্য ক্লান্ত অভিমানে আড়াল করে তার দীপ্ত মুখ। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। শীতের নিঃশব্দ আগ্রাসনে নিস্তব্ধ চারপাশ। জীবনের স্পন্দন নেই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘Why you come here?’ সুবিধামতো পরিচয়ের প্রবাসী

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৬

কারো সঙ্গে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। প্রতিবাদ করার অধিকারও আছে। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা দিয়েই বোঝা যায় প্রতিবাদকারী কে। “Why you come here?” বা “I fuck your country system” কোনো রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রপ্রেমী ও রবীন্দ্রবিরোধী - কারা ভালো লেখে-মন্তব্য করে ব্লগে

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫


আখতারুজ্জামান আজাদ নামে এক লেখকের একটা লেখা দৃষ্টিগোচর হলো কাল। লেখাটা দিয়েই আমার পোস্ট শুরু করব।

স্বল্প-বাংলা-জানা এক জাপানি ভদ্রলোক কোলকাতার এক দাদাকে জিজ্ঞেস করলেন— ‘এই যে আপনারা নামের শেষে দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জানের বদলে জান: ব্যাপারটায় প্রতিহিংসার ফ্লেভার মেশানো

লিখেছেন অপলক , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৩৬

ইসলামে কি বলা আছে সেটা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। দেশের আইনে কি আছে সেটাও না। ইংরেজীতে দুটো শব্দ আছে: Equality (Sameness: সমতা) এবং Equity (Fairness: নায্যতা)।




একটা অপ্রাপ্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×