somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জীবনের খাতা
আমি একজন উন্নয়ন কর্মী। জীবনের খসড়া পৃষ্ঠাগুলি থেকে মূল্যবান বিষয়গুলি আলাদা করে পাকা একটি খাতা তৈরী করার আপ্রাণ চেষ্ঠা থাকবে।

হজ্ব (ভাগ-৩): ইহরাম সংক্রান্তঃ

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বে হজ্ব ফরয হওয়া বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আজ আলোচনা করবো ইহরাম সংক্রান্ত। ইহরাম হজ্বের ফরয বিষয়। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করল, “মুহরিম ব্যক্তি কি ধরনের পোশাক পরিধান করবে? রাসূরুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ী, পাজামা, টুপি ও মোজা পরিধান করবে না। কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি জুতা সংগ্রহ করতে না পারে তবে সে মোজা পরিধান করতে পারবে। এক্ষেত্রে তাকে পায়ের গোছার নীচ থেকে মোজার উপরের অংশ কেটে ফেলতে হবে। আর যে কাপড়ে জাফরান অথবা ওয়ার্স রং লাগানো হয়েছে ইহরামকারীগণ সে কাপড়ও পরিধান করবে না।” হাদিসটি সহীহ্ মুসলিম হাদিস গ্রন্থের কিতাবুল হজ্ব অধ্যাইয়ে উল্লেখ রয়েছে। সহীহ্ বুখারী শেরীফের হজ্ব অধ্যায়ে এ বিষয়ে যে হাদিসটি রয়েছে তা আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুহরিম ব্যক্তি কি প্রকারের কাপড় পরবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- সে জামা, পাগড়ী, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরিধান করবে না। তবে কারো জুতা না থাকলে সে টাখ্‌নুর নিচ পযন্ত মোজা কেটে (জুতার ন্যায়) পরবে। তোমরা জাফরান বা ওয়রস (এক প্রকার খুশবু) রঞ্জিত কোন কাপড় করবে না। আবূ আবদুল্লাহ (র) বলেন, মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধুতে পারবে। চুল আঁচড়াবে না, শরীর চুলকাবে না। মাথা ও শরীর থেকে উকুন যমীনে ফেলে দিবে।”
ইহরামে পুরুষগণ সিলাইবিহীন লুঙ্গী ও চাদর পরিধান করবে, লুঙ্গী ও চাদর সাদা এবং পরিস্কার হওয়া মুসতাহাব। আর মেয়েদের বেলায় যে কোন রংয়ের কাপড় পরিধান পূবক ইহরাম করা বৈধ। উহা কালো, সবুজ অথবা যে কোন রংয়ের হওয়া জায়িয আছে। তবে এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যে, তাদের পোশাক যেন পুরুষদের পোশাকের মত না হয়। ইহরাম করতে হবে মিকাত থেকে বা তার পূর্বে।
ইহরাম করার নিয়মঃ
* পুরুষঃ বগল ও নাভির নীচের লোম পরিস্কার, নখ কাটা, গোসল করা, আন্ডারওয়্যার ও টুপি না পরা, গোড়ালী ঢেকে ফেলে এমন স্যান্ডেল না পড়া অতপর দুই টুকরা সেলাইহীন কাপড় পরিধান (সাদা কাপড় হওয়া বাঞ্চনীয়), মীকাতে পৌঁছলে নিয়্যাত মুখে উচ্চারণ করতে হবে।
* মহিলাঃ আওরাহ (সতর) ঢেকে থাকে এমন সাধারণ সেলাইযুক্ত কাপড় করা, বল ও নাভির নীচের লোম পরিস্কার করা, নখ কাটা, গোসল করা এবং মীকাতে নিয়্যাত মুখে উচ্চারণ করা (ঋতুবতী হলেও)।
উল্লেখ্য, হজ্ব বা ওমরার কার্যাবলী শুরু করার নিয়তকেই ইহরাম বলে। অতএব নিয়্যত ছাড়া কেউ মুহরিম হবে না। নিয়্যতবিহীন ইহরামের কাপড় পরাকে ইহরাম বলা যায় না।
ইহরাম অবস্থায় যা করা নিষেধ:
১। পুরুষগণ সেলাইযুক্ত কাপড় যথা কোর্তা, পায়জামা, টুপি, গেঞ্জি,
আচকান, দস্তানা, ও আন্ডারওয়্যার পরা নিষিদ্ধ।
২। পুরুষগণ মাথা ঢাকবেন না। মনে রাখুন মুখ মাথার অংশ, তাই মুখ
ঢাকাও নিষেধ।
৩। যদিও মহিলাগণ সেলাইযুক্ত কাপড় করতে পারবেন তথাপি হাতে
মোজা ও নিকাব পরা নিষেধ।
৪। গোসলে বা কাপড় কাঁচায় সুগন্ধি সাবান, শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে
না।
৫। চুলকাঁটা, কামানো বা ছিঁড়ে ফেলা নিষেধ।
৬। নখ কাটা বা ছিঁড়ে ফেলা যাবে না।
৭। মাথায় ও দাড়িতে এমন ভাবে হাত বোলানো যাবে না, যাতে চুল
ছিঁড়ে যায় বা পড়ে যায়।
৮। ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থায় ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছায় মাথা ও চেহারা
ঢাকা যাবে না।
৯। কোন প্রকার সুগন্ধি তৈল, আতর, ক্রীম ইত্যাদি ব্যাবহার করা যাবে
না।
১০। এমন জুতা পরিধান করা যাবে না যাতে পায়ের মধ্যবর্তী উঁচু হাড়
ঢাকা পড়ে যায়। (এজন্য দুই ফিতা বিশিষ্ট স্যান্ডেল পরিধান করতে
হবে)
১১। বিয়ে নিজে করা, কাউকে বিয়ে দেয়া কিংবা বিয়ের প্রস্তাব দেয়া যাবে
না।
১২। যৌন আবেগ বা আকাংখা জাগ্রত হয় এমন কোন কাজ-কর্ম করা
যাবে না।
১৩। স্ত্রী মিলন বা বিবাহ সংশ্লিষ্ট যৌন আনন্দ করা যাবে না।
১৪। শিকার করা বা শিকারে জড়িত হওয়া যাবে না।
১৫। ঝগড়া-বিবাদ, বাজে গল্প করা নিষেধ।
১৬। আল্লাহ-দ্রোহী কোন কাজ করা যাবে না।
চলবে.................
হজ্বঃ (ভাগ-১)
হজ্বঃ (ভাগ-২) হজ্বের মাস সুনিদৃষ্ট এবং হজ্বের জন্য তোমরা পাথেয় সঙ্গে নাওঃ
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×