হস্তরেখা ও ভাগ্য - ২ : ১ম পর্ব
(পূর্ব প্রকাশিত পোষ্ট)
মেয়েটির নাম শেফালী। অনিন্দিতাদের পাশের বাসায় থাকতো। নিজেদের বাসা। ওর বাবা ছিলেন সাধারণ একজন কেরানী। শেফালী অনিন্দিতার বাল্যবান্ধবী। অনিন্দিতা আমার প্রেমিকা। স্কুল জীবন থেকে শুরু করে কলেজ জীবন পর্যন্ত শেফালী-অনিন্দিতা দুজনে সহপাঠী। ভার্সিটি এসে ওদের পড়ার বিষয় বদলে যায়। তাই দুজনের ভিন্ন ডিপার্টমেন্ট। অনিন্দিতা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে, শেফালী ভুগোলে। আমি নিজেও তখন ভূগোলের ছাত্র। সেই সুবাদে শেফালী আমার সহপাঠী। সহপাঠী হলেও দুজনের মধ্যে তেমন একটা কথা হতো না। পাড়ার ছেলে হিসেবে হোক বা ব্যবসায়ীর ছেলে হোক একটা সূক্ষ্ণ দূরত্ব ছিল আমাদের মাঝে। হাত দেখার পর সেই দূরত্ব আরো অনেক বেড়েছিল। তাছাড়া চিন্তা, চেতনা, মানসিকতা ও সামাজিকতায় ওরা ছিল ভীষণ রক্ষণশীল। অনিন্দিতার বাবা রাজশাহী শহরের নামজাদা সরকারী উকিল। মস্তবড় বাড়ী। বিলাসবহুল জীবন। কিন্তু বাড়ীর ভিতরের চিত্রটা শেফালীদের মতোই। আগাগোড়া রক্ষণশীলতার খোলসে মোড়া একটা অভিজাত পরিবার।
সেই রক্ষণশীল পরিবারের দুটো মেয়েই কিন্তু সবার অজান্তে দুটো ছেলের প্রেমে পড়েছিল। দীর্ঘকাল লুকিয়ে প্রেম করেছিল। দুজনের প্রেমেরই শেষ পরিণতি ছিল বিয়ে। আর বিয়েটা হয়েছিল নিজেদের পছন্দের মানুষের সাথেই। এদিক থেকে বলা যায় দুজনেই সফল প্রেমিকা। শেফালীর প্রেম ও বিয়ে এক ডাক্তার ছেলের সাথে আর অনিন্দিতার প্রেম ও বিয়ে আমার মতো উড়নচন্ডীর সাথে। শেফালীর প্রেমিক ছিল ওর বড় ভাই নান্নুর বন্ধু। নান্নু ভাই নিজেও ডাক্তার। শেফালীর প্রেমের বিষয়টা শেষ অবদি জানাজানি হবার দুই বন্ধুর বন্ধুত্বে ফাটল ধরেছিল। যা পরে আর কখনো জোড়া লাগেনি। বিয়ের দিন সেই ভাই উপস্থিত ছিলেন না। বোনের অনভিপ্রেত প্রেম পরিবারের অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। অনেক বাঁধা বিপত্তি সত্ত্বেও বিয়েটা শেষ অবদি মা ও অন্য ভাইবোনদের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছিল।
শেফালী আর আমার মধ্যে পড়ালেখা নিয়ে একটা প্রচ্ছন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। কারন আমি যাকে ভালবাসি সে তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। সেই সুবাদে আমাদের সম্পর্কটা আরও মধুর হবার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। তার কারণ দুটো পরিবারই অসম্ভব রকমের গোড়ামিতে ভরা। আর একটা বিশেষ কারণ শেফালীর হাত দেখে আমি কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলাম। যা ওর জীবনে ভাল ফল বয়ে আনেনি। সহপাঠী হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দুজনের মধ্যেকার এই দূরত্ব নিয়ে কারও কোন মাথা ব্যাথা ছিল না। এমনকি অনিন্দিতার সাথেও ভার্সিটিতে আমার তেমন একটা কথা হতো না। দুজনের ডিপার্টমেন্ট দুই প্রান্তে হবার কারনে দেখা সাক্ষাত হতো কম। তাছাড়া রক্ষণশীল মন-মানসিকতার কারণে লোকে কী ভাববে এই মনে করেই কথা বলতাম না। ভার্সিটিতে দেখা হলেও কেউ কাউকে চিনি না এমন ভাব নিয়ে চলতাম। আর যদিও বা কখনো কদাচিত কথা বলার সুযোগ হতো সাথে ওর কোন না কোন বান্ধবী থাকতোই। আর কথা হতো মাত্র ৫/৭ মিনিটের। এর বেশী নয়। অগত্যা চিঠিই ছিল আমাদের সকল আশা ভরষা। তাও আবার যা লেখার আমিই লিখতাম। ওর চিঠি মানেই ছিল নেহায়েত একটা কয়েক লাইনের চিরকুট। তাও আবার নানা রকম উপদেশে ঠাসা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



