হস্তরেখা ও ভাগ্য - ২ : শেষ পর্ব
(পূর্ব প্রকাশিত পোষ্ট)
আমি বলতে শুরু করলাম, "তোমার প্রেম করে বিয়ে হবে। পারিবারিকভাবে যথেষ্ট অমত থাকবে এই বিয়েতে, তবে বিয়েটা হবে শেষ পর্যন্ত। তোমার একটা মাত্র সন্তান যোগ আছে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার যা দেখতে পাচ্ছি তা আমার পক্ষে বলা সম্ভব না। সেটা আমি বলতে চাই না"। শেফালী সবকিছু শোনার জন্য পীড়াপীড়ি করতে লাগলো। কিছুতেই মানলো না। অগত্যা আমি বললাম, "তোমার এই বিয়ে টেকার সম্ভাবনা খুব কম। তোমার হাতে দ্বিতীয়বার বিয়ের যোগ আছে। তবে সেটা অনেক দেরীতে। তোমার জন্য দ্বিতীয় বিয়েও সুখের হবে না, তাই না করাই ভাল"। আরও অনেক কিছু বলেছিলাম। দীর্ঘকাল বাদে সব কথা মনে নেই।
আমার কথা শোনা মাত্রই শেফালী রাগে গড় গড় করতে লাগলো। বললো যত্তো সব গাঁজাখুরী গল্প। কখনো এমন গল্প ফেঁদে মানুষের মন ভেঙ্গে দেবেন না। বান্ধবীর সামনে লজ্জায় আর কিছু বলতে পারছিল না। তবে বুঝতে পারলাম আমাকে যাচ্ছে তাই ভেবে বসে আছে। পারলে আমাকে ওখানেই ধোলাই দেয় এই অবস্থা। আমি ভেবেছিলাম সবকিছু শোনার পর ও হয়তো সবকিছু মিথ্যে ভেবে উড়িয়ে দেবে। কারন পারিবারিক ধারা অনুযায়ী ওর এগুলো বিশ্বাস করার কথা না। কিন্তু যা ভেবেছিলাম তা আর হলো না। উল্টো ফল হলো। আমি সবিনয়ে বললাম, "আমি আমার সব কথা ফিরিয়ে নিচ্ছি। আপনি এগুলো সিরিয়াসলি নেবেন না। হাতের রেখাই কী সব নাকি? আমিতো সবজান্তা কেউ নই। আপনার মতোই একজন"। এসব কথা বলে কোনরকম ক্ষমা চেয়ে নিলাম। কিন্তু ক্ষমা পেয়েছি বলে মনে হয়না। সারাজীবন শেফালীর কাছে আমি একজন অপছণ্দের মানুষ হয়ে রয়ে গেলাম। অনিন্দিতা আমাকে বহুবার জিজ্ঞেস করেছে, তুমি কী সব সত্যি কথা বলেছিলে, নাকি ফাজলামি করেছিলে? ও কিন্তু ফাজলামি একদম সহ্য করতে পারে না। আমি অনিন্দিতার কোন কথার জবাব দেইনি। প্রয়োজন ছিলনা। কারন জীবনে চলার পথ এখনও অনেক বাকি। শেফালীর সাথে দেখা আমার হবেই।
আজ থেকে প্রায় বিশ বছর আগে শেফালী তার ডাক্তার স্বামীর কাছ থেকে ডিভোর্স নিয়েছিল নাকি স্বামী তাকে ডিভোর্স দিয়েছিল জানার আগ্রহ হয়নি। একটা রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকে ভাল পজিশনে এখনো চাকরী করে যাচ্ছে। একমাত্র সন্তান দীর্ঘকাল ধরে মায়ের কাছেই ছিল। মাঝখানে দুই একবার বাবার কাছে গিয়েছিল ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যে। খুব একটা সুবিধে হয়নি। মায়ের কাছেই ফিরে আসতে হয়েছিল। তরুন বয়সে হতাশ হলে যা হয়। ডিসটার্ব ফ্যামিলিতে বড় হলে যা হয়। ছেলে একসময় ড্রাগ ধরেছিল। অনেক কষ্টে ড্রাগ ছাড়িয়ে বিয়ে দিয়ে দিল। ছেলে সংসারী হলো। শেফালীর আগের স্বামী বর্তমানে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। শেফালীর সাথে ডিভোর্স হবার পর এক মহিলাকে বিয়ে করেন। অনেকে বলে শেফালীর সাথে ডিভোর্স হবার বহু আগে থেকেই সেই মহিলার সাথে তার সম্পর্ক। বর্তমানে নিজের গড়া এক আলিশান বাড়ীতে সেই মহিলাকে নিয়ে আছেন। ডিভোর্স দেবার পরেও শেফালীকে অনেকবার শাসিয়েছে যেন দ্বিতীয় বিয়ে না করে। তাহলে সে একহাত দেখে নেবে। কিন্তু তার সেই হুমকি শেফালীর দ্বিতীয় বিয়ে আটকাতে পারেনি।
প্রায় ৭/৮ বছর কিংবা তারো বেশী সময় আগে শেফালী এক বিবাহিত ভদ্রলোককে বিয়ে করে। ভদ্রলোক নিজেও একজন ব্যাংকার। তার আগের পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়েই থাকেন বেশীরভাগ সময়। শেফালী একবার দুদিনের জন্য আমার বাসায় বেড়াতে এসেছিল সেই ভদ্রলোককে নিয়ে। সংসারটা কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে টিকিয়ে রেখেছে। ভদ্রলোক বেশ চাপের মধ্যে আছেন। শেফালীকে তেমন একটা সময় দিতে পারেন না আবার আগের পক্ষের স্ত্রী-সন্তানদের ছেড়ে আসতেও পারেন না। বছর দুয়েক হলো তারা দুজনে দুই শহরের বাসিন্দা। ভদ্রলোক ঢাকার একটা প্রাইভেট ব্যাংকে, শেফালী রাজশাহীতে। শেফালী ইচ্ছে করেই নিজ শহরে পোষ্টিং নিয়েছে। মা-ভাই-বোনদের কাছাকাছি থেকেও মনের একটা দূরত্ব রয়েই গেছে। বাল্য বান্ধবী অনিন্দিতার সাথে শেফালীর যোগাযোগটা এখনো আছে। ঢাকায় কোন কাজে এলে দেখা করে যায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



