somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাবীদের মধ্যে কাউকে শ্রেষ্ঠ বলা যাবে না

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাসূল (দ.) বলেন,
“তোমরা নাবীদের মাঝে কাউকে শ্রেষ্ঠত্ব দিও না।” (বুখারী তা.পা. হা. ৬৯১৬, আ.প্র. হা. ৬৪৩৬, ই.ফা. হা. ৬৪৪৮, মুসলিম, আ.হা.লা. ৬০৫০, ই.ফা.বা. ৫৯৪১, ই.সে. ৫৯৮০, আবু দাউদ, সহীহ্, হু.মা. ৪৬৬৮)এই হাদীসটি স্পষ্ট ঘোষণা করছে যে, নাবীদের মাঝে কাউকে কারোর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া নিষেধ।
এই বিষয়টি আরো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে জনৈক আনসার সাহাবী এবং এক ইয়াহুদীর ঘট
নাকে কেন্দ্র করে। ঘটনাটি হলো আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত-

“তিনি বলেন একবার রাসূলুল্লাহ্ (দ.) উপবিষ্ট ছিলেন এমন সময় এক ইয়াহুদি এসে বলল, হে আবুল ক্বাসেম! আপনার এক সাহাবী আমার মুখে আঘাত করেছে। তিনি (দ.) জিজ্ঞেস করলেন কে? সে বলল একজন আনসার। তিনি (দ.) বললেন তাকে ডাকো। তিনি (দ.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন তুমি ওকে মেরেছ? তিনি (রা.) বললেন আমি তাকে বাজারে শপথ করে বলতে শুনেছি, যিনি মুসা (আ.)-কে সকল মানুষের উপর মর্যাদা দিয়েছেন। আমি বললাম হে খাবীস্ মুহাম্মাদ (স.) এর উপরেও কি? এতে আমার রাগ এসে গিয়েছিল তাই আমি তার মুখের উপর আঘাত করি। নাবী (স.) বললেন “তোমরা নাবীদের মাঝে কাউকে শ্রেষ্ঠত্ব দিও না...” (বুখারী তা.পা. হা. ২৪১১, ২৪১২, ৬৯১৭, আ.প্র. ২২৩৪, ২২৩৫, ই.ফা. ২২৫১, ২২৫২, মুসলিম আহলে হাদীস লাইব্রেরী, ২৩৭৩, ২৩৭৪।

এই হাদীসটি স্পষ্ট বলছে যে, রাসূল (স.) এর একজন সাহাবী রাসূল (দ.) কে মুসা (আ.) এর উপর মর্যাদা দিয়েছিলো। আর রাসূল (দ.) জনৈক ঐ আনসার সাহাবীর বিশ্বাস ঠিক নয় তা প্রমাণ করলেন খুব সুন্দরভাবে। তিনি বুঝালেন শুধু মুসা নয় কোন নাবীকেই কোন নাবীর উপর মর্যাদা দেয়া যাবে না।

রাসূল (স.) সর্বশ্রেষ্ঠ নাবী নন যা তিনি (দ.)
নিজেই বুঝিয়ে গিয়েছেন।
রাসূল (দ.) বলেন,

“তোমাদের কেউ যেন না বলে আমি (মুহাম্মাদ (দ.) ইউনুস (আ.) থেকে শ্রেষ্ঠ।” (বুখারী তা.পা. হা. ৩৩৯৫, ৩৪১২, ৩৪১৩, ৩৪১৫, ৩৪১৬, ৪৬০৩, ৪৬৩০, ৪৬৩১, ৪৮০৪, আ.প্র. হা. ৩১৬১, ৩১৬২, ৩১৬৪, ৪২৪২, ৪৪৪০, ৪২৬৯, ৪২৭০ ই.ফা. হা. ৩১৭০, ৩১৭১, ৩১৭৩, ৪২৪৫, ৪২৭২, ৪২৭৩, ৪৪৪১ মুসলিম, আহলে হাদীস লাইব্রেরী, হা. ২৩৭৬, ৬০৫৪, ই.ফা.বা. ৫৯৪৫, ই.সে. ৫৯৮৪, আবু দাউদ, সহীহ, হু.মা. ৪৬৭১।

রসূলুল্লাহ্ (দ.) বলেছেন,

“যে ব্যক্তি বলে আমি ইউনুস ইবনে মাত্তার থেকে উত্তম সে অবশ্যই মিথ্যা বলেছে।” (বুখারী তা.পা.হা. ৪৬০৪, ৪৮০৫, আ.প্র. হা. ৪২৪৩, ৪৪৪১, ই.ফা. হা. ৪২৪৬, ৪৪৪২)

রাসূল (দ.) বলেন,

“আমাকে তোমরা মুসা (আ.) এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না...।” (বুখারী তা.পা. হা. ২৪১১, আ.প্র. ২২৩৪, ই.ফা. ২২৫১, মুসলিম, আহলে হাদীস লাইব্রেরী হা. ২৩৭৩, ৬০৪৭, ই.ফা.বা. ৫৯৩৮, ই.সে. ৫৯৭৭)

রসূলুল্লাহ্ (দ.) বলেছেন,

“আল্লাহ্ তাবারকা ওয়াতায়ালা বলেছেন,

“আমার কোনো বান্দার ক্ষেত্রে একথা বলা উচিৎ নয় যে, আমি ইউনুস ইবনে মাত্তার থেকে উত্তম।” (মুসলিম, আ.হা.লা. ৬০৫৩, ই.ফা.বা. ৫৯৪৪, ই.সে. ৫৯৮৩।রসূলুল্লাহ্ (দ.) বলেছেন,

“তোমরা আমাকে কোনো নাবীর থেকে উত্তম বলোনা।” (বুখারী, তা.পা. ৪৬৩৮, ই.ফা.বা. ৪২৮০, আ.প্র. ৪২৭৭)রাসূল (দ.) যদি সর্বশ্রেষ্ঠ নাবী হতেন তাহলে তিনি কেন বললেন যে, “আমাকে ইউনুস (আ.) ও মুসা (আ.) এর উপর মর্যাদা দিও না। তবে আমরা একথাও বলিনা যে, মুহাম্মাদ (দ.) তাদের বা অন্য সকল নাবী এবং রাসূলদের থেকে তিনি (দ.) কম উত্তম। বরং আমরা বলি প্রত্যেক নাবী এবং রাসূল সমান মর্যাদার অধিকারী, যা রাসূল (দ.) তিনি নিজেই আমাদেরকে শিখিয়েছেন। 

কোনো নাবীর-ই নিজেকে ইউনুস (আ.) এর
উপরে মর্যাদা দেয়া জায়েয নয়

“কোনো নাবীর-ই একথা বলা উচিৎ নয় যে, আমি ইউনুস ইবনে মাত্তার চেয়ে উত্তম।” (আবু দাউদ, সহীহ্, হু.মা. ৪৬৭২)।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:৫২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×