রাসূল (দ.) বলেন,
“তোমরা নাবীদের মাঝে কাউকে শ্রেষ্ঠত্ব দিও না।” (বুখারী তা.পা. হা. ৬৯১৬, আ.প্র. হা. ৬৪৩৬, ই.ফা. হা. ৬৪৪৮, মুসলিম, আ.হা.লা. ৬০৫০, ই.ফা.বা. ৫৯৪১, ই.সে. ৫৯৮০, আবু দাউদ, সহীহ্, হু.মা. ৪৬৬৮)এই হাদীসটি স্পষ্ট ঘোষণা করছে যে, নাবীদের মাঝে কাউকে কারোর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া নিষেধ।
এই বিষয়টি আরো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে জনৈক আনসার সাহাবী এবং এক ইয়াহুদীর ঘট
নাকে কেন্দ্র করে। ঘটনাটি হলো আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত-
“তিনি বলেন একবার রাসূলুল্লাহ্ (দ.) উপবিষ্ট ছিলেন এমন সময় এক ইয়াহুদি এসে বলল, হে আবুল ক্বাসেম! আপনার এক সাহাবী আমার মুখে আঘাত করেছে। তিনি (দ.) জিজ্ঞেস করলেন কে? সে বলল একজন আনসার। তিনি (দ.) বললেন তাকে ডাকো। তিনি (দ.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন তুমি ওকে মেরেছ? তিনি (রা.) বললেন আমি তাকে বাজারে শপথ করে বলতে শুনেছি, যিনি মুসা (আ.)-কে সকল মানুষের উপর মর্যাদা দিয়েছেন। আমি বললাম হে খাবীস্ মুহাম্মাদ (স.) এর উপরেও কি? এতে আমার রাগ এসে গিয়েছিল তাই আমি তার মুখের উপর আঘাত করি। নাবী (স.) বললেন “তোমরা নাবীদের মাঝে কাউকে শ্রেষ্ঠত্ব দিও না...” (বুখারী তা.পা. হা. ২৪১১, ২৪১২, ৬৯১৭, আ.প্র. ২২৩৪, ২২৩৫, ই.ফা. ২২৫১, ২২৫২, মুসলিম আহলে হাদীস লাইব্রেরী, ২৩৭৩, ২৩৭৪।
এই হাদীসটি স্পষ্ট বলছে যে, রাসূল (স.) এর একজন সাহাবী রাসূল (দ.) কে মুসা (আ.) এর উপর মর্যাদা দিয়েছিলো। আর রাসূল (দ.) জনৈক ঐ আনসার সাহাবীর বিশ্বাস ঠিক নয় তা প্রমাণ করলেন খুব সুন্দরভাবে। তিনি বুঝালেন শুধু মুসা নয় কোন নাবীকেই কোন নাবীর উপর মর্যাদা দেয়া যাবে না।
রাসূল (স.) সর্বশ্রেষ্ঠ নাবী নন যা তিনি (দ.)
নিজেই বুঝিয়ে গিয়েছেন।
রাসূল (দ.) বলেন,
“তোমাদের কেউ যেন না বলে আমি (মুহাম্মাদ (দ.) ইউনুস (আ.) থেকে শ্রেষ্ঠ।” (বুখারী তা.পা. হা. ৩৩৯৫, ৩৪১২, ৩৪১৩, ৩৪১৫, ৩৪১৬, ৪৬০৩, ৪৬৩০, ৪৬৩১, ৪৮০৪, আ.প্র. হা. ৩১৬১, ৩১৬২, ৩১৬৪, ৪২৪২, ৪৪৪০, ৪২৬৯, ৪২৭০ ই.ফা. হা. ৩১৭০, ৩১৭১, ৩১৭৩, ৪২৪৫, ৪২৭২, ৪২৭৩, ৪৪৪১ মুসলিম, আহলে হাদীস লাইব্রেরী, হা. ২৩৭৬, ৬০৫৪, ই.ফা.বা. ৫৯৪৫, ই.সে. ৫৯৮৪, আবু দাউদ, সহীহ, হু.মা. ৪৬৭১।
রসূলুল্লাহ্ (দ.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি বলে আমি ইউনুস ইবনে মাত্তার থেকে উত্তম সে অবশ্যই মিথ্যা বলেছে।” (বুখারী তা.পা.হা. ৪৬০৪, ৪৮০৫, আ.প্র. হা. ৪২৪৩, ৪৪৪১, ই.ফা. হা. ৪২৪৬, ৪৪৪২)
রাসূল (দ.) বলেন,
“আমাকে তোমরা মুসা (আ.) এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না...।” (বুখারী তা.পা. হা. ২৪১১, আ.প্র. ২২৩৪, ই.ফা. ২২৫১, মুসলিম, আহলে হাদীস লাইব্রেরী হা. ২৩৭৩, ৬০৪৭, ই.ফা.বা. ৫৯৩৮, ই.সে. ৫৯৭৭)
রসূলুল্লাহ্ (দ.) বলেছেন,
“আল্লাহ্ তাবারকা ওয়াতায়ালা বলেছেন,
“আমার কোনো বান্দার ক্ষেত্রে একথা বলা উচিৎ নয় যে, আমি ইউনুস ইবনে মাত্তার থেকে উত্তম।” (মুসলিম, আ.হা.লা. ৬০৫৩, ই.ফা.বা. ৫৯৪৪, ই.সে. ৫৯৮৩।রসূলুল্লাহ্ (দ.) বলেছেন,
“তোমরা আমাকে কোনো নাবীর থেকে উত্তম বলোনা।” (বুখারী, তা.পা. ৪৬৩৮, ই.ফা.বা. ৪২৮০, আ.প্র. ৪২৭৭)রাসূল (দ.) যদি সর্বশ্রেষ্ঠ নাবী হতেন তাহলে তিনি কেন বললেন যে, “আমাকে ইউনুস (আ.) ও মুসা (আ.) এর উপর মর্যাদা দিও না। তবে আমরা একথাও বলিনা যে, মুহাম্মাদ (দ.) তাদের বা অন্য সকল নাবী এবং রাসূলদের থেকে তিনি (দ.) কম উত্তম। বরং আমরা বলি প্রত্যেক নাবী এবং রাসূল সমান মর্যাদার অধিকারী, যা রাসূল (দ.) তিনি নিজেই আমাদেরকে শিখিয়েছেন।
কোনো নাবীর-ই নিজেকে ইউনুস (আ.) এর
উপরে মর্যাদা দেয়া জায়েয নয়
“কোনো নাবীর-ই একথা বলা উচিৎ নয় যে, আমি ইউনুস ইবনে মাত্তার চেয়ে উত্তম।” (আবু দাউদ, সহীহ্, হু.মা. ৪৬৭২)।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

