somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্থিতি স্থাপক

০৩ রা মার্চ, ২০১৫ দুপুর ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্থিতি স্থাপক
*****
(অযৌক্তিক কিছু চেয়ে চেয়ে না-পেয়ে কেউ যদি উন্মাদের মতো আচরণের মাধ্যমে নিজেকে হাস্যকর কিছু একটা বানানোতে আনন্দ পায়, সেটা তার একান্তই ব্যক্তিক অধিকার হিসেবেই গণ্য, যার সাথে অন্য কারোই কোনো সম্পর্ক নেই। তার দিকে মনোযোগী হ’য়ে তাকাতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই।)
---------------------------------------------------------------------------------------------
কখনো আমি যদি আমার ওপর হাতেগোণা কয়েকটা সন্ত্রাসীর সুসংগঠিত আক্রমণকে আমার দোষের শাস্তি হিসেবে স্বীকার করতে না-চাই, তাহলে আমার জন্যে স্মরণীয়, কিছুকাল আগে সমাজের ঐ কয়েকটা কুলাঙ্গার যখন আমার নীরবতার প্রশ্রয়েই আমার রেষারেষি সম্পর্কের প্রতিবেশীর উপর আক্রমণ চালাচ্ছিল, তখন না-দেখার ভান ক’রে আমার দায়িত্ব এড়িয়ে আমি তৃপ্তিভরে প্রতিবেশীর দুর্দশা উপভোগ করছিলাম এবং সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে স’রে গেলে পরে সামাজিক সৌজন্যতার লোকদেখানো সহানুভুতি, কপট সমবেদনা প্রদর্শন, এমনকী লৌকিকতা দেখাতে ঐ সন্ত্রাসীদের ধ্বংস কামনাকরার মাধ্যমে বুলিসর্বস্ব সান্ত্বনার প্রলেপের ফাঁকে ফাঁকে আহত প্রতিবেশীকে তার অসাবধানতার জন্যে খোঁচা দিতেও কার্পণ্য করিনি, যদিও আমি জানতাম যে, ‘এই ধরো, পালাতে দিয়ো না’ ব'লে হুঙ্কার ছেড়ে মহল্লাবাসীদেরকে জড়ো করলে, ঐ কয়েকটা কুলাঙ্গার দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্যতায় ছুটে পালিয়ে বাঁচতো।--

সুযোগ পেয়েও যদি সন্ত্রাসজীবীরা তাদের ধ্বংসাত্মক নৃশংস প্রাণঘাতী কীর্তিকলাপ না-চালায়, তাহলে তো তারা তাদের স্বভাবের সাথে, নিজেদের সন্ত্রাস-ধর্মের সাথে মোনাফেকি বা প্রতারণা করছে হিসেবেই গণ্য হবে এবং বিচার-কালে প্রতারক বা মোনাফিকদের সাড়িতে দাঁড়িয়ে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি হ’তে হবে। তবে, সন্ত্রাসজীবীরা তাদের স্বাভাবিক ধর্মাচার হিসেবে যখন আতঙ্কবাজি নৃশংসতা প্রদর্শন করে, তখন তাদেরকে কর্তব্যে ফাঁকিবাজ বলাটা বৈধ নয় এবং তখন তাদেরকে প্রতারক পাপী বা নরকবাসী মোনাফিকদের দলভুক্ত রূপেও ভাবাটা কোনো বিবেচকের যুক্তিতে উচিত নয়, কিম্বা জ্ঞানীদের জন্যে শোভনীয় নয়।

############################################################

ধার্মিক, আত্মপ্রতারিত এবং প্রতারক প্রসঙ্গে
---------------------------------------------------
কোনো পেশাদার খুনী যদি মজুরি না-নিয়ে এমনিতেই খুন করে, এটা তার ধর্মের সাথে বিরোধিতা হিসেবেই গণ্য হবে। চোর হিসেবে পরিচিত কোনো ব্যক্তি যদি চুরি না-করে তো তাকে আমরা কখনোই ধার্মিক বলতে পারি না। স্বাভাবিক ভাবেই সাধারণত কোনো হায়েনাতে আমরা ক্যাঙ্গারুর সার্বিক আচরণের প্রকাশকে সহজে মেনে নিতে পারি না।

দই ভেবে যদি আমি চুন খেয়ে মুখ পুড়ে ফেলি, তাহলে বলা যাবে আমি আত্মপ্রতারিত। দই বা চুন, কোনোটাকেই এখানে প্রতারক বলা যাচ্ছে না।

যেকোনোভাবে আত্মপ্রতারিত কোনো ব্যক্তির বিচারকালে আমরা তাকে অজ্ঞ, আহাম্মক কিম্বা বিভ্রান্ত হিসেবে বিবেচনায় নিতে পারি, কিন্তু কোনোভাবেই তাকে প্রতারকদের তালিকাভুক্ত করতে পারি না। তবে, আমি চাইলে প্রতারকও হ’তে পারি। যেমন, অন্যেরা যেন আত্মপ্রতারিত হয়- এই উদ্দেশ্যে, আমি যেখানে যেমনটা নই, আমার আচরণে সেখানে যদি স্বেচ্ছায় চেষ্টা চালিয়ে তেমনটা প্রকাশ করি, নিশ্চয়ই তখন আমি প্রতারক। আমি যদি কোথাও নিজের বরাদ্দে চরমতম শাস্তিটাকেই নিতে চাই, প্রতারক হওয়ার মাধ্যমেই আমি তা’ নিতে পারি সবচে’ বেশি সহজে।

############################################################

দলোগণের ধর্মীয় কর্ম
*****
(আমার প্রতি আমাদের রাষ্ট্রটা যদি বিশ্বাস হারায়, ওতে আমার বড় কোনো ক্ষতি নেই, কিন্তু সাধারণ একজন বাসিন্দা আমি যদি আমার নিরাপত্তায় রাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখতে না-পারি, স্বর্গীয় কোনো ভূখণ্ডেও রাষ্ট্রের ভিত তাতে নড়বড়ে হ’য়ে যায়,- এতটুকুও ভুলে গিয়ে যদি আমাদের প্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা কিম্বা শিথিলতা দেখায়, তাদেরকে মাঝে মধ্যে ভদ্রজনোচিত ভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়াটা তখন আমাদের স্বার্থেই আমাদের নিয়মিত করণীয় কর্তব্য।)
---------------------------------------------------------
দলোগণ তাদের নিজ নিজ দলীয় কৌশলকে সততা এবং দৃঢ়তার সাথে অনড়ভাবে আঁকড়ে ধ’রে থাকতেই পারে। আত্মরক্ষার স্বার্থে জাগ্রত জনগণের কাছে আশ্রয় পাবার লক্ষ্যে তাদের কোনো ধরণের কৌশলে, মিথ্যাচারে কিম্বা জনপদে দলীয়দের কোনো বক্তব্যে বা প্রকাশভঙ্গীতে কোনো পাপ নেই। এমনকী জনস্বার্থের নাম ভাঙিয়ে দলের স্বার্থকে সুরক্ষার লক্ষ্যে ঘুমন্ত বা তন্দ্রাচ্ছন্ন জনসাধারণকে কলা দেখানোটাও দলোগণের কর্তব্য হিসেবে গণ্য। যেকোনো ভাবে জনগণকে সন্তুষ্ট রাখাটাই দলোগণের ধর্মীয় কর্ম। কোনো ভূখণ্ডে, গণতন্ত্রে, গণদেবতাকে তুষ্ট রাখতে দলোগণ এজন্যেই বাধ্য যে, জনগণ কখনো ক্ষেপে উঠলে পরে গণরোষের ধ্বংসলীলা থামানোর জন্যে কিম্বা নিরীহ নিরস্ত্র গণ-আক্রোশের নিশানার দলোগণকে রক্ষা করার জন্যে উদ্ধারকারী রূপে কোনো ঐশ্বরিক সাহায্য তখন ঐ ভূখণ্ডে প্রবেশ করে না।

############################################################

প্রকৃতির সাধারণ বিধানে অলৌকিকতা
---------------------------------------------------
সন্ত্রাসীদের ধর্মটি যেমন, সুযোগ পেলেই, চোরাগোপ্তা ভাবে মানব-সমাজের ওপর নৃশংস আঘাত হেনে হেনে, নিজেদের কৃতিত্ব দেখানো এবং জনমনে অতর্কিত আক্রমণের আতঙ্ক ছড়ানো, -তেমনি, যেকোনো ভাবে সন্ত্রাসকে উচ্ছেদ ক’রে গণমানবের জন্যে সন্ত্রাসমুক্ত সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণের চেষ্টা চালানোটা রাষ্ট্রের অবশ্য-পালনীয় ধর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম।

রাষ্ট্রের ধর্ম পালনে রাষ্ট্র কোনো ধরণের দুর্বলতা বা নমনীয়তা দেখালে পরে কোথাও সন্ত্রাসীরা যদি সন্ত্রাসীদের ধর্ম পালনে উৎসাহিত হ’য়ে ওঠে, সেখানে সন্ত্রাসীদের নৃশংসতার পরিণতির দায়ভার রাষ্ট্রের ওপরেই চাপে। আর ঐ পরিস্থিতির দুর্ভোগ, রাজতন্ত্রে, যেমন রাজাকে ভোগ ক’রে যেতেই হয়, -গণতন্ত্রে, ভুক্তভোগী হয় জনগণ; এমনটাই প্রকৃতির সাধারণ বিধান।

(বিধানের আশ্রয়ে থেকেও বিধানকে অস্বীকার করা কিম্বা বিধানকে না-মেনে নিজের মতো চলাকে মানব-সমাজে ধর্মদ্রোহিতা হিসেবে ধরা হয়। বিধানের বিরোধিতার ভাবধারায় স্বভাব-চালিতরাই ধর্মের বিরুদ্ধাচারী।)

বিধানের স্বাভাবিকতার বাইরে কিছু একটা ঘটলে পরে, সেটাকে অলৌকিক নিদর্শন রূপেই সাধারণ্যে বিবেচিত হ’তে দেখেছে দর্শকেরা, দেখেছে দৃশ্যকালে।


দর্শক : আখতার২৩৯
সন্ত্রাসীদের কোনো সীমানাবদ্ধ ভূখণ্ড বা রাষ্ট্র নেই
সন্ত্রাস এবং .....
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×